যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ (ডিএইচএস) জানিয়েছে, বিদেশী শিক্ষার্থীদের ভিসা সংক্রান্ত তথ্য সরবরাহে ব্যর্থ হলে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদেশী শিক্ষার্থী ভর্তি করার অনুমোদন বাতিল করা হবে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে এটাই হার্ভার্ডের ওপর সর্বশেষ চাপ সৃষ্টির পদক্ষেপ বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বুধবার ডিএইচএসের সচিব ক্রিস্টি নোয়েম হার্ভার্ডকে ২.৭ মিলিয়ন ডলারেরও বেশি মূল্যের দুইটি ফেডারেল অনুদান বাতিলের ঘোষণা দিয়েছেন।

নোয়েম বলেন, হার্ভার্ডে অধ্যয়নরত বিদেশী শিক্ষার্থীদের ‘অবৈধ ও সহিংস কার্যক্রম’ সংক্রান্ত তথ্য ৩০ এপ্রিলের মধ্যে দিতে হবে। তা না হলে বিশ্ববিদ্যালয়টির বিদেশী শিক্ষার্থী ভর্তি করার সুযোগ বাতিল করা হবে।

এদিকে হার্ভার্ডের একজন মুখপাত্র বলেছেন, চিঠি ও অনুদান বাতিলের বিষয়টিতে বিশ্ববিদ্যালয় অবগত। কিন্তু তারা আগের অবস্থানেই অটল রয়েছে। আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে তারা স্বাধীনতা ও সাংবিধানিক অধিকার অক্ষুণ্ণ রাখতে চায়।

ইসরাইলি ভূখণ্ডে ২০২৩ সালের অক্টোবরে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের হামলার পর গাজায় মার্কিন মিত্র ইসরাইলের ধ্বংসাত্মক সামরিক হামলা শুরু করে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে ইসরাইলে আগ্রাসনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করছে। ট্রাম্প ক্ষমতা গ্রহণের পর ফিলিস্তিনপন্থী বিক্ষোভের জেরে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে ফেডারেল তহবিল হ্রাসের হুমকি দিয়েছে প্রশাসন।

ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, গাজায় ইসরাইলের সামরিক অভিযানের প্রতিবাদে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে অনুষ্ঠিত ফিলিস্তিনপন্থী বিক্ষোভ কার্যক্রম জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি এবং এগুলোর সাথে ‘ইহুদি-বিরোধিতা’ ও ’হামাস-সমর্থন’ জড়িত। যদিও আন্দোলনকারীরা বলছেন, তারা ফিলিস্তিনিদের অধিকারের পক্ষে অবস্থান নিচ্ছেন, যা কোনোভাবেই চরমপন্থা বা সন্ত্রাসবাদের সমর্থন নয়। আন্দোলনকারীদের মধ্যে অনেক ইহুদিও রয়েছেন।

প্রশাসন ইতোমধ্যেই কিছু বিদেশী আন্দোলনকারীর ভিসা বাতিল করেছে এবং কয়েকজনকে বহিষ্কারের উদ্যোগও নিয়েছে। নোয়েম বলেন, ‘৫৩.২ বিলিয়ন ডলারের তহবিলের মাধ্যমে হার্ভার্ড নিজেই বিশৃঙ্খলা চালাতে পারে, এতে ডিএইচএস সহযোগিতা করবে না।’ তিনি আরো অভিযোগ করেন, হার্ভার্ডে ‘যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী ও হামাসপন্থী মতাদর্শ’ প্রচলিত রয়েছে।

তবে হার্ভার্ড এর আগে বলেছে, তারা তাদের ক্যাম্পাসে ইহুদি-বিদ্বেষ এবং অন্যান্য কুসংস্কারের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য কাজ করেছে। একইসাথে অ্যাকাডেমিক স্বাধীনতা ও প্রতিবাদের অধিকার সংরক্ষণ করেছে।

সূত্র : রয়টার্স