রাজধানীর ইস্টার্ন প্লাজা মার্কেট জামে মসজিদে সীরাত প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার জুমার নামাজের পর আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রতিযোগিতায় কৃতিত্বের স্বাক্ষর রাখা সেরা পাঁচ বিজয়ীর হাতে পুরস্কার তুলে দেন মসজিদ কমিটির নেতৃবৃন্দ ও অনুষ্ঠানের অতিথি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. রেজাউল হুসাইন।

অনুষ্ঠানে ইস্টার্ন প্লাজা মার্কেট জামে মসজিদের খতিব মুফতি নিজাম বিন মুহিব বলেন, ‘মহানবী হজরত মুহাম্মদ সা:-এর জীবন ও আদর্শ শুধু জানার বিষয় নয়, বরং তা আমাদের জীবনে বাস্তবায়নের বিষয়। সাধারণ মানুষের মাঝে প্রিয় নবীর সীরাতের শিক্ষা ছড়িয়ে দিতে এ ধরনের আয়োজন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’

তিনি বলেন, ‘আমরা চাই, প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়া প্রত্যেকেই সীরাতের জ্ঞান অর্জনের পাশাপাশি নবিজির আদর্শকে পরিবার, সমাজ ও ব্যক্তিজীবনে বাস্তবায়নের চেষ্টা করবেন। ভবিষ্যতেও এ ধরনের ব্যতিক্রমী আয়োজন অব্যাহত থাকবে, ইনশা আল্লাহ।’

মুফতি নিজাম বিন মুহিব আরও বলেন, ‘প্রতিযোগিতাটিকে শুধু একটি পরীক্ষায় সীমাবদ্ধ না রেখে অংশগ্রহণকারীদের সিরাত সম্পর্কে ধারাবাহিকভাবে পড়াশোনার সুযোগ করে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। এ লক্ষ্যে প্রত্যেক প্রতিযোগীর জন্য মহানবী সা:-এর জীবনী ও সিরাতভিত্তিক ৩১৩টি প্রশ্ন ও উত্তর সম্বলিত একটি শিট প্রস্তুত করা হয়। প্রতিযোগিতার আগে প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে অংশগ্রহণকারীদের এসব প্রশ্ন ও উত্তর পড়া ও মুখস্থ করার সুযোগ দেওয়া হয়। এরপর ১০০ নম্বরের এমসিকিউ পদ্ধতিতে মূল প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।’

এর আগে বৃহস্পতিবার মাগরিবের নামাজের পর অনুষ্ঠিত হয় প্রতিযোগিতার মূল পর্ব। আলেমদের পাশাপাশি সর্বস্তরের সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত এ আয়োজনে সিরাত জানার প্রতি ছিল ব্যাপক আগ্রহ। এতে মোট ৪১ জন প্রতিযোগী স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন। ৩১৩টি প্রশ্ন ও উত্তরের প্রস্তুতি শেষে ১০০ নম্বরের এমসিকিউ পরীক্ষায় অংশ নেন তারা। ফলাফলের ভিত্তিতে সেরা পাঁচজনকে বিজয়ী হিসেবে নির্বাচিত করে পুরস্কৃত করা হয়।

আয়োজকরা জানান, সাধারণ মানুষের অন্তরে প্রিয় নবী হজরত মুহাম্মদ সা:-এর জীবন ও আদর্শের প্রতি গভীর অনুরাগ সৃষ্টি করাই এ আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য। প্রতিযোগিতার জন্য নির্ধারিত ৩১৩টি প্রশ্ন ও উত্তর অংশগ্রহণকারীদের সীরাতের বিভিন্ন দিক সম্পর্কে জানার পাশাপাশি নিয়মিত পড়াশোনার সুযোগ তৈরি করেছে। এতে ৪১ জনের অংশগ্রহণ সাধারণ মানুষের মধ্যে সীরাতচর্চার আগ্রহেরই বহিঃপ্রকাশ।

তাদের মতে, এ প্রতিযোগিতার প্রকৃত সাফল্য শুধু পাঁচজন বিজয়ীর পুরস্কারপ্রাপ্তির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বরং ৪১ জন মানুষের হৃদয়ে বিশ্বনবী হজরত মুহাম্মদ সা:-এর জীবন, আদর্শ ও সীরাতকে নতুন করে জানার এবং তা অনুসরণের যে আগ্রহ সৃষ্টি হয়েছে, সেটিই এ আয়োজনের বড় অর্জন।

আয়োজকদের প্রত্যাশা, এ আয়োজনের মাধ্যমে প্রতিযোগীসহ সর্বস্তরের মানুষের হৃদয়ে মহানবী সা:-এর সিরাত ও আদর্শের যে আলো প্রজ্বলিত হয়েছে, তা ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজজীবনে অনুসরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে উঠবে।