খুনি, ফ্যাসিবাদী ও দেশবিরোধী মাফিয়াচক্র আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের দাবিতে জনদাবি গড়ে উঠেছে। দেশের প্রায় সব রাজনৈতিক শক্তি একবাক্যে আওয়ামী লীগ নামে মাফিয়াচক্র নিষিদ্ধ করার দাবি জানাচ্ছে। রাজধানীর শাহবাগে সমবেত লাখো জনতা ঘোষণা দিয়েছেন, দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তারা অবরোধ চালিয়ে যাবেন।
ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার অবৈধ সরকারের পতনের ৯ মাস অতিক্রান্ত হওয়ার পর এই জনদাবি জাতীয় ঐক্যে রূপ নিয়েছে। হাসিনার শাসনের দীর্ঘদিনের সহযোগী সাবেক রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদকে গ্রেফতার না করে রাতে দেশ ছাড়ার সুযোগ করে দেয়া হয়। এর প্রতিবাদে সোচ্চার হয়ে ওঠেন সর্বস্তরের মানুষ। দাবি তোলেন, আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের। এই দাবি চব্বিশের বিপ্লবের পর থেকে জানিয়ে আসছিলেন ছাত্র-জনতা। কিন্তু সেটি করা হয়নি; বরং গণ-অভ্যুত্থানের চেতনাবিরোধী কর্মকাণ্ড একের পর এক ঘটানো হয়েছে। ‘আয়নাঘর’ নামে ভয়াবহ নির্যাতনশিবির নিয়ে ঘটেছে অনাকাঙ্ক্ষিত কর্মকাণ্ড। আওয়ামী লীগের হাজার হাজার নেতা-মন্ত্রী-এমপি যারা গত ১৫ বছর ধরে জনগণের ওপর অত্যাচারের স্টিমরোলার চালিয়েছেন, জনগণের কষ্টের টাকা বেপরোয়াভাবে লুটপাট করেছেন এবং বিদেশে পাচার করেছেন তাদের গ্রেফতার, বিচার করা হয়নি; বরং নিরাপদ আশ্রয় ও পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দেয়া হয়েছে। এতে এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে যে, দেশ আবারো সেই আওয়ামী ধারাতে ফিরে যেতে পারে। আওয়ামী সরকারের ধ্বংস করে দেয়া রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়ন নিয়েও ধোঁয়াশা সৃষ্টি করা হয়। এমনকি একটি সুশীল আওয়ামী লীগ গঠন করে আগামী নির্বাচনে অংশ নেয়ার সুযোগ সৃষ্টির চেষ্টাও চালানো হয় একটি মহল থেকে। এসব ঘটনায় দেশবাসী চরম ক্ষুব্ধ হন। বর্তমানে আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের দাবিতে জাতীয় ঐক্য রচিত হয়েছে মূলত গত ৯ মাসের বেশি সময়ের উল্লিøখিত ঘটনাবলির কারণে।
আওয়ামী লীগ যে একটি দেশবিরোধী অপশক্তি তা শুধু দলটির একনায়কতান্ত্রিক ফ্যাসিবাদী শাসনের মধ্য দিয়ে প্রমাণিত হয়নি। আওয়ামী লীগ ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন গঠিত হয়ে পরবর্তী সময়ে এ দলের কর্মকাণ্ড খতিয়ে দেখলে বোঝা যাবে গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে দলটির বিন্দুমাত্র আস্থা নেই। লাঠিসোটা নিয়ে হামলা চালিয়ে প্রতিপক্ষের সমাবেশ পণ্ড করা, পার্লামেন্টে পিটিয়ে স্পিকারকে হত্যার মতো নানা ঘটনা প্রকাশ্যে ঘটিয়েছে দলটি। বিরোধী রাজনীতির নামে সরকারগুলোর কোনো ইতিবাচক কর্মসূচিও বাস্তবায়ন করতে দেয়নি। গুণ্ডামি, মাস্তানি, সন্ত্রাসের মাধ্যমে ভণ্ডুল করেছে। এভাবে দলটি দেশের অগ্রগতির বিরুদ্ধশক্তি হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করেছে।
সবশেষ চব্বিশে জুলাই অভ্যুত্থানের সময় দলটি যে চরম প্রতিহিংসার প্রকাশ ঘটিয়েছে তা এ দেশের মানুষ কখনো ভুলবেন না। জাতিসঙ্ঘের রিপোর্টে দলটির চরিত্র চিরস্থায়ী হয়ে থাকবে।
বাস্তবতা হলো বাংলাদেশকে বিদেশী আধিপত্যমুক্ত হয়ে স্বাধীনভাবে এগিয়ে যেতে একমাত্র বাধা আওয়ামী মাফিয়াচক্রের রাজনীতি। জাতির স্বাভাবিক অগ্রগতির জন্য আওয়ামী রাজনীতি নিষিদ্ধের গণদাবিটি বিশেষভাবে বিবেচনা নিতে হবে। কাজটি নির্বাহী আদেশে নয়, আইনি কাঠামোর ভেতরে থেকে এমনভাবে করতে হবে যাতে এ অপশক্তি আর কখনো মাথা তুলতে না পারে।