জলবায়ু পরিবর্তনে সারা দেশে তাপমাত্রা বৃদ্ধিতে জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। তীব্র গরমে মানুষের হাঁসফাঁস অবস্থা। ঠিক তখন চট্টগ্রামের আনোয়ারায় চলছে খালখননের নামে নির্বিচারে হাজার হাজার গাছ নিধন। ইতোমধ্যে নানা প্রজাতির পাঁচ হাজারের বেশি গাছ কেটে ফেলা হয়েছে। খালখনন পুরোপুরি শেষ হতে আরো পাঁচ হাজার গাছ কাটা পড়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। এ তথ্য জানা গেছে, একটি সহযোগী দৈনিকের আনোয়ারা (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতার প্রকাশিত এক প্রতিবেদন থেকে।
চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের ভূ-উপরিস্থ পানির মাধ্যমে সেচ উন্নয়ন প্রকল্পের অংশ হিসেবে এসব খাল পুনর্খনন করছে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি)। এতে প্রাকৃতিক বিপর্যয়সহ জনস্বাস্থ্য হুমকিতে পড়বে বলে আশঙ্কা করছেন জনসাধারণ ও পরিবেশবিদরা।
বিএডিসি সূত্রে জানা গেছে, আনোয়ারা উপজেলা দিয়ে প্রবাহিত চারটি খালের নাব্যতা ফেরাতে খাল পুনর্খননের উদ্যোগ নিয়েছে বিএডিসি। ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে দেড় কোটি টাকা ব্যয়ে উপজেলার শাহ মোহছেন আউলিয়া খালের ছয় কিলোমিটার, বৈরিয়া খালের পাঁচ কিলোমিটার, কুদালা চার কিলোমিটার ও গোবাদিয়া খালের তিন কিলোমিটারের খননকাজ চলছে। এসব খাল ৩০ ফুট চওড়া ও পৌনে পাঁচ ফুট গভীর করে খনন করা হবে। পর্যায়ক্রমে এসব খালের ৪০ কিলোমিটার এলাকা পুনর্খননের কথা রয়েছে।
শাহ মোহছেন আউলিয়া খাল ও বৈরিয়া খাল খননে বিএডিসির নিয়োজিত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এক্সক্যাভ্যাটর মেশিন দিয়ে খননের কাজ করছে। কিন্তু এক্সক্যাভ্যাটর মেশিন চলাচলে খালের দুই পাশের হাজার হাজার গাছ উপড়ে ফেলা হয়েছে। কিছু স্থানে গাছের মালিকরা নিজ খরচে গাছ কেটে ঘরে নিয়ে যাচ্ছেন; আবার অনেকে স্থানীয় স মিলে বিক্রি করে দিয়েছেন।
বটতলী ইউনিয়নের আইড়মঙ্গল গ্রামের এক বাসিন্দার অভিযোগ, মোহছেন আউলিয়া খালের পাশে তার ৩০টির বেশি বিভিন্ন প্রজাতির গাছ ছিল। এক্সক্যাভ্যাটর দিয়ে গাছগুলো ঠিকাদারের লোকজন উপড়ে ফেলেছে। শুধু এক্সক্যাভ্যাটর চলাচলের সুবিধার্থে গাছগুলো কাটা হচ্ছে। অথচ গাছ রেখে কোদাল দিয়ে খাল খনন করা সম্ভব। কিন্তু তারা তা করছেন না। খাল খননে ১০ হাজারের বেশি গাছ কাটতে হবে। ইতোমধ্যে পাঁচ হাজারের বেশি গাছ কাটা পড়েছে। স্থানীয়রা জানান, খালখননে দুই পাশের হাজার হাজার গাছ কাটা হচ্ছে। মোহছেন আউলিয়া খালের পাশে শত বছরের শিরীষ গাছ উপড়ে ফেলা হয়েছে।
পরিবেশ অধিদফতর চট্টগ্রামের উপপরিচালক বলেন, ‘বিষয়টি আমার জানা নেই। ওই প্রকল্পে গাছ কাটা নিয়ে পরিবেশ অধিদফতরের ছাড়পত্র আছে কি না খোঁজ নিয়ে দেখব।’
পরিবেশের ক্ষতি করে উন্নয়নকাজ করা যাবে না। পরিবেশ রক্ষা করে কিভাবে উন্নয়নমূলক কাজ করা যায় সেদিকে সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের মনোযোগী হতে হবে। দেশব্যাপী যখন পরিবেশ রক্ষায় আন্দোলন হচ্ছে তখন চট্টগ্রামের আনোয়ারায় গাছ কেটে খাল পুনর্খননের কাজ গ্রহণযোগ্য নয়। আমরা মনে করি, আনোয়ারায় সেচ উন্নয়ন প্রকল্পে খাল পুনর্খননের যে উদ্যোগ তা সেখানকার গাছ রক্ষা করে বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্টরা সচেষ্ট হবেন।