সিরিয়ার নতুন কর্তৃপক্ষ যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশটিতে নিখোঁজ মার্কিন নাগরিকদের খুঁজে বের করতে এবং ফিরিয়ে আনতে যুক্তরাষ্ট্রকে সহায়তা করবে সিরীয় সরকার। রোববার এক মার্কিন রাষ্ট্রদূত বলেছেন, দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কেও অচলাবস্থা নিরসনে এটি আরেকটি শুভ লক্ষণ।
এক দশকেরও বেশি সময় ধরে কূটনৈতিক স্থবিরতার অবসান ঘটিয়ে যুক্তরাষ্ট্র আনুষ্ঠানিকভাবে সিরিয়ার ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের এক দিন পর এই ঘোষণা আসে।
ডিসেম্বরে ইসলামপন্থী নেতৃত্বাধীন সারাদেশে এক অভিযানে সাবেক প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদকে উৎখাত করার পর থেকে সম্পর্ক ক্রমাগত উন্নত হয়েছে।
সিরিয়ার জন্য মার্কিন বিশেষ দূত টম ব্যারাক এক্সে (সাবেক টুইটার) লিখেছেন, ‘নতুন সিরিয়ার সরকার মার্কিন নাগরিকদের বা তাদের দেহাবশেষ খুঁজে বের করতে এবং ফেরত দিতে যুক্তরাষ্ট্রকে সহায়তা করতে সম্মত হয়েছে।’
এটিকে ‘দু’দেশের সম্পর্ক উন্নয়নের একটি শক্তিশালী পদক্ষেপ’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন তিনি।
তিনি আরো বলেছেন, ‘অস্টিন টাইস, মাজদ কামালমাজ এবং কায়লা মুলারের পরিবারগুলোকে অবশ্যই ‘নিষ্ক্রিয়’ করতে হবে’। তিনি ২০১১ সালে শুরু হওয়া সিরিয়ার ভয়াবহ গৃহযুদ্ধের সময় নিখোঁজ বা নিহত মার্কিন নাগরিকদের কথা উল্লেখ করে এ কথা বলেছেন।
টাইস ২০১২ সালের আগস্টে একটি চেকপয়েন্টে আটক হওয়ার সময় অ্যাজেন্সি ফ্রান্স-প্রেস, দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট এবং অন্যান্য সংবাদমাধ্যমের জন্য একজন ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক হিসেবে কাজ করছিলেন।
সিরিয়ান-মার্কিন মনোচিকিৎসক কামালমাজ ২০১৭ সালে আসাদ সরকারের অধীনে আটক থাকার পর মারা গেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
মুলার ছিলেন একজন সাহায্যকর্মী। তারা ২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইসলামিক স্টেট গ্রুপ কর্তৃক অপহৃত হয়েছিলেন। তারা তার মৃত্যুর ঘোষণা দিয়ে বলেছিল, তিনি জর্ডানের বিমান হামলায় নিহত হয়েছেন। যা মার্কিন কর্তৃপক্ষ বতর্কিত দাবি করছে।
তুরস্কে মার্কিন রাষ্ট্রদূত হিসেবেও দায়িত্ব পালনকারী ব্যারাক বলেছেন, ‘প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্পষ্ট করে দিয়েছেন, মার্কিন নাগরিকদের দেশে ফিরিয়ে আনা-অথবা তাদের দেহাবশেষকে মর্যাদার সাথে সম্মান জানানো সর্বত্র একটি প্রধান অগ্রাধিকার।’
তিনি আরো বলেছেন, ‘নতুন সিরিয়ার সরকার এই প্রতিশ্রুতিতে আমাদের সহায়তা করবে।’
সূত্র : বাসস