রংপুরের পীরগাছা উপজেলার একটি ইটভাটার বিষাক্ত ধোঁয়ায় ৩০ কৃষকের প্রায় ১৭ একর জমির ধানগাছ ঝলসে গেছে। সদ্য বের হওয়া ধানের শীষগুলো ঝলসে চিটা হওয়াসহ অন্য জমির ধানগাছ পুড়ে কালো হয়ে গেছে। এ বিষয়ে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মধ্যে দু’জন রংপুর জেলা প্রশাসক ও পরিবেশ অধিদফতরসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দফতরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। একটি সহযোগী দৈনিকের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
উল্লেখিত প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, উপজেলার অন্নদানগর ইউনিয়নের বামন সর্দার গ্রামের এমএসবি ব্রিকস নামে ইটভাটার পাশের জমিগুলোতে ওই কৃষকরা ধান চাষ করেছিলেন। কিছু জমির ধানগাছ ঝলসে ধান চিটায় পরিণত হয়েছে। যেসব জমির গাছে শীষ এখনো বের হয়নি সেগুলোও পুড়ে বিবর্ণ হয়ে গেছে।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক বাদশা মিয়া জানান, গত তিন বছর ধরে তার ক্ষেতের ধান নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। ইটভাটার বিষাক্ত ধোঁয়ায় সব শেষ হয়ে যাচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা বলেন, ক্ষতিপূরণ নয় এর স্থায়ী সমাধান চাই। প্রতি বছর ধান পুড়ে যাবে, আর তারা ক্ষতিপূরণের আশ্বাস দিয়ে পার পেয়ে যাবেন। এ দিকে ভাটা মালিক প্রভাবশালী হওয়ায় তার লোকজন কৃষকদের হুমকি-ধমকি দিচ্ছেন। ইটভাটার কর্মীও একই কাজ করছেন।
ইটভাটার ম্যানেজার মোনা চন্দ্র বর্মণ বলেন, ‘আমরা কাউকে হুমকি-ধমকি দিইনি। ভাটা মালিককে বিষয়টি জানানো হয়েছে। তিনি এটা সমাধানের চেষ্টা করছেন। ভাটামালিক মমিনুল ইসলাম বলেন, ‘আমার ভাটার কারণে ক্ষতি হয়ে থাকলে ক্ষতিপূরণ দেয়া হবে।’ উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ আহসানুল হক বলেন, ‘একেবারে পুড়ে যাওয়া জমিগুলোতে ধান হওয়ার সম্ভাবনা নেই। যেগুলো কম পুড়েছে সেগুলোতেও চিটা ধান বের হবে।’
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম বলেন, আপাতত ইটভাটার কারণে জমিগুলোর এ অবস্থা হয়েছে বলে মনে হচ্ছে। আমরা সরেজমিন তদন্ত করে কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনার মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব। রংপুর জেলা পরিবেশ অধিদফতরের সহকারী পরিচালক (অফিস প্রধান) কমল কুমার বর্মণ জানান, তারা অভিযোগ পেলে সরেজমিন তদন্ত করে ওই ভাটার বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন।
পীরগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ নাজমুল হক সুমন বলেন, ‘আইন অনুযায়ী ইটভাটা বন্ধ থাকার কথা। কিভাবে চালু আছে তা খতিয়ে দেখা হবে। এ ব্যাপারে পরিবেশ অধিদফতরের মাধ্যমে খতিয়ে দেখে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সারা দেশে অনেক ইটভাটায় এমন কর্মকাণ্ড অবাধে চলছে। এক দিকে গাছ পোড়ানো; অন্য দিকে চোঙা নিচু করে ভাটার চিমনি তৈরি করা হয়। তাই দু’ভাবে পরিবেশ দূষিত হচ্ছে। সাধারণত বেআইনি ইটভাটাগুলো এ রকম করে থাকে। আমরা এ দিকে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। পরিবেশ দূষণ রোধে সরকারের কঠোর হওয়া দরকার।