নাটোরের বাগাতিপাড়ার পাঁচটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রায় অর্ধশত এমপিওভুক্ত কারিগরি শিক্ষক-কর্মচারী তিন মাস ধরে বেতন-ভাতা পাচ্ছেন না। একটি সহযোগী দৈনিকের বাগাতিপাড়া (নাটোর) সংবাদদাতার খবর অনুযায়ী, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদফতর থেকে কারিগরি অধিদফতরে স্থানান্তর সম্পর্কিত জটিলতায় এ সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে। অধিদফতর থেকে ইএফটির (ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার) মাধ্যমে তারা ডিসেম্বর মাসের বেতন পেলেও জানুয়ারি মাস থেকে কোনো বেতনভাতা পাননি। ফলে পরিবার-পরিজন নিয়ে মানবেতর দিন কাটাচ্ছেন এসব শিক্ষক-কর্মচারী।
এসব শিক্ষক-কর্মচারীর ঈদুল ফিতর কেটেছে হতাশায়। এখন ঈদুল আজহার আগেও তাদের বেতন-ভাতা পাওয়া নিয়ে বড় সংশয় দেখা দিয়েছে। ভুক্তভোগী শিক্ষকরা জানান, ২০১০ সালের আগে নিয়োগপ্রাপ্ত কারিগরি এসব শিক্ষক-কর্মচারী মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা (মাউশি) অধিদফতরের মাধ্যমে এমপিওভুক্ত হয়ে ওই অধিদফতরের অধীনে বেতন-ভাতা পান। পরে কারিগরি অধিদফতর আলাদা করা হলে মাউশি থেকে কারিগরি শিক্ষক-কর্মচারীদের কারিগরি অধিদফতরে স্থানান্তরের নির্দেশনা দেয়া হয়। নানা জটিলতার স্থানান্তর প্রক্রিয়ায় আটকে গিয়ে কারিগরি এসব শিক্ষক-কর্মচারী মাউশির অধীনেই দীর্ঘদিন ধরে বেতন-ভাতা পেয়ে আসছেন। সম্প্রতি ইএফটির মাধ্যমে মাউশি থেকে ডিসেম্বর মাসের বেতন তারা পেয়েছেন। হঠাৎ করেই জানুয়ারি মাসের ইএফটি তালিকায় তাদের নাম না দেখে শিক্ষক-কর্মচারীরা হতবাক হন। বিষয়টি নিয়ে প্রতিষ্ঠান প্রধানরা দফতরে দফতরে ঘুরেও সমাধান পাচ্ছেন না। এদিকে ঈদের আগে ইএফটি জটিলতায় আটকে থাকা প্রায় সব শিক্ষক-কর্মচারীর বেতন-ভাতাদি দেয়া হয়েছে। কিন্তু ভুক্তভোগী এসব কারিগরি শিক্ষকদের বেতন-ভাতা, এমনকি উৎসব ভাতাও দেয়া হয়নি। তারা আরো জানান, সারা দেশে ৬৩ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রায় ছয় শতাধিক শিক্ষক-কর্মচারী এমন জটিলতায় তিন মাস ধরে বেতন পাচ্ছেন না। এর মধ্যে বাগাতিপাড়া উপজেলার পাঁচটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রায় অর্ধশত শিক্ষক-কর্মচারী এমন সমস্যায় রয়েছেন।
ভুক্তভোগী শিক্ষকরা আরো জানান, প্রায় সাড়ে তিন মাস ধরে বেতন পাচ্ছেন না। পরিবার-পরিজন নিয়ে মানবেতর দিন কাটাচ্ছেন। এ বিষয়ে তিথলিয়া উচ্চবিদ্যালয় অ্যান্ড টেকনিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ নেকবর হোসেন বলেন, ইএফটির মাধ্যমে শিক্ষক-কর্মচারীরা ডিসেম্বর মাসের বেতন পেয়েছেন। এরপর জানুয়ারি থেকে মার্চ মাসের বেতন তারা পাননি। সারা দেশে ৬৩ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রায় ছয় শতাধিক শিক্ষক-কর্মচারীর বেতন বন্ধ রয়েছে। তিনি দ্রুত এ সমস্যার সমাধানের দাবি জানান।
শিক্ষকরা মানুষ গড়ার কারিগর। কারিগররা যদি নিরুদ্বেগে থাকতে না পারেন তাহলে শিক্ষার্থীদের মানুষ করার দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করবেন কিভাবে। শিক্ষক-কর্মচারীরা অভুক্ত থাকলে জাতির মেরুদণ্ড গড়বে কে? তাদেরকে অভুক্ত রাখা যাবে না। সবার আগে জাতিগঠনের কারিগরদের চাহিদা পূরণ করতে হবে।
কারিগরি শাখার শিক্ষকরা মাসের পর মাস বিনা বেতনে কাজ করতে বাধ্য হচ্ছেন। এটি স্বাভাবিক নয়, আকাক্সিক্ষতও নয়। যত দ্রুত সম্ভব এ সমস্যার সমাধানের জন্য আমরা সরকারের সুদৃষ্টি আকর্ষণ করছি। দেশের কোথাও যেন এ সমস্যা না থাকে, সেদিকে সরকারের আশু দৃষ্টি দেয়া দরকার। শিক্ষক-কর্মচারীরা যাতে নির্ঝঞ্ঝাটে সময়মতো বেতন-ভাতা পান সে ব্যবস্থা করতে হবে।
আমাদের ভবিষ্যৎ নাগরিকদের জীবন গড়ার বিষয় নিয়ে ন্যূনতম অবহেলা অনিয়ম চলতে দেয়া উচিত নয়।