পতিত আওয়ামী লীগ সরকার দেশের অর্থনীতিকে পুরোপুরিই ধ্বংস করেছিল। সর্বত্র ‘চোরতন্ত্র’ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে সবার আগে ধ্বংস করা হয় ব্যাংক খাত। ফলে অনেক ব্যাংকই এখন মুমূর্ষু। এক সময়ের অন্যতম সেরা রাষ্ট্রায়ত্ত জনতা ব্যাংক রীতিমতো ডুবন্ত। এই ব্যাংক গত এক বছরে লোকসান করেছে দুই হাজার ২০০ কোটি টাকা। আর জানুয়ারি থেকে মার্চ- তিন মাসে লোকসান করেছে ৯০০ কোটি টাকা।

আওয়ামী ফ্যাসিস্টদের দৌরাত্ম্য, রাজনৈতিক প্রভাব, রাষ্ট্রযন্ত্র ব্যবহার করে পানির মতো অর্থ বের করে নেয়া হয় এ ব্যাংক থেকে। পতিত প্রধানমন্ত্রীর বাণিজ্যিক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান একাই এ ব্যাংক থেকে বের করে নিয়েছেন ২৭ হাজার কোটি টাকা। ব্যাংক খেকো এস আলম বের করে নিয়েছেন প্রায় ১৪ হাজার কোটি টাকা। এভাবে নাসা গ্রুপের নজরুল ইসলাম মজুমদার, এনন টেক্সসহ ডজন খানেক ব্যবসায়ী মাফিয়া ব্যাংকটি থেকে অর্থ বের করে নিয়েছে, যা আর ফেরত পাওয়া যাচ্ছে না। শুধু তা-ই নয়, বছরের পর বছর সুদ পরিশোধ না করে উল্টো তা মওকুফ করিয়ে নিয়েছেন। শুধু নাসা গ্রুপের ২৬১ কোটি টাকার সুদ মওকুফ করা হয়। এভাবে ধ্বংসের মুখে পড়েছে জনতা ব্যাংক।

গতকাল নয়া দিগন্তের এক রিপোর্টে ব্যাংক ধ্বংসের গোটা প্রক্রিয়া তুলে ধরা হয়েছে। বলা হয়েছে, আওয়ামী লীগ সরকারের নিয়োগ দেয়া চেয়ারম্যান ও এমডিরা মাফিয়াদের অর্থ বের করে নিতে সহযোগিতা করেছেন। এমনকী বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদারও এসব অনিয়ম দুর্নীতিতে বাধা দেননি; বরং সহায়তা করেন। আওয়ামী লুটেরাদের হাতে দেশের ব্যাংকসহ পুরো অর্থনীতির সর্বনাশ কিভাবে সম্পন্ন হয়েছে- এ রিপোর্ট তার দলিল।

গত ১৫ বছরের শাসনকালে শেখ হাসিনার সরকার কোথাও কোনো জবাবদিহির ব্যবস্থা রাখেনি। বাংলাদেশ ব্যাংকসহ সব আর্থিক ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের বানোয়াট পরিসংখ্যান দিয়েছে। ফলে ক্রমাগত অধোগতির চিত্র জনগণ দেখতে পায়নি।

৫ আগস্টের পরিবর্তনের পর এখন প্রকৃত অবস্থা জেনে মানুষের মনে হতাশা দেখা দিচ্ছে। এ অবস্থায় বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার অর্থনীতিতে শৃঙ্খলা ও সুশাসন ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নিয়েছে। আওয়ামী লুটেরাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। পাচার করা বিপুল অর্থ ফিরিয়ে আনার কার্যকর চেষ্টা চলছে।

এর ফলে আর্থিক খাতে উন্নতির সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) আভাস দিয়েছে, চলতি বছরে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি ৩ দশমিক ৮ শতাংশ হতে পারে। যদিও সরকার বলছে- এটি হতে পারে ৫ দশমিক ২ শতাংশ। আইএমএফ অবশ্য আগামী বছর প্রবৃদ্ধি বেড়ে ৬ শতাংশ হতে পারে বলে জানিয়েছে।

এরই মধ্যে আর্থিক খাতে সরকারের দৃশ্যমান সাফল্য এসেছে। প্রায় শূন্যে নেমে আসা রিজার্ভ সন্তোষজনক পর্যায়ে বেড়েছে। বেশ কিছু ধারদেনা ও বকেয়া পরিশোধ করা হয়েছে। নতুন বিনিয়োগে আশাব্যঞ্জক সাড়া মিলেছে। প্রবাসী আয় আশাতীতভাবে বাড়ছে।

সবমিলিয়ে আর্থিক খাতের সাথে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে একটি নতুন আশাবাদের সঞ্চার করতে পেরেছে অন্তর্বর্তী সরকার। এটিই তার সবচেয়ে বড় অর্জন, যা এ ক্ষেত্রে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।