দেশের কটেজ, মাইক্রো, ক্ষুদ্র ও মাঝারি (সিএমএসএমই) উদ্যোক্তাদের মধ্যে বর্তমানে ব্যাংক ঋণের আওতায় মাত্র নয় শতাংশ। বাংলাদেশ ব্যাংক, ৬২টি বাণিজ্যিক ব্যাংক, ৩৫টি আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং ৭০০-এরও বেশি ক্ষুদ্র ঋণ প্রতিষ্ঠানের নানা উদ্যোগের পরও শতকরা ৯১ শতাংশ উদ্যোক্তাই এখনো ঋণের আওতায় আসেননি। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ঝুঁকিগ্রস্ত সিএমএসএমই উদ্যোক্তাদের সহায়তায় মডেল কর্মসূচি চালু করছে এসএমই ফাউন্ডেশন ও ইউএনডিপি বলে জানিয়েছেন এসএমই ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তারা।
বৃহস্পতিবার (১৫ মে) ঢাকায় একটি হোটেলে এসএমই ফাউন্ডেশন এবং ইউএনডিপি, বাংলাদেশ আয়োজিত কর্মশালায় বক্তারা এসব তথ্য প্রকাশ করেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন এসএমই ফাউন্ডেশনের চেয়ারপারসন মো: মুসফিকুর রহমান, বিশেষ অতিথি বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর নূরুন নাহার এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব সৈয়দ মো: কুতুব।
বক্তব্য রাখেন এসএমই ফাউন্ডেশনের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক নাজিম হাসান সাত্তার এবং ইউএনডিপি’র আবাসিক প্রতিনিধি সোনালী দায়ারাত্নে এবং সংস্থাটির আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা। এসএমই খাত সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠান, বাংলাদেশ ব্যাংক, বাণিজ্যিক ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান, মাইক্রোফাইন্যান্স ইনস্টিটিউট, ইন্সুরেন্স কোম্পানি ব্যবসায়ী সংগঠন, ট্রেডবডি, চেম্বার ও অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধি, ফিনটেক ও উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার প্রতিনিধিরা কর্মশালায় উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, বর্তমানে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে এসএমই খাতের অবদান প্রায় ৩২ শতাংশ। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো’র ২০১৩ সালের অর্থনৈতিক সমীক্ষা বলছে, দেশে ৭৮ লাখের বেশি কুটির, মাইক্রো, ক্ষুদ্র ও মাঝারি (সিএমএসএমই) শিল্প প্রতিষ্ঠান রয়েছে। যা মোট শিল্পপ্রতিষ্ঠানের ৯৯ শতাংশের বেশি। শিল্পখাতের মোট কর্মসংস্থানের প্রায় ৮৫ শতাংশ এসএমই খাতে। এই খাতে প্রায় আড়াই কোটিরও বেশি জনবল কর্মরত আছে। ২০০৭ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে শিল্প মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন সংস্থা এসএমই ফাউন্ডেশনের বিভিন্ন কর্মসূচির সুবিধাভোগী প্রায় ২০ লাখ ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা, যাদের ৬০ শতাংশই নারী-উদ্যোক্তা।
কর্মশালায় জানানো হয়, ২০১৩ সালের অর্থনৈতিক সমীক্ষা অনুসারে দেশের ৭৮ লাখের বেশি সিএমএসএমই প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৭০ শতাংশই ঢাকার বাইরে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সবশেষ হিসাব বলছে, ৭৮ লাখ সিএমএসএমই উদ্যোক্তার মধ্যে এক লাখ সাত হাজার ৬৩৪ কোটি টাকা ঋণ পেয়েছেন মাত্র ছয় লাখ ৭৯ হাজার ৫২৪ উদ্যোক্তা। তার মানে বাংলাদেশ ব্যাংক, ৬২টি বাণিজ্যিক ব্যাংক, ৩৫টি আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং ৭০০-এর বেশি ক্ষুদ্র ঋণ প্রতিষ্ঠানের নানা উদ্যোগের পরও শতকরা ৯১ ভাগ উদ্যোক্তাই এখনো ঋণের আওতায় আসেননি। এমন পরিস্থিতিতে বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সম্ভাব্য ঝুঁকিগ্রস্ত কটেজ, মাইক্রো, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের (সিএমএসএমই) সহায়তায় ব্লেন্ডেড ফাইন্যান্স সুবিধা প্রবর্তনের লক্ষ্যে একটি মডেল কর্মসূচি প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে এসএমই ফাউন্ডেশন এবং ইউএনডিপি।
আয়োজকরা বলেন, ‘এ প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে দেশের বিভিন্ন জলবায়ু-সংবেদনশীল অঞ্চল পরিদর্শনের মাধ্যমে বাস্তব পরিস্থিতি প্রত্যক্ষ করা হয়েছে। উদ্যোক্তা, ট্রেডবডি, চেম্বার, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান, ক্ষুদ্রঋণ ও বীমা প্রতিষ্ঠান, ফিনটেক, বাংলাদেশ ব্যাংকসহ সংশ্লিষ্ট অংশীজনের সাথে মতবিনিময় করা হয়েছে। কর্মসূচির আওতায় আরো বেশি সংখ্যক সিএমএসএমই উদ্যোক্তাকে ঋণের আওতায় আনার উদ্যোগ নেয়া হবে। ঋণ পরিশোধে দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হবে। পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত উদ্যোক্তাদের কর্মসূচির আওতায় ঋণ পরিশোধের লক্ষ্যে গ্যারান্টি স্কিম, বীমা এবং অনুদান সহায়তা প্রদান করা হবে।’
এসএমই ফাউন্ডেশনের চেয়ারপারসন মো: মুসফিকুর রহমান বলেন, ‘এসএমই ফাউন্ডেশন এবং ইউএনডিপি’র এই উদ্যোগ সিএমএসএমই উদ্যোক্তাদের কাজে গতি সঞ্চার করবে। যা অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।’