পণ্যের মান নিয়ন্ত্রণে চট্টগ্রামে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশনের (বিএসটিআই) বিভাগীয় কার্যালয়ের পূর্ণাঙ্গ পরীক্ষাগার (ল্যাব) চালু হচ্ছে আগামীকাল শনিবার।

শুক্রবার (২৭ জুন) বিএসটিআই চট্টগ্রাম কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ গোলাম রাব্বানি এ তথ্য জানান।

জানা গেছে, কষ্ট, সময় ও অর্থ বাঁচাতে চট্টগ্রামের ব্যবসায়ীরা চট্টগ্রামে একটি পূর্ণাঙ্গ ল্যাব স্থাপনের জন্য দীর্ঘদিন ধরে দাবি জানিয়ে আসছিলেন।

এটি চালু হওয়ার ফলে ব্যবসায়ীদের দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ হতে যাচ্ছে। এতদিন আমদানিকৃত বা দেশে উৎপাদিত পণ্যের গুণগত মান ঠিক আছে কিনা তা ল্যাব পরীক্ষার জন্য ঢাকায় বিএসটিআই ল্যাবে পাঠাতে হতো। এতে সময় ক্ষেপণ, পরিশ্রম, আর্থিক ব্যয় বৃদ্ধিসহ নানা জটিলতা ও ভোগান্তিতে পড়তে হতো ব্যবসায়ীদের।

এ বিষয়ে ব্যবসায়ীরা বলছেন, চট্টগ্রামে পূর্ণাঙ্গ মান নিয়ন্ত্রণ ল্যাব স্থাপন হওয়ায় দীর্ঘদিনের দুঃখ এবার ঘুচছে। পণ্যের গুণগত মান ঠিক আছে কি না সেটি পরীক্ষা করে প্রতিবেদন দিতে অনেক সময় নষ্ট হতো। ফলে ব্যবসায়ীরা লোকসানের ঝুঁকিতে থাকতেন। কারণ তাদের গুণগত মান সংক্রান্ত প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করেই পণ্য উৎপাদন থেকে শুরু করে বাজারজাতকরণ পর্যন্ত সবকিছু নির্ভর করে। চট্টগ্রামে আধুনিক ও পূর্ণাঙ্গ ল্যাব না থাকার কারণে পরীক্ষা নিরীক্ষার জন্য ঢাকার ওপর নির্ভর করতে হতো চট্টগ্রামের ব্যবসায়ীদের। এতে ব্যবসায়ীদের সময় ও অর্থের অপচয় হতো। এখন থেকে তা আর করতে হবে না।

বিএসটিআই চট্টগ্রাম কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ গোলাম রাব্বানি জানান, বিএসটিআই এর নতুন ভবনে স্থাপন করা হচ্ছে অত্যাধুনিক পূর্ণাঙ্গ ল্যাবরেটরি। ইতোমধ্যে ল্যাবের মেশিন চলে এসেছে। এগুলো স্থাপন করা হচ্ছে। একই সাথে জনবল নিয়োগের প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে। এখন থেকে কাউকে আর পরীক্ষার জন্য ঢাকার ওপর নির্ভরশীল হতে হবে না। সব পরীক্ষা চট্টগ্রামেই হবে।

চট্টগ্রামের আগ্রাবাদ জাম্বুরী মাঠের কাছেই বিএসটিআইয়ের নবনির্মিত দশতলা ভবনে স্থাপন করা হয়েছে পূর্ণাঙ্গ পরীক্ষাগার। আগের ল্যাবে ৯২টি পরীক্ষা সম্পন্ন করা হতো। এখন বাধ্যতামূলক ও তালিকাভুক্ত সব পণ্যের পরীক্ষা হবে চট্টগ্রামেই।

বিএসটিআই দেশে উৎপাদিত শিল্পপণ্য, বৈদ্যুতিক ও প্রকৌশল পণ্য, খাদ্য ও কৃষিজাত পণ্যসহ মোট ৩১৫টি পণ্য নজরদারি করছে। নতুন ল্যাবে পানি, গুঁড়ো দুধের মেলামিন, ফায়ার এক্সটিংগুইসারের মান, ত্বকের বিভিন্ন প্রসাধনী, ইলেকট্রিক মিটারের মান, লেখা এবং ছাপাখানার কাগজ পরীক্ষা এবং শিশু খাদ্য, টাইলস, সয়াবিন ও সূর্যমুখী তেল, কলম, সস, জুস, টুথপেস্ট, শ্যাম্পু, পেনসিল, চকলেট, মেটার মেলামিন, এন্টিবায়েটিক রেসিডু, স্বর্ণের বিশুদ্ধতা নির্ণয় করা হবে।

অন্যদিকে নতুন ৩১টি মেশিনের মাধ্যমে সকল ধরনের পেট্রোলিয়াম পণ্যের পরীক্ষা করাও সম্ভব হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।