রাশিয়া ও ভারত তাদের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে সর্বোচ্চে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে কাজ করছে এবং এর জন্য রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন শিগগির ভারত সফরে আসছেন বলে জানিয়েছেন রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ। পুতিনের সফরের প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (২৭ মার্চ) রাশিয়ার একটি টেলিভিশন ভাষণে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন ল্যাভরভ।
তিনি বলেছেন, ‘প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি টানা তৃতীয় মেয়াদে পুনর্নির্বাচিত হওয়ার পর রাশিয়ায় তার প্রথম বিদেশ সফর করেছেন। এখন আমাদের পালা।’
গত বছর রাশিয়া সফরের সময় মোদি রাশিয়ার প্রেসিডেন্টকে রাষ্ট্রীয় সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন।
ল্যাভরভ বলেছেন, ‘প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ভারতীয় সরকার প্রধানের আমন্ত্রণ গ্রহণ করেছেন। রাশিয়ার রাষ্ট্রপ্রধানের ভারত প্রজাতন্ত্র সফরের পরিকল্পনা করা হচ্ছে।’ তবে এই সফর কখন হতে পারে তা নির্দিষ্ট করে বলেননি তিনি।
’রাশিয়া ও ভারত: একটি নতুন দ্বিপক্ষীয় অ্যাজেন্ডার দিকে’ শীর্ষক এক সম্মেলনে ল্যাভরভ এই মন্তব্য করেন। রাশিয়ান আন্তর্জাতিক বিষয়ক কাউন্সিল (আরআইএসি) এই বৈঠকের আয়োজন করে।
ইউক্রেন যুদ্ধ ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে শুরু হওয়ার পর এটিই হবে পুতিনের প্রথম ভারত সফর। এই সফর ২০৩০ সালের জন্য পুতিনের ‘নতুন অর্থনৈতিক রোডম্যাপ’ এগিয়ে নিয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। ভারত ও রাশিয়া তাদের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য দ্বিগুণ করে বার্ষিক ১০০ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি করতে সম্মত হয়েছে।
এছাড়াও উভয় দেশই বাণিজ্য রুট উল্লেখযোগ্যভাবে সম্প্রসারণে সম্মত হয়েছে। চেন্নাই-ভ্লাদিভোস্তক সামুদ্রিক বাণিজ্য করিডোর রাশিয়া থেকে ভারতে নতুন সরবরাহে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। বর্তমানে দুই দেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বছরে প্রায় ৬০ বিলিয়ন ডলার।
এই সপ্তাহেই ল্যাভরভ নিশ্চিত করেছেন, নয়াদিল্লির সাথে দ্বিপক্ষীয় অংশীদারিত্বকে সম্পূর্ণরূপে পুনর্নির্ধারণ করার লক্ষ্যে রয়েছে মস্কো। তিনি বলেছেন, রাশিয়া তার বর্তমান সম্পর্ককে আরো প্রসারিত করতে এবং ভারতের সাথে একটি ‘বিশেষ ও সুবিধাপ্রাপ্ত কৌশলগত অংশীদারিত্ব’ গড়ে তুলতে চায়।
সূত্র : এনডিটিভি