দক্ষিণ আমেরিকার দেশ ইকুয়েডরে বিদেশী সামরিক ঘাঁটি পুনঃস্থাপনে জনগণের সম্মতি আছে কি না, তা যাচাই করতে গণভোটের আয়োজন করা হয়েছে। এতে দেশটির জনগণ ‘না’ ভোট বেশি দিয়েছেন।

রোববার (১৬ নভেম্বর) ইকুয়েডরে গণভোট অনুষ্ঠিত হয়। ভোট গণনা পুরোপুরি শেষ হয়নি। প্রায় ৯০ শতাংশ ব্যালটের গণনায় দেখা গেছে, প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ ভোটার এই প্রস্তাবের বিরুদ্ধে ’না’ ভোট দিয়েছেন।

গণভোটে বিদ্যমান সংবিধানের পুনর্লিখন নিয়েও প্রস্তাব ছিল। এতেও ৬১ শতাংশ ভোটার প্রস্তাবটি খারিজ করে দিতে ‘না’ ভোট দিয়েছেন।

রোববারের পরাজয় দেশটির প্রেসিডেন্ট ড্যানিয়েল নোবোয়ার জন্য একটি বড় ধাক্কা। তিনি বলেছিলেন, বিদেশী সহযোগিতা ও দেশের মাটিতে বিদেশী সামরিক ঘাঁটির উপস্থিতি ‘সংগঠিত অপরাধের’ বিরুদ্ধে লড়াইয়ের কেন্দ্রস্থল হিসেবে ভূমিকা রাখবে।

তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেয়া এক বার্তায় পরাজয় স্বীকার করে বলেন, ‘আমরা ইকুয়েডরের জনগণের ইচ্ছাকে সম্মান করি। আমাদের অঙ্গীকার পরিবর্তিত হবে না, বরং এটি আরো শক্তিশালী হবে। আপনারা যে দেশ পাওয়ার যোগ্য, সেই দেশ গড়তে আমরা নিরলসভাবে লড়াই চালিয়ে যাব।’

এই প্রত্যাখ্যানের ফলে মার্কিন সামরিক বাহিনী প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূলে মান্তা বিমানঘাঁটিতে ফিরে যেতে পারবে না। যা একসময় ওয়াশিংটনের মাদকবিরোধী অভিযানের কেন্দ্র ছিল। ইকুয়েডর ২০০৮ সালে তার মাটিতে বিদেশী সামরিক ঘাঁটি নিষিদ্ধ করে।

রোববারের গণভোটে ভোটারদের কাছে আরো জানতে চাওয়া হয়েছিল, ইকুয়েডরের রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য সরকারি তহবিল কমানো উচিত কি না এবং কংগ্রেসের আইনপ্রণেতার সংখ্যা ১৫১ জন থেকে কমিয়ে ৭৩ জন করা উচিত কি না। প্রাথমিক গণনায় দেখা গেছে, এই প্রস্তাব দুটিও বিশাল ব্যবধানে ব্যর্থ হয়েছে।

সূত্র : আল জাজিরা