একটি সহযোগী দৈনিকের নেছারাবাদ (পিরোজপুর) সংবাদদাতা জানান, নেছারাবাদে দু’টি ইউনিয়নের ১২টি গ্রামের লক্ষাধিক মানুষের স্বপ্ন আরসিসি গার্ডার ব্রিজের দাবি গত ৩৬ বছরেও বাস্তবায়ন হয়নি। এতে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন সন্ধ্যা নদী চরখালের দুই পারের মানুষ। স্থায়ী সেতুর অভাবে পিরোজপুর সদরসহ মিয়ারহাট, ইন্দুরহাট, স্বরূপকাঠি ও নাজিরপুরসহ কয়েকটি উপজেলার লাখ লাখ মনুষ চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন।
পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলার সারেংকাঠি ও দৈহারী ইউনিয়নের উত্তর করফা ও কলবাড়ি নামক এলাকায় সন্ধ্যা নদী চরখালে আরসিসি গার্ডার ব্রিজ না থাকায় প্রতিদিন দুই পাড়ের ১২ গ্রামের পথযাত্রী, ব্যবসায়ী ও কয়েকটি বিদ্যালয়ের শতাধিক ছাত্রছাত্রী সড়কপথে চরম দুর্ভোগ পড়েন।
প্রায় সাড়ে তিন শ’ বছর আগে নাব্যতা হারিয়ে প্রাকৃতিকভাবে সন্ধ্যা নদীর পাশ ঘেঁষে আঁকাবাঁকা প্রায় সাড়ে ১৪ কিলোমিটার দৈর্ঘ্য ও ২২৪ ফুট চওড়া খালের সৃষ্টি হয়। প্রথম দিকে গ্রামবাসী খালটি নৌকায় পার হতো। স্থানীয় বাসিন্দা সাবেক শিক্ষক জহুরুল আলম বলেন, এলাকাবাসী খালটির নাম রাখে সন্ধ্যা নদী চরখাল। স্থানীয়ভাবে খালটি পারাপারের জন্য বাঁশ-সুপারি গাছের একটি সাঁকো তৈরি করে।
সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, আঁকাবাঁকা প্রায় ৯ মাইল দৈর্ঘ্য এ খালটির ওপর ১১টি বাঁশ ও সুপারি গাছের ঝুঁকিপূর্ণ নড়বড়ে সাঁকো রয়েছে। জনপ্রতিনিধিরা বারবার সারেংকাঠি ও দৈহারীÑ এ দুই ইউনিয়নের সাথে সংযুক্ত উত্তর করফা ও কলবাড়ি সন্ধ্যা নদীর চরখালের ওপর আরসিসি গার্ডার ব্রিজ নির্মাণের আশ্বাস দিলেও বছরের পর বছর গেলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি। দৈহারী ইউপি চেয়ারম্যান বলেন, খালের ওপর সাঁকোটির কাছে চিলতলায় মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও উত্তরপাড়ের উত্তর করফা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শতাধিক ছাত্রছাত্রীকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সাঁকোটি পার হয়ে বিদ্যালয়ে যেতে হয়।
সারেংকাঠি ইউপি চেয়ারম্যান বলেন, ‘প্রায় ৩৫-৩৬ বছর ধরে একাধিক সাবেক সংসদ সদস্য ও প্রশাসন বিভিন্ন অর্থবছরে সাঁকোর স্থানে পাকা ব্রিজ করার আশ্বাস দিলেও বাঁশের সাঁকোর কোনো পরিবর্তন হয়নি। শুষ্ক মৌসুমে এ সাঁকো দিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করলেও বর্ষা মৌসুমে দুর্ভোগের সীমা থাকে না। গয়েশকাঠি গ্রামের বিধান হালদার বলেন, ‘শিক্ষা-স্বাস্থ্য, ব্যবসায়-বাণিজ্য রক্ষার্থেও এখানে অতি দ্রুত আরসিসি গার্ডার ব্রিজ নির্মাণ জরুরি।
নেছারাবাদ উপজেলা প্রকৌশলী বলেন, এ খালের ওপর আরসিসি গার্ডার ব্রিজ এখনো অনুমোদন হয়নি। সংশিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হবে। অনুমোদন পেলেই কাজ শুরু করব।
নদী ও খালবেষ্টিত বৃহত্তর বরিশালের একটি জেলা পিরোজপুর। এর গুরুত্বপূর্ণ উপজেলা নেছারাবাদ। যার লক্ষাধিক লোক ব্রিজের অভাবে কষ্ট পাচ্ছে। সাঁকো দিয়ে তিনযুগ দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। ব্রিজ তৈরি করতে তিনযুগ লাগে না। আমরা এ দিকে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।