গাজা উপত্যকায় সাহায্য প্রেরণের প্রস্তুতি নেয়ার প্রাক্কালে বিতর্কিত মার্কিন-সমর্থিত গোষ্ঠীর প্রধান রোববার তার আকস্মিক পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন। এর ফলে এই প্রচেষ্টার ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
গাজা হিউম্যানিটেরিয়ান ফাউন্ডেশন (জিএইচএফ)-এর এক বিবৃতিতে নির্বাহী পরিচালক জ্যাক উড ব্যাখ্যা করেছেন, সংস্থাটি ‘মানবিক নীতি’ মেনে চলার মাধ্যমে তার লক্ষ্য পূরণ করতে পারে না, তা নির্ধারণ করার পরে তিনি পদত্যাগ করতে বাধ হলেন।
ফেব্রুয়ারি থেকে জেনেভায় অবস্থিত এই ফাউন্ডেশনটি তাদের কার্যক্রমের প্রথম ৯০ দিনের মধ্যে প্রায় ৩০ কোটি খাবার বিতরণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
কিন্তু জাতিসঙ্ঘ এবং ঐতিহ্যবাহী সাহায্য সংস্থাগুলো ইতোমধ্যেই বলেছে, তারা গোষ্ঠীর সাথে সহযোগিতা করবে না। কারণ তাদের বিরুদ্ধে ইসরাইলের সাথে কাজ করার অভিযোগ রয়েছে।
গাজার পরিস্থিতি নিয়ে ইসরাইলের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ বৃদ্ধির সাথে সাথে ‘জিএইচএফ’ আত্মপ্রকাশ করেছে।
উড বলেছেন, ‘দু’মাস আগে মানবিক কার্যক্রমে আমার অভিজ্ঞতার কারণে জিএইচএফ-এর প্রচেষ্টার নেতৃত্ব দেয়ার বিষয়ে আমার সাথে যোগাযোগ করা হয়েছিল।’
একজন মানবিক নেতা হিসেবে ‘বিশ্বজুড়ে অনেকের মতো আমি গাজার ক্ষুধা সঙ্কটে ভীত এবং হৃদয় ভেঙে পড়েছিলাম এবং দুর্ভোগ লাঘবে আমি যথাসাধ্য চেষ্টা করতে বাধ্য হয়েছিলাম।’
উড জোর দিয়ে বলেছেন, ‘আমি যে কাজ তদারকি করেছি তাতে গর্বিত, যার মধ্যে রয়েছে একটি বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা তৈরি করা যা ক্ষুধার্ত মানুষকে খাওয়াতে পারে। ডাইভারশন সম্পর্কে নিরাপত্তা উদ্বেগ মোকাবেলা করতে পারে এবং গাজায় দীর্ঘস্থায়ী এনজিওগুলোর কাজের পরিপূরক হতে পারে।’
তিনি বলেছেন, ‘এটা স্পষ্ট হয়ে গেছে, মানবতা, নিরপেক্ষতা এবং স্বাধীনতার মানবিক নীতিগুলো কঠোরভাবে মেনে চলার সময় এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়।’
হামাস নিয়ন্ত্রিত গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় রোববার জানিয়েছে, ১৮ মার্চ যুদ্ধবিরতি ভেঙে যাওয়ার পর থেকে এই অঞ্চলে কমপক্ষে ৩ হাজার ৭৮৫ জন নিহত হয়েছে। এতে যুদ্ধে মোট নিহতের সংখ্যা ৫৩ হাজার ৯৩৯ জনে দাঁড়িয়েছে। এদের বেশিভাগই বেসামরিক নাগরিক। সরকারি পরিসংখ্যানের ওপর ভিত্তি করে এএফপির এক হিসাব অনুসারে, ২০২৩ সালের অক্টোবরে ইসরাইলের ওপর হামাসের আক্রমণের ফলে ১ হাজার ২১৮ জন নিহত হয়। যাদের বেশিভাগই বেসামরিক নাগরিক। স্বাধীনতাকামী হামাস যোদ্ধারা ২৫১ জনকে পণবন্দী করে, যাদের মধ্যে ৫৭ জন গাজায় রয়ে গেছে, যার মধ্যে ৩৪ জন ইসরাইলি সেনাবাহিনী বলেছে, মারা গেছে।
উড ইসরাইলকে ‘সকল প্রক্রিয়ার মাধ্যমে গাজায় সাহায্যের ব্যবস্থা উল্লেখযোগ্যভাবে সম্প্রসারণ করার’ আহ্বান জানিয়েছেন। পাশাপাশি ‘সকল অংশীদারদের বিলম্ব, বিচ্যুতি বা বৈষম্য ছাড়াই সাহায্য সরবরাহের জন্য উদ্ভাবনী নতুন পদ্ধতি খুঁজে বের করার’ আহ্বান জানিয়েছেন।
সূত্র : বাসস