জাতীয় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলকে একটি পরিবেশবান্ধব এবং টেকসই ‘গ্রিন ইকোনমিক জোন’ হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছে। ফেনী অংশে সোনাগাজী উপজেলায় চার শ’ একর জমিতে এক থেকে দু’ শ’ মেগাওয়াট ক্ষমতার সৌর ফটোভোল্টেইক এবং ব্যাটারি এনার্জি স্টোরেজ সিস্টেম সমন্বিত একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে। এই প্রকল্পটি হবে বাংলাদেশে বাস্তবায়িত প্রথম সৌর বিদ্যুৎ প্রকল্প।

রোববার এই প্রকল্প বাস্তবায়নে বেজা ও এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক-এর চুক্তি স্বাক্ষর হয়। এডিবি থেকে যে সহায়তা পাওয়া যাবে তার মধ্যে রয়েছে-প্রকল্প সম্ভাব্যতা যাচাই, আর্থিক মডেলিং, পরিবেশ প্রভাব সমীক্ষা ও আইনগত মূল্যায়ন এবং বেসরকারি অংশীদার নির্বাচনের জন্য টেন্ডার সহায়তা।

আগারগাঁওস্থ বেজা কার্যালয়ে গতকাল পিপিপি পদ্ধতিতে কারিগরি সহায়তা প্রদানের জন্য বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা) এবং এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) টানজেকশন এডভাইজরি সার্ভিসেস এগ্রিমেন্ট (টেসা) স্বাক্ষরিত হয়েছে।

এছাড়াও এ বিষয়ে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি)-এর সাথে উভয় পক্ষের একটি সারসংক্ষেপ স্বাক্ষরিত হয়। বেজা’র নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুনের সভাপতিত্বে আয়োজিত এ চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন এডিবির কান্ট্রি ডিরেক্টর হো ইউন জিয়ং। এছাড়া সভায় অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ, বিদ্যুৎ বিভাগ, বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (ইচউই), পিপিপি কর্তৃপক্ষের প্রতিনিধিগণ উপস্থিত ছিলেন।

বেজা জানায়, এই চুক্তির আওতায় জাতীয় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের ফেনী অংশে সোনাগাজী উপজেলায় এই প্রকল্পটি হবে বাংলাদেশে বাস্তবায়িত প্রথম সৌর বিদ্যুৎ প্রকল্প। যা পাবলিক–প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) কাঠামোতে পরিচালিত হবে। সম্প্রতি প্রকাশিত নবায়নযোগ্য জ্বালানি নীতি-২০২৫ অনুসরণে এই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে। যা দেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানির উৎপাদন বৃদ্ধিতে বিশেষ ভূমিকা রাখবে।

বেজা’র নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন বলেন, এই প্রকল্পটি বেজা তথা বাংলাদেশ সরকারের জন্য একটি মাইলফলক হতে যাচ্ছে। এটি পিপিপি কাঠামো অনুসরণে দেশের প্রথম সোলার প্রকল্প। যা অর্থনৈতিক অঞ্চলে বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, এই উদ্যোগকে সফলভাবে বাস্তবায়নের উদ্দেশে এডিবি -কে সম্পৃক্ত করার পাশাপাশি আন্তমন্ত্রণালয় সমন্বয়ের জন্য বিশেষ কমিটি গঠিত হয়েছে। তিনি এডিবিকে প্রকল্পটি দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় সমীক্ষা সমাপ্ত করে বিভিন্ন দেশী-বিদেশী বিনিয়োগকারীগণের সামনে তুলে ধরার জন্য অনুরোধ করেন।

এডিবি’র কান্ট্রি ডিরেক্টর হো ইউন জিয়ং বলেন, এই প্রকল্পটি বাংলাদেশের জন্য একটি নূতন মানদণ্ড তৈরি করবে। যেখানে এদেশে প্রথমবারের মতো ব্যাটারি স্টোরেজ সিস্টেম অন্তর্ভূক্ত করা হবে।

তিনি বলেন, এটি বিদ্যুৎ গ্রিডে ক্লিন এনার্জি সরবরাহ করবে। সেই সাথে একটি স্বচ্ছ, প্রতিযোগিতামূলক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আস্থা তৈরি করবে। এর ফলে টেকসই অবকাঠামো উন্নয়ন উৎসাহিত হবে।

উল্লেখ্য, জাতীয় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের অন্তর্গত ফেনী অংশে সোনাগাজী উপজেলায় বেজার মালিকানাধীন প্রায় ৪ শ’ একর জমির উপর প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য মাস্টার প্ল্যানে স্থান নির্ধারণ করা রয়েছে। আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতামূলক দরপত্রের মাধ্যমে বিদ্যুতের ট্যারিফ নির্ধারণ করা হবে যাতে ট্যারিফের স্বচ্ছতা নিশ্চিত হয়।

প্রকল্পটি বেজা, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ, বিদ্যুৎ বিভাগ, বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (ইচউই), পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি, পিপিপি কর্তৃপক্ষ, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়সহ একাধিক সরকারি সংস্থার সমন্বয়ে বাস্তবায়িত হবে। সফল বাস্তবায়নের পর এই প্রকল্পটি জাতীয় গ্রিডে কার্বন নিঃসরণ হ্রাস করার পাশাপাশি শিল্পাঞ্চলে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করবে এবং বাংলাদেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বেসরকারি বিনিয়োগ বৃদ্ধিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।