মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, সম্ভাব্য পারমাণবিক চুক্তি নিয়ে শনিবার সরাসরি আলোচনা করবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীও বৈঠকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি এটিকে ’সুযোগের পাশাপাশি একটি পরীক্ষা’ বলে অভিহিত করেছেন।
সোমবার (৭ এপ্রিল) ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সাথে হোয়াইট হাউসে বৈঠকের পর ট্রাম্প এই আলোচনার কথা প্রকাশ করেন। তিনি এর আগে ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখতে আক্রমণের সম্ভাবনাও উত্থাপন করেছিলেন।
ইরানের সাথে সরাসরি আলোচনার বিষয়ে ট্রাম্প বলেন, আলোচনা ‘খুব উচ্চ পর্যায়ে’ হবে। একইসাথে তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, যদি কোনো চুক্তিতে পৌঁছানো না যায় তবে এটি ’ইরানের জন্য খুব খারাপ দিন’ হবে।
গত মাসে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনি সরাসরি আলোচনার প্রস্তাব প্রকাশ্যে প্রত্যাখ্যান করার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপের সম্ভাবনা উত্থাপন করেন।
ট্রাম্প ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলার সময় বলেন, ‘শনিবার ইরানের সাথে আমাদের একটি খুব বড় বৈঠক রয়েছে। আমরা তাদের সাথে সরাসরি আলোচনা করব এবং সম্ভবত একটি চুক্তি হতে চলেছে।’
ট্রাম্প পরে বলেন, আলোচনা সফল না হলে ইরান ‘বড় বিপদে’ পড়বে। তিনি বলেন, ‘ইরানের হাতে পারমাণবিক অস্ত্র থাকতে পারবে না এবং যদি আলোচনা সফল না হয় তাহলে আমি মনে করি এটি ইরানের জন্য খুব খারাপ দিন হবে।’
তবে আলোচনার বিষয়ে কোনো বিস্তারিত তথ্য দেননি ট্রাম্প। এছাড়া আলোচনা কতটা এগিয়েছে বা কোন কর্মকর্তারা এতে জড়িত সেসব বিষয়েও তিনি কিছু জানাননি।
ইরানের পক্ষ থেকেও বৈঠকের বিষয়ে নিশ্চিত করা হয়েছে। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি নিশ্চিত করেছেন, ওয়াশিংটন ও তেহরান ১২ এপ্রিল ওমানে বৈঠক করবে। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক বার্তায় বলেছেন, ‘এটি একটি সুযোগ এবং একটি পরীক্ষাও। বল যুক্তরাষ্ট্রের কোর্টে রয়েছে।’
এর আগে, ট্রাম্প গত মার্চ মাসে সংযুক্ত আরব আমিরাতের একজন মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে ইরানের নেতার কাছে একটি চিঠি পাঠিয়ে ছিলেন এবং পরমাণু ইস্যুতে আলোচনার জন্য তার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন। ইরান সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছিল। তবে ইরানের নেতৃত্ব তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সম্ভাব্য চুক্তি নিয়ে পরোক্ষ আলোচনা করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিল।
সূত্র : বিবিসি