ভারত অধিকৃত কাশ্মিরের পহেলগামে ২২ এপ্রিল সন্ত্রাসী হামলায় ২৬ জন নিহত হন। ভারত এই হামলার জন্য পাকিস্তানকে দায়ী করে। প্রশ্ন হলো, তদন্ত ছাড়া পাকিস্তানকে দোষারোপ করা কতটা যৌক্তিক? নয়াদিল্লি দাবির সপক্ষে কোনো তথ্য-প্রমাণ উপস্থাপন করেনি বা করতে পারেনি। তবে ইসলামাবাদ বলেছে, ওই হামলায় পাকিস্তানের কোনো সম্পর্ক নেই।

পহেলগাম হামলার পর থেকে দক্ষিণ এশিয়ার দুই প্রতিবেশী দেশ ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে টান টান উত্তেজনা বিরাজ করছিল। এমন অবস্থায় গত মঙ্গলবার মধ্যরাতে পাকিস্তানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালায় ভারত। এতে কমপক্ষে ৩১ পাকিস্তানি নিহত হয়েছেন। দিল্লি বলছে, এসব হামলার লক্ষ্য ছিল ‘সন্ত্রাসী অবকাঠামো’। ইসলামাবাদের দাবি, হামলা করা হয়েছে সাধারণ মানুষ ও মসজিদের ওপর। অন্য দিকে ভারতীয় বাহিনীর হামলার জবাব দিয়েছে পাকিস্তান। পাল্টা হামলায় ভারতে ১৫ জনের মৃত্যু হয়েছে।

দক্ষিণ এশিয়ার চির বৈরী দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে এই যে যুদ্ধের দামামা বেজে উঠেছে, এতে ক্ষতি ছাড়া কারো লাভ হবে না। সবার জানা, যেকোনো যুদ্ধ কেবল ধ্বংসই ডেকে আনে। যুদ্ধ শুরু করা যত সহজ, এ ফাঁদ থেকে বেরিয়ে আসা তত কঠিন। যুদ্ধে প্রাণ এবং সম্পদহানির পাশাপাশি দিতে হয় অর্থনৈতিক খেসারত। ভারত-পাকিস্তান উন্নয়নশীল দুই দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা এমন নয় যে, এরা যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার সামর্থ্য রাখে। ফলে যুদ্ধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হিসেবে দেখা দেবে অর্থনৈতিক মন্দা। ইতোমধ্যে ভারতের হঠকারী ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় রুপির দরপতন হয়েছে, শেয়ারমার্কেটে ধস নেমেছে। তাই সহজে এ কথা বলা যায়, বিশ্বের দারিদ্র্যপীড়িত এ অঞ্চলের বিপুল মানুষ ক্ষুধা-দারিদ্র্যে নিপতিত হবে। এটি মোকাবেলা করার সামর্থ্য কারো নেই। অতীতেও দেখা গেছে, ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে সংঘটিত কয়েকটি যুদ্ধে প্রাণহানি আর সম্পদের অপচয় ছাড়া আর কোনো প্রাপ্তি নেই। সাধারণ মানুষের দুঃখ দুর্দশার মাত্রা আরো বেড়েছিল।

বর্তমান ঘটনাপ্রবাহে এটি মনে করার যথেষ্ট কারণ হাজির যে, দেশের অভ্যন্তরে ভারতীয় শাসকদল জনপ্রিয়তা বাড়ানোর একটি কৌশল হিসেবে এ যুদ্ধকে বেছে নিয়েছে। অন্য দিকে পাকিস্তান আত্মরক্ষায় ভারতীয় হামলার জবাব দিচ্ছে। উপমহাদেশে এ সঙ্ঘাতময় পরিস্থিতি বিরাজ করায় জাতিসঙ্ঘ, বিশ্বের পরাশক্তিধর দেশ ও আন্তর্জাতিক মহল গভীর উদ্বেগ জানিয়ে উভয়কে সংযম ও শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছে। তারা আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধানে জোর দিয়েছে। জাতিসঙ্ঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস দেশ দু’টিকে কোনো ধরনের সামরিক পদক্ষেপ নেয়ার বিষয়ে সর্বোচ্চ ধৈর্যের পরিচয় দেয়ার কথা বলেছেন।

ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে যুদ্ধ বেধে যাওয়ায় প্রতিবেশী দেশ হিসেবে বাংলাদেশ নিরুদ্বিগ্ন বা চিন্তামুক্ত থাকতে পারে না। উল্লেখিত দেশ দু’টির সাথে আমাদের বাণিজ্যিক ও ভূ-রাজনৈতিক অভিন্ন স্বার্থ রয়েছে। দক্ষিণ এশিয়া যুদ্ধের কারণে অস্থিতিশীল হয়ে উঠলে এর আঁচ আমাদেরও লাগবে। ইতোমধ্যে অন্তর্বর্তী সরকার দিল্লি ও ইসলামাবাদকে সংযত থাকার আহ্বান জানিয়েছে।

পহেলগামে হামলার বিষয়ে প্রমাণ উপস্থাপন না করে ভারত প্রথম পাকিস্তানে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। এটিকে ইসলামাবাদের ওপর ভারতীয় আগ্রাসন ছাড়া কী বলা যেতে পারে? সঙ্গত কারণে বিশ্বের শান্তিকামী মানুষের মতো আমাদেরও প্রত্যাশা, যুদ্ধ নয় আলোচনার টেবিলে ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে বর্তমান সঙ্ঘাতময় পরিস্থিতির অবসান হোক।