একটি সহযোগী দৈনিকের তালা (সাতক্ষীরা) সংবাদদাতা জানান, সাতক্ষীরার তালা উপজেলার খেশরা ইউনিয়নের ডুমুরিয়া শাহজাতপুর অঞ্চলে কপোতাক্ষ নদের বেড়িবাঁধের চারটি স্থানে ভাঙন দেখা দিয়েছে। যেকোনো মুহূর্তে বেড়িবাঁধ ভেঙে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হতে পারে। এলাকাবাসীর মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। ক্ষেতের পাকা ধান ঘরে তোলার আশঙ্কায় নির্ঘুম রাত অতিবাহিত করছেন তারা। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
পরিদর্শনে দেখা যায়, কপোতাক্ষ নদের ডুমুরিয়া শাহজাতপুর অংশে ডুমুরিয়া জুলাপাড়া, শফিকুলের ঘেরের মাথা, গোওলা খেয়াঘাটসংলগ্ন ও শাহাজাতপুরের পুন্ডলিকপাড়া অঞ্চলে বেড়িবাঁধে ফাটল দেখা দিয়েছে। এর মধ্যে দু’টি স্থান দিয়ে জোয়ারের সময় ফসলের ক্ষেতে পানি ঢুকতে শুরু করেছে।
গ্রামবাসী বলেন, পাঁচ বছর আগে সরকারি অর্থায়নে কপোতাক্ষ নদের বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা হয়েছিল। সে সময় যথাযথ নিয়ম না মেনে যেনতেনভাবে বাঁধ করায় আবারো ভাঙন শুরু হয়েছে। এখন ধান কাটার মৌসুম। এই বাঁধ ভেঙে লোনা পানি যদি ধানের ক্ষেতে ঢুকে পড়ে, তাহলে হাজার হাজার বিঘা জমির ধান নষ্ট হয়ে যাবে। আমাদের না খেয়ে মরতে হবে।
সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেতা এস এম লিয়াকত হোসেন বলেন, কপোতাক্ষ নদের তালার খেশরা ইউনিয়নের ডুমুরিয়া শাহজাতপুর অঞ্চলের চারটি স্থানে ভাঙন দেখা দিয়েছে। যেকোনো মুহূর্তে বাঁধ ভেঙে ফসলের জমিতে পানি ঢুকে যেতে পারে। এই বাঁধ ভেঙে গেলে উপজেলার খেশরা, খলিসখালী, মাগুরা ও জালালপুর ইউনিয়নের কিছু অংশ প্লাবিত হবে। এই অঞ্চলের হাজার বিঘা পাকা ধান, মাছের ঘের ও সবজিক্ষেত পানিতে ডুবে যাবে। কপোতাক্ষের পানি লোনা হওয়ায় আম-কাঁঠালসহ অধিকাংশ গাছ মারা যেতে পারে। এই অঞ্চলে মাটির বাঁধ দিলে টিকবে না। এই ভাঙনপ্রবণ এলাকাগুলোয় ব্লক তৈরি করে বাঁধ দিলে হয়তো টিকতে পারে।
তালা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ মোহাম্মদ রাসেল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে অতি দ্রুততম সময়ের মধ্যে সংস্কারের আশ্বাস দিয়েছেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ মোহাম্মদ রাসেল বলেন, তালা উপজেলার খেশরা ইউনিয়নের ডুমুরিয়া শাহজাতপুর অংশে কপোতাক্ষ নদের চারটি স্থানে ভাঙন শুরু হয়েছে। এর মধ্যে দুই স্থানে দ্রুত সংস্কারের জন্য পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগ করা হয়েছে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করার জন্য। সাতক্ষীরা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সাখাওয়াত হোসেন বলেন, তালা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে বিষয়টি জেনেছি। এলাকা পরিদর্শনের জন্য এক কর্মকর্তাকে পাঠানো হয়েছে। সরেজমিন পরিদর্শনের রিপোর্টের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
কপোতাক্ষ নদ দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাংশের একটি গুরুত্বপূর্ণ নদী। এখানে নিয়মিত জোয়ার-ভাটা খেলে। ফলে এটি ভাঙনপ্রবণ। কপোতাক্ষের ভাঙনে জনগণের দুর্ভোগ অনেক পুরনো। এর স্থায়ী ও কার্যকর সমাধান প্রয়োজন। অন্যথায় জনগণের দুর্ভোগ অব্যাহত থাকবে। আমরা এ দিকে সরকারের সুদৃষ্টি আকর্ষণ করছি।