ইউনিয়ন পরিষদগুলোতে জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন কার্যক্রমে অননুমোদিত ব্যক্তির সম্পৃক্ততা বন্ধে কঠোর নির্দেশনা দিয়েছে স্থানীয় সরকার বিভাগের অধীন রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয়।

গতকাল শনিবার স্থানীয় সরকার বিভাগের অধীন জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন কর্তৃপক্ষ থেকে জারি করা এক অফিস আদেশে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনের ডেপুটি রেজিস্ট্রার জেনারেল (যুগ্মসচিব) মো: লুৎফুরর রহমান আদেশে স্বাক্ষর করেন।

নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা নিবন্ধন সহকারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে না পারলে বা অতিরিক্ত দায়িত্বে একাধিক ইউনিয়নে দায়িত্বপ্রাপ্ত থাকলে হিসাব সহকারী কাম-কম্পিউটার অপারেটরকে দায়িত্ব দিতে হবে।

নির্দেশনায় আরো বলা হয়, জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন আইন, ২০০৪ এবং সংশ্লিষ্ট বিধিমালা অনুযায়ী ইউনিয়ন পরিষদে নিবন্ধন কার্যক্রম পরিচালনার জন্য নির্ধারিত কর্মকর্তাকেই দায়িত্ব পালন করতে হবে।

পাশাপাশি সিস্টেমে প্রবেশের জন্য দেয়া ইউজার আইডি ও পাসওয়ার্ড কেবল অনুমোদিত ব্যক্তির কাছেই সীমাবদ্ধ রাখতে হবে।

অফিস আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে, অনেক ক্ষেত্রে ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তারা কম্পিউটার ব্যবহারে দক্ষ না হওয়া কিংবা একাধিক ইউনিয়নে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করার কারণে নিজেদের ইউজার আইডি ব্যবহার না করে অননুমোদিত ব্যক্তিদের হাতে দায়িত্ব হস্তান্তর করছেন।

এতে করে জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন ব্যবস্থার নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়ছে এবং জনভোগান্তি তৈরি হচ্ছে।

নির্দেশনায় আরো বলা হয়, ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা কোনো কারণে নিবন্ধন সহকারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে না পারলে অথবা অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকলে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের হিসাব সহকারী কাম-কম্পিউটার অপারেটরকে অনুমোদিত ব্যবহারকারী হিসেবে দায়িত্ব দিতে হবে।

এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নামে পৃথক ইউজার আইডি ও পাসওয়ার্ড প্রদান করা হবে।

কর্তৃপক্ষ স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, কোনো অবস্থাতেই অননুমোদিত ব্যক্তির কাছে ইউজার আইডি ও পাসওয়ার্ড হস্তান্তর করা যাবে না।

এটি ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে বলেও সতর্ক করা হয়েছে। একই সঙ্গে বলা হয়েছে, এই ধরনের অনিয়ম বন্ধ করা গেলে জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন কার্যক্রম আরও স্বচ্ছ, নিরাপদ ও জনবান্ধব হবে।

সরকারি নির্দেশনায় আরো উল্লেখ করা হয়, নিবন্ধন কার্যক্রমে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তথ্য গোপনীয়তা বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

কারণ জাতীয় পরিচয়, নাগরিক সনদ এবং বিভিন্ন সরকারি সেবার সাথে জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনের তথ্য সরাসরি সম্পর্কিত।

ফলে অননুমোদিত কারও হাতে সিস্টেমের প্রবেশাধিকার গেলে তথ্য বিকৃতি, জালিয়াতি কিংবা নাগরিক হয়রানির ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

এদিকে স্থানীয় সরকার বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, ডিজিটাল নিবন্ধন ব্যবস্থাকে সুরক্ষিত রাখতে এ ধরনের পদক্ষেপ সময়োপযোগী।

মাঠপর্যায়ে বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদে দীর্ঘদিন ধরে কিছু অসাধু ব্যক্তি বা দালালচক্র নিবন্ধন কার্যক্রমে প্রভাব বিস্তার করছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।

নতুন নির্দেশনা কার্যকর হলে এসব অনিয়ম অনেকাংশে কমে আসবে বলে মনে করছেন তারা।

অফিস আদেশে জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, বিভাগীয় কমিশনার এবং ইউনিয়ন পরিষদ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

একই সাথে বিষয়টি তদারকির জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।

সূত্র : বাসস