হিজড়া জনগোষ্ঠীকে মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তোলার বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জাতীয় সমাজকল্যাণ পরিষদের অতিরিক্ত পরিচালক (উপসচিব) মুখলেসুর রহমান।
তিনি বলেন, ‘হিজড়া জনগোষ্ঠীদের অনেকে সৃজনশীল প্রতিভার অধিকারী। শারীরিকভাবে বৈপরীত্য ও প্রতিবন্ধকতা থাকলেও সুযোগ পেলে প্রতিভার বিকাশে কিন্তু তারাও এগিয়ে যেতে পারেন। সেই সুযোগ ও পরিবেশ তৈরি এবং সহযোগিতা আমাদের অব্যাহত রাখতে হবে।’
শনিবার (১০ মে) দুপুরে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা পাথওয়ের উদ্যোগে মিরপুরস্থ কার্যালয়ে ‘তৃতীয় লিঙ্গের জনগোষ্ঠীকে কর্মমুখী করার লক্ষ্যে সেলাই মেশিন বিতরণ’ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
মুখলেসুর রহমান বলেন, ‘রাস্তায় যেসব হিজড়া আছেন তারা অনেকে জানেনই না তাদের কি প্রতিভা আছে। দেশ পৃথিবী এগিয়ে যাচ্ছে। বসে বসে শুধু খাবার সুযোগ আর নেই। নিজেকে জনশক্তিতে রুপান্তর করতে হবে। আমাদের শক্তি মানবসম্পদ। সেখানে হিজড়া জনগোষ্ঠীকে মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তোলার বিকল্প নেই।’
তিনি বলেন, ‘আমরা চেষ্টা করছি হিজড়া জনগোষ্ঠীকে এগিয়ে নেয়ার জন্য। জাতীয় পর্যায়ের স্বেচ্ছাসেবী ৪০টি সংগঠনের মধ্যে একটি হচ্ছে এই পাথওয়ে। প্রতিষ্ঠানটিকে আমরা আর্থিক অনুদান দিচ্ছি। তারা অনেক বেশি কাজ করছে। আমরাও চেষ্টা করছি, পাথওয়ের মাধ্যমে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর জন্য সহায়তা কার্যক্রম বাড়ানোর জন্য।’
পাথওয়ের চেয়ারম্যান রইজুর রহমান বলেন, ‘পিছিয়ে পড়া হিসেবে নয়, স্বাবলম্বী করার লক্ষ্য নিয়ে হিজড়া জনগোষ্ঠীর জন্য স্থায়ী আবাসন ব্যবস্থা গড়ে তোলা উচিত। কারণ এই জনগোষ্ঠীর অনেকেই ভাসমান জীবনযাপন করেন। তাদের শুধু বিশেষায়িত পেশার জন্য দক্ষ করে গড়ে তুলতে প্রশিক্ষণই যথেষ্ট নয়, তাদের জন্য চাকরির সু-বন্দোবস্ত করতে হবে। ড্রাইভিং শিখলে তাকে পেশা হিসেবে সুযোগ করে দিতে হবে। সেলাই শিখলে তার কাজের জন্য সুযোগ করে দেয়া ও হিজড়াদের বানানো পোশাক পণ্যকে ব্রান্ডিং করার উদ্যোগ নিতে হবে।’
পাথওয়ের নির্বাহী পরিচালক মো: শাহিন বলেন, ‘সবসময় চেষ্টা করছি কীভাবে পিছিয়ে পড়া হিজড়া জনগোষ্ঠীকে এগিয়ে নেয়া যায়। আমরা অনেককে ফ্রি ড্রাইভিং শিখিয়েছি। সেলাই মেশিন শুধু বিতরণ নয়, প্রশিক্ষণও দিয়েছি। আমরা মনে করি, হীনমন্যতায় ভুগে পিছিয়ে থাকলে চলবে না, নিজে স্বাবলম্বী হলে পুরো পরিবার দাঁড়িয়ে যায়।’
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা, আইজিপি ও ডিএমপি কমিশনারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে শাহিন বলেন, ‘চীন আজকে পরাশক্তি হয়েছে কারণ তারা নাগরিকদের জনশক্তিতে রুপান্তর করেছে। আমরাও সেটা পারবো যদি পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীগুলোর জন্য কার্যকর কিছু করতে পারি। ঢাকা মহানগরে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণে ট্রাফিক পুলিশের সহযোগী হিসেবে তৃতীয় লিঙ্গের জনগোষ্ঠীর দক্ষ ও শিক্ষিতদের সুযোগ করে দেবার অনুরোধ জানান।’
তৃতীয় লিঙ্গ জনগোষ্ঠীর নেতা কনা বলেন, ‘আমাদেরকে পদে পদে অমানবিক আচরণই শুধু নয়, মানবেতর জীবনযাপনে বাধ্য করা হয়। হিজড়া বলে আমরা নির্যাতিত হচ্ছি প্রতিনিয়ত। এরপরও হিজড়া জনগোষ্ঠীর মধ্যে এমন অনেকে আছেন যারা নানা কাজে পারদর্শী, প্রতিভাসম্পন্ন দক্ষ যোগ্য। অনেকে আছেন ড্রাইভিং, সেলাই মেশিন, আর্টিস্ট, মেকআপ আর্টিস্ট ও পার্লারে কাজ করার দক্ষতা। এসব ক্ষেত্রে আমরা হিজড়াদের কাজে লাগাতে পারি। এজন্য আমরা সুযোগ চাই, পরিবেশ চাই।’
অনুষ্ঠানে হিজড়া জনগোষ্ঠীর ১০ জনকে সেলাই মেশিন বিতরণ করা হয়। তাদের তৈরিকৃত পোশাকও বিক্রি করবে পাথওয়ে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাংবাদিক জসীম উদ্দীন, শহর সমাজসেবা অফিসার শহিদুজ্জামান, ওয়াল্ড হিউম্যান রাইটস অর্গানাইজেশনের নির্বাহী পরিচালক মহিউদ্দিন আমিন।