এসআরডিআই’র সেমিনারে মৃত্তিকা বিজ্ঞানীরা
ব্যালেঞ্চ ফার্টিলাইজারে খরচ কম,উৎপাদন বেশি
মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউটের (এসআরডিআই) ভবনে আয়েঅজিত ‘অম্লীয় মৃত্তিকা ব্যবস্থাপনা’ শীর্ষক সেমিনারে এসব তথ্য উঠে আসে।
স্থান
ঢাকা মহানগরী
নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার কৃষক মোশাররফ হোসেন। গত অর্থবছরে ৩৩ শতাংশ বা এক বিঘা জমিতে বারি টমেটো-৭ লাগিয়েছিলেন। টমেটো চাষাবাদে তিনি এক বিঘা জমিতে ইউরিয়া সার ৫০ কেজি, টিএসপি ৫০ কেজি,এমওপি ৩৩ কেজি,জিপসাম ১৩ কেজিসহ বিভিন্ন রকম সার ব্যবহার করেন। এতে তার খরচ হয় ৫ হাজার ৯৬৪ টাকা। মোশাররফ হোসেনের আরেকটি এক বিঘা জমিতে সুষম সার প্রয়োগ করে টমেটো চাষ করা হয়। এতে খরচ হয় ৪ হাজার ৫৫ টাকা। অর্থাৎ একই পরিমাণ জমিতে সুষম সার ব্যবহারে কৃষকের খরচ কম লেগেছে এক হাজার ৯০৯ টাকা। মৃত্তিকা বিজ্ঞানীরা বলছেন, জমিতে ব্যালেন্স ফার্টিলাইজার (সুষম মাত্রায় সার) প্রয়োগে উৎপাদন বৃদ্ধি পায়, তেমনি কৃষকের খরচও অনেক কম লাগে।
শনিবার রাজধানীর খামারবাড়ির মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউটের (এসআরডিআই) ভবনে আয়েঅজিত ‘অম্লীয় মৃত্তিকা ব্যবস্থাপনা’ শীর্ষক সেমিনারে এসব তথ্য উঠে আসে।
এসআরডিআই-এর অধিন ‘রাজশাহী ও রংপুর বিভাগসহ মধুপুর গড় অঞ্চলের অম্লীয় মৃত্তিকা ব্যবস্থাপনা এবং টেকসই ফসল উৎপাদন ও মাটির উর্বরতা বৃদ্ধির জন্য ক্লাইমেট স্মার্ট এগ্রিকালচার প্রযুক্তি ব্যবহার’ কর্মসূচি এই সেমিনারের আয়োজন করে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (পিপিসি) ড. মো: মাহমুদুর রহমান। এসআরডিআই-এর মহাপরিচালক ড. সামিয়া সুলতানার সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের মৃত্তিকা বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মো: মিজানুর রহমান, শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. সাইফুল ইসলাম ভুইয়া ও এসআরডিআই-এর রাজশাহী বিভাগীয় মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা আমীর মো: জাহিদ। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন এসআরডিআই-এর প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও কর্মসূচি পরিচালক ড. মো: নূরুল ইসলাম।
সেমিনারে বলা হয়, বাংলাদেশে মোট ৮৫ লাখ হেক্টর জমির মাটি অম্লধর্মী। এর মধ্যে প্রায় ৩৯ লাখ হেক্টর জমির মাটি অতিমাত্রায় অম্লধর্মী হিসেবে শনাক্ত হয়েছে। এই অম্লতা কৃষি উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
এসআরডিআই-এর ২০২০ সালের গবেষণায় দেখা যায়, ১৯৯৮ সালে অতিমাত্রায় অম্লধর্মী মাটির জমি ছিল প্রায় ৩৪ লাখ ৯১ হাজার হেক্টর। ১২ বছর পর ২০১০ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় ৩৯ লাখ ৫৭ হাজার ৫৩৯ হেক্টরে। ২০২০ সালে এটি কিছুটা কমে হয় ৩৯ লাখ ২১ হাজার ৯৯৩ হেক্টর। আস্তে আস্তে এসব জমি অবশ্য ফসলি জমি হয়ে উঠছে। ১৯৯৮ সালে ক্রপ ল্যান্ড ছিল ২৮.২৩ শতাংশ, ২০১০ সালে তা হয় ৪১.২৩ শতাংশ এবং ২০২০ সালে এসে তা ৪৫.৬৭ শতাংশে দাড়ায়। অতিমাত্রায় অম্লতাযুক্ত মাটিতে ফসল ভাল হয় না। অধিক ফসল উৎপাদনের জন্য মাটির অম্লতা কমাতে হবে। বাংলাদেশে মাটির এই অম্লতা কমাতে পর্যাপ্ত চুনের ব্যবহার করতে হয়। সেমিনারে জানানো হয়, দেশে প্রায় ৭ লাখ টন চুনের চাহিদা। এর মধ্যে ২ লাখ টন আমদানি করতে হয়।