বাংলাদেশের জনসংখ্যর একটি বড় অংশ প্রবাসী শ্রমিক। তারা বিদেশ থেকে প্রতি বছর বড় অঙ্কের রেমিট্যান্স পাঠান, যা দিয়ে দেশের অর্থনীতি চাঙ্গা থাকে। বিদেশে শ্রমিক পাঠানোকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠে অসাধু চক্র। যাদের কারণে শ্রমবাজার নষ্ট হয়। শ্রমবাজার নষ্ট হওয়ার পেছনে শ্রমিকরাও দায়ী থাকেন। শ্রমিকদের খামখেয়ালিপনা ও অপরাধে জড়িয়ে পড়ার ফলে বিদেশে তাদের কর্মসংস্থানের পথ সঙ্কুচিত কিংবা বন্ধ হয়ে যায়।
ভারত মহাসাগরের দ্বীপদেশ মরিশাস বাংলাদেশের অন্যতম শ্রমবাজার। দেশটির গার্মেন্টসহ নানা সেক্টরে বাংলাদেশীরা কাজ করত। কিন্তু তিন বছর হলো সেখানে বাংলাদেশী শ্রমিক নেয়া বন্ধ।
গত রোববার দৈনিক নয়া দিগন্তে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জনশক্তি রফতানিতে সম্পৃক্তরা বলছেন, পতিত সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রাক্তন বেয়াই ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন মরিশাসের একটি সিন্ডিকেটের ক্রীড়নকে পরিণত হয়েছিলেন। ওই সিন্ডিকেটের সদস্যরা তাকে ব্যবহার করে হাইকমিশনকে জিম্মি করা, ভিসা জালিয়াতি থেকে শুরু করে স্থানীয়ভাবে নানা ধরনের অপরাধে লিপ্ত হয়।
নয়া দিগন্তের প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, মরিশাসে যাওয়ার পর কেউ কেউ স্থানীয় নারীদের বিয়ে করেছেন। এক কোম্পানির নামে গিয়ে অন্যখানে কাজ করছেন। বিষয়গুলো মরিশাস সরকার ভালোভাবে নেয়নি। বাংলাদেশ থেকে বৈধ ভিসায় পাড়ি জমানো শ্রমিকদের নিয়ে নানা ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডও প্রকাশ্যে আসে। সে কারণেই মরিশাস সরকার বাংলাদেশী কর্মী নেয়া বন্ধ করে দেয়।
প্রবাসী শ্রমিকদের অপরাধ কিংবা নারীঘটিত বিষয়ে জড়িয়ে পড়া কোনোভাবেই কাম্য নয়। এতে দেশের ভাবমর্যাদা ভূলুণ্ঠিত হয়। এগুলো যেন নিয়ন্ত্রিত থাকে সেজন্য একেক সমাজে একেক রকম আইন থাকে। মরিশাসও তার বাইরে নয়। বিষয় হলো- স্থানীয় সমাজের নিয়ম মেনেই সেখানে থাকতে হবে। সমাজের স্থিতিশীলতার জন্যই এসব নিয়ম মান্য করা প্রয়োজন। বিদেশে শ্রমিক পাঠানোর আগে সে দেশের নিয়ম-কানুন ভালোভাবে আত্মস্থ করে পাঠাতে হবে। এ ক্ষেত্রে শ্রমিকদের প্রশিক্ষণে জোর দিতে হবে। প্রশিক্ষণবিহীন শ্রমিক যেন বিদেশে না যেতে পারে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।
মরিশাসে যেমন শেখ হাসিনার বেয়াই ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেনকে কেন্দ্র করে সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছিল ঠিক তেমনি মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার সিন্ডিকেটে শেখ হাসিনার বোন শেখ রেহানার নাম এসেছে। এভাবে শেখ হাসিনার আত্মীয়স্বজনের মাধ্যমে গড়ে ওঠা সিন্ডিকেটের কারণে দেশের মানুষের আয়-রুজির পথ বন্ধ হয়ে আছে বছরের পর বছর। প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উচিত মরিশাসের শ্রমবাজার বন্ধ হওয়ার পেছনে যেসব ঘটনা ও কারণ ছিল অবিলম্বে তার তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া এবং শ্রমবাজার পুনরুদ্ধারের উদ্যোগ নেয়া।
বিস্ময়কর হলেও সত্য, একটি দেশের শ্রমবাজার তিন বছর ধরে বন্ধ অথচ সেখানে আমাদের দূতাবাসের কোনো সাড়াশব্দ নেই। শ্রমবাজারের সুবিধা-অসুবিধা দেখা দূতাবাসের কর্মকর্তাদেরই দায়িত্ব। দায়িত্ব পালনে তাদের গাফিলতি থাকলে ব্যবস্থা নেয়া দরকার।
মরিশাসের শ্রমবাজারের বিষয়ে আমাদের শ্রম কূটনীতি জোরদার করতে হবে। এ শ্রমবাজার চালুর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কাজ করবে- এমনটিই আমাদের প্রত্যাশা।