সম্প্রতি, ‘ময়মনসিংহে ধর্ষণের পর হত্যা।’ শীর্ষক শিরোনামে একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে।
এ দাবিতে ফেসবুকে প্রচারিত কিছু পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ), এখানে(আর্কাইভ)।
রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনা দাবিতে প্রচারিত এই ভিডিওটি বাংলাদেশের নয় বরং, এটি ভারতের ভিন্ন ঘটনার ভিডিও।
এ বিষয়ে অনুসন্ধানের শুরুতে ভিডিওটির কিছু কি-ফ্রেম রিভার্স ইমেজ সার্চ করে ভারতীয় গণমাধ্যম ‘INDIA TV NEWS Bihar Jharkhand’-এর ইউটিউব চ্যানেলে গত ১৫ মার্চ ‘পূর্ণিয়া জেলার ডগরুয়া থানা এলাকায় ভুট্টা ক্ষেতে লাশ পাওয়ার পর এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে।’ (অনূদিত) শীর্ষক শিরোনামে প্রচারিত একটি ভিডিও খুঁজে পাওয়া যায়। ওই ভিডিওর সাথে আলোচিত ভিডিওটির মিল রয়েছে।
ভিডিওটির বর্ননায় বলা হয়, পূর্ণিয়া জেলার ডাগারুয়া থানা এলাকায় ভুট্টা ক্ষেতে লাশ পাওয়ার ঘটনা ঘটে। বারসাউনি টোল ট্যাক্সের কাছে একটি ভুট্টা ক্ষেতে মেয়ের লাশ পাওয়া যায়। মেয়েটি প্রতিদিন তার বাড়ি থেকে সেলাই মেশিনে কাজ করতে যেত। গত ১৫ মার্চ (বৃহস্পতিবার) বেলা ১১টা থেকে হঠাৎ করেই সে নিখোঁজ হয়ে যায়। অনেক তল্লাশি করে কোথাও কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। গ্রামবাসীরা যখন খোঁজাখুঁজি করে, তখন ভুট্টা ক্ষেতে একটি মেয়ের লাশ পাওয়া যায়। ডাগারুয়া থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশটিটি তাদের হেফাজতে নেয় এবং ময়নাতদন্তের জন্য পূর্ণিয়ায় পাঠায়।
ওই পোস্ট থেকে প্রাপ্ত তথ্যের সূত্র ধরে প্রাসঙ্গিক কি-ওয়ার্ড সার্চ করলে ভারতীয় গণমাধ্যম হিন্দুস্তান-এর ওয়েবসাইটে গত ১৫ মার্চ ‘সেলাই শিখতে বাড়ি থেকে বেরিয়েছিলেন, ভুট্টা ক্ষেতে পাওয়া গেল ১৮ বছর বয়সী এক তরুণীর লাশ’ (অনূদিত) শীর্ষক শিরোনামে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন খুঁজে পাওয়া যায়।
ওই প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, বিহারের পূর্ণিয়া জেলার একটি ভুট্টা ক্ষেত থেকে এক তরুণীর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। নিহতের নাম রেশমা, বয়স ১৮ বছর। তিনি ডাগরুয়া থানার হরখেলি পঞ্চায়েতের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের চাঁদভাটি গ্রামের বাসিন্দা মানাওয়ারের মেয়ে। ঘটনাটি ঘটেছে ডগরুয়া থানা এলাকার হরখেলি পঞ্চায়েতের ১৪ নম্বর ওয়ার্ড সোনপুর তোলা টাওয়ারের কাছে। প্রতিদিনের মতো বৃহস্পতিবারও (১৫ মার্চ) মেয়েটি সেলাই ও সূচিকর্ম শিখতে বাড়ি থেকে বেরিয়েছিল, কিন্তু সন্ধ্যা পর্যন্ত বাড়ি ফিরে আসেনি।
অর্থাৎ, প্রচারিত ভিডিওর ঘটনাটি ভারতের। তবে ভারতের এই ঘটনার ধর্ষণের কোনো বিষয় আছে কিনা সে বিষয়ে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
সুতরাং, ভারতের ভিন্ন ঘটনার ভিডিওকে বাংলাদেশে ধর্ষণের পর হত্যার দৃশ্য দাবিতে প্রচার করা হয়েছে; যা মিথ্যা।