সম্মান এবং ভালোবাসা জোর করে আদায় করা যায় না। মানুষের মন থেকে আসতে হয়। আর এগুলো মানুষ তার কাজের মাধ্যমে অর্জন করেন। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী। বিগত সাড়ে ১৫ বছরে ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা বেগম খালেদা জিয়ার সাথে নির্মম ও নিষ্ঠুর আচরণ করে তাকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেয়ার যে অপচেষ্টা করেছেন, দেশের মানুষ তাতে প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ হয়েছে। হাসিনার অন্যায় রোষের বিরুদ্ধে প্রতিকার করতে মানুষ বারবার খালেদা জিয়ার প্রতি ভালোবাসা ও সমর্থন প্রকাশ করেছেন। অবশেষে ৫ আগস্ট তার মুক্তি মেলে।

দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ খালেদা জিয়ার চিকিৎসার জন্য শেখ হাসিনা সরকারের কাছে বারবার আবেদন করেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। খালেদা জিয়ার চিকিৎসা নিয়ে শেখ হাসিনা নানা সময় অসম্মানজনক মন্তব্য ও কটূক্তি করেছেন। ২০২৩ সালে লন্ডনে এক অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনা বলেছিলেন, রোজই শুনি এই মরে মরে, এই যায় যায়। বয়স তো আশির ওপরে। এমনিই তো সময় হয়ে গেছে। তার মধ্যে অসুস্থ। চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠাতে খালেদা জিয়ার প্রতি কেন সহানুভ‚তি দেখাতে হবে? শেখ হাসিনার এমন মন্তব্যে সেদিন দেশবাসী স্তম্ভিত হয়েছিল।

গত জানুয়ারিতে খালেদা জিয়া চিকিৎসার জন্য লন্ডনে যান। চার মাস চিকিৎসা শেষে অনেকটা সুস্থ হয়ে তিনি ফিরেছেন। ফিরে এলে দেশবাসী তাকে নিয়ে যে উচ্ছ¡াস, আনন্দ করেছে, সম্মান জানিয়েছে, তা বিরল। ‘রাজসিক প্রত্যাবর্তন খালেদা জিয়ার’ শিরোনামে বুধবার নয়া দিগন্তে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অসুস্থ খালেদা জিয়াকে গত সাত বছরে কম নিপীড়ন সহ্য করতে হয়নি। ছিলেন কারাবন্দী। অসুস্থতা তাকে ভুগিয়েছে। যথাযথ চিকিৎসা হয়নি, জীবন ছিল সঙ্কটাপন্ন। কিন্তু তার আপসহীন আর দৃঢ় মনোবল সেই মলিন অধ্যায়কে যেন আরো একবার পেছনে ফেলে দিয়েছে। গণ-অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার পলায়নের পর মুক্ত বাতাসের স্বাদ পান তিনি। এরপর বিদেশে উন্নত চিকিৎসা শেষে আবারো দেশের মাটিতে রাজসিক প্রত্যাবর্তন ঘটেছে সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীর। রাজপথে উচ্ছ¡সিত জনতার ঢল তাকে স্বাগত জানায়।

খালেদা জিয়া এমন একজন নেত্রী যিনি এদেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের ধর্ম, বিশ্বাস ও অনুভ‚তি ভালো করে বোঝেন। তাই তো মানুষের ওপর নির্যাতন-নিপীড়ন নেমে এলে তিনি দ্বিধাহীনচিত্তে তাদের পাশে দাঁড়ান। ২০২৩ সালে ৫ মে শেখ হাসিনা যখন শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের নেতাকর্মীদের ওপর গণহত্যা চালায়, তখন বেগম খালেদা জিয়া ঢাকাবাসীকে নিরস্ত্র হেফাজত নেতাকর্মীদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছিলেন। আধিপত্য মোকাবেলায় যেমন আপসহীন মনোভাব প্রয়োজন, খালেদা জিয়া দীর্ঘদিন রাজনীতিতে তারই প্রমাণ রেখেছেন।

কুরআনে বলা হয়েছে, আল্লাহ যাকে ইচ্ছা সম্মানিত করেন আর যাকে ইচ্ছা লাঞ্ছিত করেন। শেখ হাসিনা প্রতিহিংসাপরায়ণ হয়ে খালেদা জিয়াকে অপমান করার এমন কোনো অপচেষ্টা নেই যা করেননি। এসব নীরবে সহ্য করে গেছেন খালেদা জিয়া। আজ খালেদা জিয়া দেশ-বিদেশে সম্মানিত ও প্রশংসিত, অন্যদিকে শেখ হাসিনা নিন্দিত, ঘৃণিত ও পলাতক।

আমরা বেগম খালেদা জিয়ার সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু ও কল্যাণ কামনা করি। একই সাথে তার যথাযথ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্যও সরকারের প্রতি আহ্বান জানাই।