জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যানকে অপসারণের দাবিতে আজ সোমবার থেকে চার ঘণ্টার কলম বিরতি কর্মসূচি পালন করবে প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা।

গত শনিবার (২১ জুন) আগারগাঁওয়ের এনবিআর ভবনে সংবাদ সম্মেলনে এ কর্মসূচি ঘোষণা করে এনবিআর সংস্কার ঐক্য পরিষদ।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, সোমবার ঢাকার সব দফতরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত এনবিআরে অবস্থান কর্মসূচি ও কলম বিরতি এবং অন্যান্য দফতরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা স্ব-স্ব দফতরে সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত অবস্থান কর্মসূচি ও কলম বিরতি পালন করবেন।

এদিকে, এনবিআরে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কলম বিরতি চলার মধ্যে আয়কর অনুবিভাগের পাঁচ কর্মকর্তাকে ‘তাৎক্ষণিক বদলি’ করা হয়েছে। গতকাল রোববার (২২ জুন) কর প্রসাশনের প্রথম সচিব মো: মোসাদ্দেক হাসানের স্বাক্ষরিত আদেশ সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

এর মধ্যে দু’জন আয়কর গোয়েন্দা ও তদন্ত ইউনিটের, একজন এনবিআর বোর্ড অফিসের এবং বাকি দু’জন ঢাকা ও কুমিল্লার কর অঞ্চলের। এনবিআর চেয়ারম্যানের অপসারণ দাবিতে চলমান আন্দোলনের মধ্যে রোববার এ বদলির সিদ্ধান্ত নিয়ে নতুন করে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।

কর প্রশাসনের আদেশে বলা হয়, উপ-কর কমিশনার শাহ মোহাম্মদ ফজলে এলাহীকে আয়কর গোয়েন্দা থেকে বদলি করে ময়মনসিংহ কর অঞ্চলে পাঠানো হয়েছে।

উপ-কর কমিশনার মোহাম্মদ শিহাবুল ইসলামকে ঢাকার কর অঞ্চল-১৬ থেকে থেকে খুলনা কর অঞ্চলে এবং উপ-কর কমিশনার মো: আব্দুল্লাহ ইউসুফকে বোর্ড থেকে সরিয়ে বদলি করা হয়েছে বগুড়া কর অঞ্চলে।

উপ-কর কমিশনার ইমাম তৌহিদ হাসান শাকিলকে আয়কর গোয়েন্দা থেকে কুমিল্লা কর অঞ্চলে এবং উপ-কর কমিশনার নুসরাত জাহান শমীকে কুমিল্লা কর অঞ্চল থেকে রংপুর কর অঞ্চলে পাঠানো হয়েছে।

আদেশে বলা হয়েছে, তাদের নতুন কর্মস্থলে মঙ্গলবার বা তার আগেই যোগ দিতে হবে এবং সোমবার বর্তমান কর্মস্থলে দায়িত্ব হস্তান্তর করতে হবে।

এর আগে, গত মে মাসে এনবিআর দুই ভাগ করে রাজস্ব ব্যবস্থাপনা ও রাজস্ব নীতি নামে দু’টি স্বতন্ত্র বিভাগ করে অধ্যাদেশ জারির পর তা বাতিলের দাবিতে কলম বিরতিসহ নানা কর্মসূচিতে আন্দোলনে নামেন এনবিআরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

তাদের আন্দোলনের মধ্যে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়, অধ্যাদেশ বাস্তবায়নে এনবিআর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সাথে আলোচনা করা হবে। এরপর কাজে যোগ দিলেও আন্দোলনকারীরা এনবিআর চেয়ারম্যানের পদত্যাগের দাবিতে অটল থাকেন এবং সংস্থার কার্যালয়ে তাকে ‘অবাঞ্ছিত’ ঘোষণা করেন।

পরে সেনাবাহিনী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কড়া নিরাপত্তায় অফিসে ফেরেন এনবিআর চেয়ারম্যান।