ছাত্র-জনতার সম্মিলিত সংগ্রাম ও ত্যাগে জুলাই বিপ্লব সফলভাবে সংঘটিত হয়েছে। তবে দেশের বিবদমান রাজনৈতিক শক্তিগুলোর ঐক্য সংহত হওয়ার পরিবর্তে নানা কারণে দুর্বল হয়েছে। ফলে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। এ অবস্থায় রাজনৈতিক শক্তিসহ দেশের জনগণের প্রতি ঐক্যের আহ্বান জানিয়েছেন অবসরপ্রাপ্ত বিসিএস অফিসার্স ফোরাম।
শুক্রবার (২৩ মে) সংগঠনটির এক বিজ্ঞপ্তিতে এ আহ্বান জানান তারা।
বিজ্ঞপ্তিতে তারা বলেন, আরব বসন্তের অভিজ্ঞতা আমাদের এ ধারণা দেয় যে- বিপ্লবোত্তর সময়ে জাতীয় ঐক্য বিনষ্ট হলে গণতন্ত্রায়ণের পরিবর্তে অগণতান্ত্রিক বা একনায়কতান্ত্রিক শাসন আরোপিত হতে পারে। এ পরিপ্রেক্ষিতে অবসরপ্রাপ্ত বিসিএস অফিসার্স ফোরাম জাতীয় ঐক্য দৃঢ় করাসহ সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে দেশের সকল রাজনৈতিক শক্তিসহ আপামর জনগণের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছে।
আহ্বানগুলো হলো- জুলাই বিপ্লবের মৌলিক লক্ষ্য তথা ইনসাফ, ন্যায্যতা ও সুশাসন নিশ্চিত করে নতুন বাংলাদেশ গড়তে জাতি-ধর্ম-বর্ণ-রাজনৈতিক মতাদর্শ নির্বিশেষ সকলকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। বাংলাদেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের চ্যালেঞ্জ তথা যেকোনো ধরনের আঞ্চলিক-আন্তর্জাতিক আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে ছাত্র-জনতাকে দৃঢ়ভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। একইসাথে বেসামরিক-সামরিক প্রশাসনের সকল সদস্যকে জাতীয় স্থিতিশীলতা নিশ্চিতে জোরালো ভূমিকা রাখতে হবে।
এছাড়া দ্রুত সময়ে জনতার ঐক্য দৃঢ় করার ভিত্তি সৃষ্টির জন্য ‘জুলাই সনদ ২০২৪’ ঘোষণা করতে হবে এবং এ লক্ষ্যে সকল রাজনৈতিক দলকে কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে। বেসামরিক প্রশাসন ও সামরিক বাহিনীর সকল সদস্যকে ঐক্যবদ্ধভাবে জাতীয় স্বার্থকে ঊর্ধ্বে তুলে ধরতে হবে এবং এ লক্ষ্য হাসিলে আধিপত্যবাদীসহ কোনো স্বার্থান্বেষী মহলের উস্কানিতে পা দেয়া যাবে না বলে জানায় সংগঠনটি। একইসাথে জাতীয় স্বার্থে দেশের বিদ্যমান প্রশাসনিক রীতিনীতি ও শৃঙ্খলাকে শ্রদ্ধার সাথে মেনে চলতে হবে।
এদিকে আইন-শৃঙ্খলা উন্নয়নে বাংলাদেশ পুলিশবাহিনী-অন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ বেসামরিক প্রশাসনকে দৃঢ় ভূমিকা পালন করার আহ্বান জানায় সংগঠনটি। একইসাথে প্রশাসনে বিদ্যমান বিগত দুঃশাসন রেজিমের পদলেহী ও হঠকারীতায়লিপ্ত কর্মকর্তাদের অবিলম্বে প্রশাসনিক শৃঙ্খলার আওতায় আনতে হবে এবং দেশপ্রেমিক ও সৎ কর্মচারীদের শীর্ষ পদগুলোয় পদায়ন করতে হবে।
এছাড়া অন্তর্বর্তী সরকারকে মৌলিক সংস্কার শেষ করে দ্রুত সময়ে সকলের কাছে গ্রহণযোগ্য জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের ব্যবস্থা করতে হবে এবং এ লক্ষ্যে সকল গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানের ন্যূনতম সংস্কার নিশ্চিত করতে হবে। আগামী দিনের রাজনৈতিক প্রক্রিয়াকে সংস্কার অভিমুখী করার জন্য দেশের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোকে দ্রুত রাজনৈতিক সংলাপের ব্যবস্থা করতে হবে।
তারা আরো আহ্বান জানান, অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টামণ্ডলীকে রাজনৈতিক বিভেদ সৃষ্টিকারী কার্যক্রম থেকে সচেতনভাবে মুক্ত থাকতে হবে। এছাড়া আধিপত্যবাদী শক্তি কোনো অবস্থায় একটি গণতান্ত্রিক ও সমৃদ্ধশালী বাংলাদেশ চায় না, তাই সর্বাবস্থায় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে যেকোনো সংগ্রামে জাতীয় সংহতি, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করতে হবে।