৩৬ জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বার্ষিকী উপলক্ষে রাজধানীর তানযীমুল উম্মাহ আলিম মাদরাসায় ‘দ্রোহের জুলাই’ শীর্ষক এক বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (৫ আগস্ট) আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদ ও আহত যোদ্ধাদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানানো হয়। একই সঙ্গে স্বাধীনতা, দেশপ্রেম, আত্মত্যাগ ও গণঅধিকার প্রতিষ্ঠার চেতনাকে নতুন প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন বক্তারা।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন তানযীমুল উম্মাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান হাবীবুল্লাহ মুহাম্মাদ ইকবাল। বিশেষ অতিথি ছিলেন ফাউন্ডেশনের ভাইস চেয়ারম্যান ও তানযীমুল উম্মাহ আলিম মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা প্রিন্সিপাল ড. আব্দুল্লাহ আল মামুন।
প্রতিষ্ঠানের কো-অর্ডিনেটর দেলোয়ার হোসেনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন তানযীমুল উম্মাহ ফাউন্ডেশনের পরিচালক এবং প্রতিষ্ঠানের ভারপ্রাপ্ত প্রিন্সিপাল এইচ এম আব্দুল্লাহ আল মামুন। উদ্বোধনী বক্তব্য রাখেন সাবেক তানযীমিয়ান ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানে দৃষ্টিশক্তি হারানো গাজী সাইফ আরিফিন রাহাত। তিনি জুলাই আন্দোলনের স্মৃতিচারণ করে বলেন, আত্মত্যাগের ইতিহাস নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরতে হবে, যাতে ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ ন্যায়, মানবিকতা ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের ভিত্তিতে গড়ে ওঠে।
ড. আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান কেবল একটি আন্দোলনের নাম নয়; এটি গণমানুষের অধিকার, আত্মমর্যাদা এবং ন্যায়ের পক্ষে আপসহীন অবস্থানের প্রতীক। শহীদদের আত্মত্যাগ এবং আহত যোদ্ধাদের অবদান জাতি চিরদিন শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে। নতুন প্রজন্মকে সেই ইতিহাস জানানো এবং দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করাই এ ধরনের আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য।
অনুষ্ঠানের সাংস্কৃতিক পর্বে পরিবেশিত হয় বিদ্রোহী ও দেশাত্মবোধক গান, জুলাইভিত্তিক কবিতা আবৃত্তি এবং একক অভিনয়। প্রতিটি পরিবেশনায় উঠে আসে সংগ্রাম, ত্যাগ, সাহস ও বিজয়ের অনুপ্রেরণামূলক চিত্র, যা উপস্থিত দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলে। শিক্ষার্থীদের পরিবেশনা অনুষ্ঠানে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি করে।
রক্তাক্ত জুলাই উপলক্ষে আয়োজিত হস্তলিপি প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন অতিথিরা। তারা শিক্ষার্থীদের সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে আরও বেশি সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানান এবং শিক্ষা, সংস্কৃতি ও নৈতিক মূল্যবোধ চর্চার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
অনুষ্ঠানে প্রতিষ্ঠানের সকল পর্যায়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী, বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী এবং অভিভাবক উপস্থিত ছিলেন। আয়োজনটি দেশপ্রেম, ইতিহাসচর্চা ও সাংস্কৃতিক চেতনা বিকাশে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশা প্রকাশ করেন আয়োজকরা।