নাইজেরিয়ার মধ্যাঞ্চলের বিভিন্ন অংশে আকস্মিক বন্যায় কমপক্ষে ১১৫ জনের প্রাণহানি হয়েছে। কয়েক ডজন মানুষ এ ভয়াবহ বন্যায় আহত হয়েছেন। নিহতের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
শুক্রবার (৩০ মে) জরুরি পরিষেবা কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে নাইজেরিয়ার মোকওয়া থেকে এএফপি এ তথ্য জানিয়েছে।
বুধবার মধ্যরাত থেকে বৃহস্পতিবার ভোর পর্যন্ত টানা বৃষ্টিপাতের ফলে নাইজার রাজ্যের নাইজার নদীর তীরবর্তী মোকওয়া শহরের আশপাশের কয়েক ডজন বাড়িঘর ভেসে যাওয়ার পর উদ্ধারকারী দল নিখোঁজ বাসিন্দাদের সন্ধান অব্যাহত রাখে।
নাইজার রাজ্য জরুরি ব্যবস্থাপনা সংস্থার মুখপাত্র ইব্রাহিম আউদু হুসেইনি এএফপিকে বলেন, ‘আমরা এখন পর্যন্ত ১১৫ জনের লাশ উদ্ধার করেছি এবং আরো অনেককে উদ্ধার করা যাবে বলে মনে করা হচ্ছে। নাইজার নদীতে দূর থেকে আসা বন্যায় মানুষ ভেসে গেছে।’
তিনি আরো বলেন, ‘ভাটার ধারে এখনো লাশ উদ্ধার করা হচ্ছে। তাই, নিহতের সংখ্যা বাড়তেই থাকবে।’
১২ জনের একটি পরিবারের মাত্র চারজন সদস্যের সন্ধান পাওয়া গেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এখনো অনেকে নিখোঁজ রয়েছেন। ধসে পড়া বাড়ির ধ্বংসস্তূপ থেকে কিছু লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে লাশ উদ্ধারের জন্য খননকারী যন্ত্রের প্রয়োজন হবে।
রাজ্যের রেড ক্রসের প্রধান গিডিয়ন আদামু এএফপিকে জানান, কমপক্ষে ৭৮ জন আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
ডেইলি ট্রাস্ট সংবাদপত্র জানায়, হাজার হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে এবং একটি স্কুলের ৫০ জনেরও বেশি শিশু নিখোঁজ রয়েছে।
স্থানীয় গণমাধ্যম জানায়, পাঁচ হাজারের বেশি মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়েছে। অন্যদিকে রেড ক্রস জানায়, শহরের দু’টি বড় সেতু ভেঙে গেছে।
জাতীয় জরুরি ব্যবস্থাপনা সংস্থা (এনইএমএ) এটিকে ‘নজিরবিহীন বন্যা’ হিসেবে বর্ণনা করেছে। দুর্যোগ মোকাবেলায় সহায়তা করার জন্য পুলিশ ও সেনাবাহিনী মোতায়েনের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
সাধারণত ভারী বৃষ্টিপাত ও দুর্বল অবকাঠামোর কারণে সৃষ্ট বন্যা প্রতি বছর ধ্বংসযজ্ঞ চালায়। বন্যার কারণে পশ্চিম আফ্রিকার দেশটিতে শত শত মানুষ মারা যায়।
নাইজেরিয়ার আবহাওয়া সংস্থা বুধবার থেকে শুক্রবারের মধ্যে নাইজার রাজ্যসহ নাইজেরিয়ার ৩৬টি রাজ্যের মধ্যে ১৫টিতে আকস্মিক বন্যার সতর্কতা জানিয়েছে।
সূত্র : বাসস