একদল ছাত্র এমন সময় জাতির কাণ্ডারি হলো যখন সবাই হাসিনার ফ্যাসিবাদী শাসন তাদের নিয়তি মেনে নিয়েছিল। পুরো জাতি বাংলাদেশ নামক একটি বৃহৎ কারগারে বন্দী হয়ে গিয়েছিল। আধিপত্যবাদী শক্তির সহায়তায় জাতিকে গোলামির জিঞ্জির পরিয়ে দিয়েছিল হাসিনা। বর্ষা বিপ্লবে নেতৃত্ব দেয়া ছাত্ররা তাই জাতির সূর্যসন্তান। পরাজিত শক্তি স্বাভাবিকভাবে তাদের ওপর প্রতিশোধ নিতে চাইবে। ৫ আগস্টের পর নানাভাবে তদের প্রতিশোধস্পৃহা দেখা গেছে। চোরাগোপ্তা হামলা চালিয়ে আন্দোলনের সাথে সম্পৃক্ত ছাত্রদের হত্যা করার বহু চেষ্টা হয়েছে। তার সর্বশেষ উদাহরণ বিপ্লবের অন্যতম প্রধান সমন্বয়ক হাসনাত আবদুল্লাহর ওপর হামলা। যেকোনো মূল্যে বিপ্লবীদের জীবনের নিরাপত্তা তৈরি করতে হবে। মনে রাখতে হবে, যদি এই বিপ্লবীদের জীবনের নিরাপত্তা আমরা দিতে না পারি তাহলে বিপ্লবের ফসলও একসময় বেহাত হয়ে যাবে।
গত রোববার হাসনাত আবদুল্লাহ গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ফেরার পথে দুর্বৃত্তদের আক্রমণের শিকার হন। তাকে বহনকারী গাড়িটি তারা ভাঙচুর করে, এ সময় তিনি হাতে আঘাত পান। ঘটনার বিবরণে জানা যাচ্ছে, তিনি ঢাকা ফিরছিলেন। চার-পাঁচটি মোটরসাইকেল তাকে হামলার উদ্দেশ্যে অনুসরণ করছিল। চান্দনা চৌরাস্তা এলাকায় পৌঁছালে তার গাড়িটি যানজটের মধ্যে পড়েন। এই সুযোগে দুর্বৃত্তরা তার গাড়িতে এলোপাতাড়ি ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। গাড়ির কাচ ভেঙে যায়। তার হাত কেটে রক্তাক্ত হয়। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের স্থানীয় নেতাকর্মীরা ঘটনাস্থলের দিকে এগিয়ে যান। দ্রুত তিনি ঘটনাস্থল ত্যাগ করে রক্ষা পান। হাসনাত এখন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সমন্বয়ক। তরুণ প্রতিশ্রুতিশীল বিপ্লবী নেতা হিসেবে তিনি সাড়া জাগিয়েছেন। আগামীর রাজনৈতিক মেরুকরণে যে কয়জন ছাত্রনেতা ইতিবাচক ভূমিকা নিতে সক্ষম তাকে এমন একজন সম্ভাব্য নেতা মনে করা হচ্ছে। এ জন্য যে তাকে নিশানা করা হয়েছে তা বোঝা যায়। এনসিপির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগ সন্ত্রাসীরা হাসনাতের ওপর হামলার সাথে জড়িত।
উৎখাত হওয়া হাসিনা ও তার সাঙ্গপাঙ্গরা জুলাই বিপ্লবে নেতাদের জীবননাশের হুমকি দিয়ে আসছেন। হাসিনা তার বেশ কয়েকটি অডিও বার্তায় কাদের কাদের হত্যা করতে হবে তার সম্ভাব্য তালিকা দিয়েছেন। শুধু হত্যা নয়, আন্দোলনকারী ছাত্র-জনতার বাড়িঘর পুড়িয়ে দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। দেশ থেকে যারা পালিয়ে যেতে পারেনি, হাসিনার এমন একটি বিশাল সন্ত্রাসীবাহিনী সারা দেশে রয়েছে। তারা ঝটিকা মিছিলসহ গুপ্ত কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। এদের দিয়েই হাসিনা বিপ্লবী ছাত্রদের হত্যা করতে চান। হাসনাতের ওপর হামলা তারই অংশ হতে পারে। ঘটনার পরপর দুজনকে আটক করা হয়েছে। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহের চেষ্টা চলছে। হামলাকারীদের শনাক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছে পুলিশ।
জাতীয় বীরদের রক্ষা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। এর আগেও বহু বিপ্লবীকে আমরা রক্ষা করতে পারিনি। তাই আমাদের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব বিপন্ন হয়েছে। বর্ষা বিপ্লবে যারা নেতৃত্ব দিয়েছেন তারা উৎখাত হওয়া ফ্যাসিবাদ ও আঞ্চলিক আধিপত্যবাদী শক্তির নিশানা। তারা চাইবে এই বিপ্লবীদের যেকোনো মূল্যে নিঃশেষ করে দিতে। এদের যদি শেষ করে দেয়া যায় আবারো ফ্যাসিবাদী শাসন চাপিয়ে দেয়া যাবে। সে কারণে বিপ্লবী ছাত্রনেতাদের নিরাপত্তায় বিশেষ ব্যবস্থা নেয়া প্রয়োজন। আশা করি, সরকার ও সংশ্লিষ্টরা বিষয়টি ভেবে দেখবেন।