রাশিয়ার সাথে সর্বশেষ পারমাণবিক চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার পর, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) একটি নতুন পারমাণবিক চুক্তির আহ্বান জানিয়েছেন। এতে বিশ্বজুড়ে নতুন করে অস্ত্র প্রতিযোগিতা শুরু হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

ট্রাম্প প্রশাসন বারবার নতুন একটি চুক্তিতে চীনকে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য চাপ দিচ্ছে।

তবে বেইজিং প্রকাশ্যে এই চাপ প্রত্যাখ্যান করেছে। চীনের পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডার বাড়ছে, তবে তা এখনো রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম।

২০১০ সালের নিউ স্টার্ট চুক্তির মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়ে রাশিয়ার আহ্বানের ব্যাপারে ট্রাম্প বেশিভাগ সময়ই নীরব ছিলেন। চুক্তিটি শীতল যুদ্ধের দশকের পর দশক ধরে চলা চুক্তির পর দু’টি বৃহত্তম পারমাণবিক শক্তিধর দেশের ওপর সর্বশেষ বিধি-নিষেধ আরোপ করেছিল।

তবে মেয়াদ শেষ হওয়ার কয়েক ঘণ্টা পরে ট্রাম্প বলেন যে, পূর্বসূরি বারাক ওবামা এই চুক্তি স্বাক্ষর করেছিলেন এবং জো বাইডেন মেয়াদ বাড়িয়েছিলেন।

তিনি বলেন, এ চুক্তিটি ‘খুবই দুর্বলভাবে করা হয়েছে’ এবং ‘চরমভাবে লঙ্ঘন করা হচ্ছিল’।

ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথে লিখেছেন, ‘আমাদের পারমাণবিক বিশেষজ্ঞদের একটি নতুন, উন্নত ও আধুনিকীকরণ চুক্তিতে কাজ করা উচিত, যা ভবিষ্যতে দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে।’

ওয়াশিংটন ও মস্কো কি নতুন চুক্তি নিয়ে আলোচনা চলাকালীন মেয়াদ শেষ হওয়া স্টার্ট চুক্তির শর্তাবলি মানবে কি-না, তা জানতে চাইলে হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ক্যারোলিন লিভিট বলেন, ‘আমার জানামতে তা নয়।’

রাশিয়া নতুন স্টার্ট চুক্তির আওতায় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। কারণ বাইডেন প্রশাসনের সাথে সম্পর্ক ক্রমেই খারাপ হচ্ছিল।

নতুন স্টার্ট নিয়ে অচলাবস্থা থাকা সত্ত্বেও, ট্রাম্প উৎসাহের সাথে রাশিয়ার সাথে কূটনীতি পুনরায় শুরু করেন এবং গত আগস্ট মাসে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে আলাস্কায় আমন্ত্রণ জানান।

যুক্তরাষ্ট্র বৃহস্পতিবার ঘোষণা করেছে যে, তারা ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে আবুধাবিতে হওয়া তিন পক্ষীয় আলোচনা শেষে রাশিয়ার সাথে সামরিক সংলাপ পুনরায় শুরু করছে।

সূত্র: বাসস