বাংলাদেশের যেসব এলাকায় জলবায়ু পরির্বতনের নেতিবাচক প্রভাব বেশি পড়েছে তার মধ্যে পদ্মা, মেঘনা, যমুনাসহ নদীর চরাঞ্চল অন্যতম। নদী ভাঙ্গন, জলোচ্ছ্বাস, বন্যাসহ নানা প্রাকৃতিক দুর্যোগে এই অঞ্চলের মানুষ সবচেয়ে বেশি ক্ষতির শিকার হন। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর বলছে, দেশের চর এলাকার আবাদযোগ্য পতিত জমি রয়েছে ৬ লাখ ৭০ হাজার হেক্টর। চরের জমিতে এখন সোনালী ও সবুজ ফসল ফলাচ্ছেন কৃষক।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের (ডিএই) বাংলাদেশের চর এলাকায় আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি সম্প্রসারণ প্রকল্পের আওতায় পাঁচ বছর মেয়াদী একটি প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে। ২০৯ কোটি টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়িত এই প্রকল্পটির কাজ ২০২৩ সালের জুলাইয়ে শুরু হওয়া এই প্রকল্পটি শেষ হচ্ছে আগামী ২০২৮ সালের জুনে।
সোমবার (৫ মে) রাজধানীর মৃত্তিকা সম্পদ ইনস্টিটিউট (এসআরডিআই) মিলনায়তনে এই প্রকল্পের আওতায় ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দিনব্যাপী আঞ্চলিক কর্মশালায় এসব তথ্য উঠে আসে।
কর্মশালায় জানানো হয়, যদিও বিগত প্রায় দুই বছরে প্রকল্পের অর্জন ১৩ শতাংশ। তবে, প্রকল্প মেয়াদের মধ্যে লক্ষ্যমাত্রা অর্জন হবে।
প্রকল্প পরিচালক জিয়াউর রহমান জানান, বাংলাদেশের চর এলাকা উপযোগী ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধি, খাদ্যনিরাপত্তা অর্জন, পুষ্টি এবং আর্থসামাজিক অবস্থার টেকসই উন্নয়ন এই প্রকল্পের প্রধান উদ্দেশ্য। এছাড়া, উন্নত কৃষি প্রযুক্তি সম্প্রসারণ ও পতিত জমি ব্যবহারের মাধ্যমে শস্যের নিবিড়তা ৫ শতাংশ বৃদ্ধি, এলাকা উপযোগী আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে কৃষি উৎপাদন ৫ শতাংশ বৃদ্ধি এবং উপকারভোগীদের পুষ্টিমানের উন্নয়ন ও খাদ্যনিরাপত্তা অর্জন এই প্রকল্পের সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্য। প্রকল্পের আওতায় ৩৫টি জেলায় ১২১টি উপজেলায় বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়িত হচ্ছে। প্রদর্শনী, প্রশিক্ষণ, স্যান্ডবার পদ্ধতিতে মিষ্টিকুমড়া চাষসহ চর এলাকায় উপযোগী বিভিন্ন প্রযুক্তি ও কার্যক্রম তুলে ধরেন পিডি।
কর্মশালার প্রধান অতিথি কৃষি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (সম্প্রসারণ) জাকির হোসেন বলেন, ‘চরের মানুষের ভাগ্য উন্নয়নের জন্য এই প্রকল্প আশীর্বাদ হিসেবে কাজ করবে। চরের ফসল উৎপাদনের জন্য সেচ একটি বড় সমস্যা। তবে এই প্রকল্পের মাধ্যমে সেচ প্রদানের জন্য এলএলপি প্রদান এবং মার্টির রস সংরক্ষণের মালচিং সিটের ব্যবহার খুবই গুরুত্বপূর্ণ।’
জাকির হোসেন বলেন, ‘আমাদের অনেক বীজ আছে কিন্তু সেগুলে উৎপাদন না করে বরং বিদেশ থেকে আমদানি করা হচ্ছে। অথচ এগুলো আমরা উৎপাদন করতে পারি।’ তিনি চাষিদের আগাম ফসলের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সভাপতির বক্তব্যে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের (ডিএই) মহাপরিচালক মো: ছাইফুল আলম বলেন, ‘চর এলাকায় সবুজায়নের জন্য প্রচুর গাছ লাগাতে হবে এবং এই প্রকল্পের আওতায় তাল, খেজুর এমনকি বট বৃক্ষের স্থাপনের জন্য ডিপিপিতে অর্থ ধরা আছে। এই প্রকল্পের ২০২৮ সাল পর্যন্ত চলবে বিধায় এই প্রকেল্পের মাধ্যমে চর এলাকায় ফসল উৎপাদনের জন্য অনেক প্রযুক্তি নিয়ে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে।’
ডিএই’র সরেজমিন উইংয়ের পরিচালক ওবায়দুর রহমান মন্ডল বলেন, ‘এই প্রকল্প বাস্তবায়নে কিছু সমস্যা ছিল। বিশেষ করে ডিপিপিতে সারের দাম কম ধরায় প্রদর্শনী বাস্তবায়নে বিড়ম্বনা সৃষ্টি হয়েছে।’
ডিপিপি’র সংশোধনের বিষয়ে তিনি বলেন, প্রকল্প পরিচালক অত্যন্ত কর্মচঞ্চল এবং ডাইনামিক বিধায় এই প্রকল্প অত্যন্ত সূচারুরূপে সম্পন্ন হবে বলে আশা করছি।
উদ্ভিদ সংগনিরোধ উইংয়ের পরিচালক মো: আব্দুর রহিম বলেন, ‘চর এলাকায় ফসল আবাদের জন্য কুসুম ফুলসহ স্থায়ী চরের শস্য বিন্যাসে তেল ফসল অন্তর্ভুক্ত করা যেতে পারে। সূর্যমুখী ও ভুট্টা আবাদ দিন দিন বাড়ছে। বিভিন্ন জায়গায় সূর্যমুখী আবাদের মাধ্যমে ফসলের মাঠ পিকনিক স্পট/এগ্রো টুরিজাম পরিণত হয়েছে।’
কর্মশালায় মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক সামিয়া সুলতানা, ডিএই’র হর্টিকালচার উইংয়ের পরিচালক এস এম সোহরাব উদ্দিন, প্রশাসন ও অর্থ উইংয়ের পরিচালক মো: হাবিব উল্লাহ, ক্রপস উইংয়ের পরিচালক মো: মতিউজ্জামান প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।