খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ ও প্যাকেজিং প্রযুক্তিবিষয়ক তিন দিনব্যাপী ১১তম বাপা ফুডপ্রো ইন্টারন্যাশনাল এক্সপো ২০২৬ শুরু হচ্ছে আগামী বৃহস্পতিবার। রাজধানীর ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় (আইসিসিবি) এ প্রদর্শনী চলবে ১২ সেপ্টেম্বর শনিবার পর্যন্ত। এবারের আসরে ২৭ দেশের দুই শতাধিক ব্র্যান্ড অংশ নেবে। আসছেন দেড় শতাধিক বিদেশী বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের উদ্যোক্তা। মেলায় বিভিন্ন খাদ্যপণ্য প্রদর্শনের পাশাপাশি কারিগরি অধিবেশন, সেমিনার ও ব্যবহারিক কার্যক্রমে এ খাতের শিল্পোদ্যোক্তা, বিশেষজ্ঞ ও প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিনিধিরাও অংশ নেবেন।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর সোবহানবাগে অবস্থিত বাপার কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান আয়োজকরা। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বাপার সভাপতি মাহবুব আনাম, সাধারণ সম্পাদক ছৈয়দ মুহাম্মদ শোয়াইব হাছান, এক্সপো আয়োজক কমিটির চেয়ারম্যান ও প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী আহসান খান চৌধুরী, বাপার কোষাধ্যক্ষ মিনহাজ আহমেদসহ বাপার অন্যান্য সদস্য।
বাংলাদেশ এগ্রো-প্রসেসরস অ্যাসোসিয়েশন (বাপা) এবং রেইনবো এক্সিবিশন অ্যান্ড ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট সার্ভিসেস লিমিটেড (রিমস) যৌথভাবে প্রদর্শনীটি আয়োজন করছে।
সংবাদ সম্মেলনে আয়োজকেরা জানান, তিন দিনব্যাপী এ প্রদর্শনী ১০ ও ১১ সেপ্টেম্বর সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত এবং ১২ সেপ্টেম্বর সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা পর্যন্ত সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে। তিন দিনে প্রদর্শনীতে ২৪ হাজারের বেশি দর্শনার্থীর সমাগম হবে বলে আশা করছেন আয়োজকরা।
অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলো প্রক্রিয়াজাতকরণ, ফিলিং, প্যাকেজিং, কোডিং ও মার্কিং, লেবেলিং, মান পরিদর্শন, গুদামজাতকরণ, কোল্ড চেইন এবং লজিস্টিকসের আধুনিক প্রযুক্তি প্রদর্শন করবে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর অটোমেশন, মেশিন ভিশন, রোবোটিকস, স্মার্ট ফ্যাক্টরি, ইন্ডাস্ট্রিয়াল আইওটি, আধুনিক প্রক্রিয়াজাতকরণ যন্ত্রপাতি এবং টেকসই প্যাকেজিং উপকরণ ও নকশা এবারের প্রদর্শনীতে বিশেষ গুরুত্ব পাবে। পাশাপাশি চার হাজারের বেশি প্রযুক্তি ও যন্ত্রপাতিভিত্তিক সমাধান উপস্থাপন করা হবে।
এবার অংশগ্রহণকারী বিদেশী দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে আলজেরিয়া, অস্ট্রেলিয়া, চীন, ফ্রান্স, জার্মানি, হংকং, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, ইরান, ইতালি, জাপান, মালয়েশিয়া, নেদারল্যান্ডস, পাকিস্তান, পোল্যান্ড, সিঙ্গাপুর, দক্ষিণ কোরিয়া, শ্রীলঙ্কা, সুইজারল্যান্ড, তাইওয়ান, থাইল্যান্ড, তুরস্ক, স্পেন, সুইডেন, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্র।
এ সময় বাপার সভাপতি মাহবুব আনাম বলেন, দেশের কৃষিপণ্য ও খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের উন্নয়নে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই প্রদর্শনী উদ্যোক্তাদের নতুন প্রযুক্তির সাথে পরিচয় করিয়ে দেয়ার পাশাপাশি বিনিয়োগ, উৎপাদন ও রফতানি সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠার পর থেকে বাপা দেশ ও বিদেশে নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে কাজ করছে। এই মেলার মাধ্যমে আমরা এ ক্ষেত্রে আমাদের সক্ষমতা জানান দিতে চাই। পাশাপাশি দেশের এ খাতের সম্ভাবনা বিশ্ববাসীর কাছে তুলে ধরতে চাই।
এক্সপো আয়োজক কমিটির চেয়ারম্যান ও প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী আহসান খান চৌধুরী বলেন, বর্তমান ব্যবসায়িক অনিশ্চয়তা শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোকে দ্রুত প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়াতে উৎসাহিত করছে। উৎপাদন ও প্রক্রিয়াজাতকরণ থেকে প্যাকেজিং, গুদামজাতকরণ ও লজিস্টিকস পর্যন্ত দক্ষতা বৃদ্ধি এবং টেকসই কার্যক্রম গড়ে তুলতে এ আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
তিনি বলেন, এ মেলায় বিদেশী প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশের জন্য উপযুক্ত প্রযুক্তি প্রদর্শন করবে। পাশাপাশি আমরা তাদের কাছে আমাদের সক্ষমতা তুলে ধরবো। আমরা চাই, ভোক্তা সাধারণ, নতুন উদ্যোক্তা, ছোট-বড় ব্যবসায়ী—সবাই এ মেলায় আসবেন। এ সেক্টরে অন্যরা কী করছে, একে অন্যের জন্য কী সহায়তা প্রয়োজন, সেটা দেখবেন। দেশের নিয়ন্ত্রক সংস্থার প্রতিনিধিরাও আসবেন। আমাদের সম্ভাবনা ও সীমাবদ্ধতা সম্পর্কে ধারণা নেবেন।
সাধারণ সম্পাদক ছৈয়দ মুহাম্মদ শোয়াইব হাছান বলেন, মেলায় কারিগরি অধিবেশন, সেমিনার ও ব্যবহারিক কার্যক্রমে এ খাতের শিল্পোদ্যোক্তা, বিশেষজ্ঞ ও প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিনিধিরাও অংশ নেবেন। এগ্রো প্রসেসিং, ফাইন্যান্সিং, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, সিইও সেশন, বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতিতে ব্যবসা-বাণিজ্য নিয়ে সেমিনার ও সেশন থাকবে।