ডিজিটাল পাবলিক ইনফ্রাস্ট্রাকচার (ডিপিআই) বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে জাতীয় ডাটা সেন্টারে জিপিইউ ক্লাউড ও প্ল্যাটফর্ম অ্যাজ অ্যা সার্ভিস (পিএএএস) সেবার শুভ সূচনা করা হয়েছে।

বিডিসেট প্রকল্পের আওতায় দীর্ঘদিন অব্যবহৃত উন্নত গ্রাফিক্স প্রসেসিং ইউনিট (জিপিইউ) কার্যকরভাবে ব্যবহার করে জাতীয় ক্লাউড সক্ষমতা জোরদার এবং বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের গবেষক ও শিক্ষার্থীদের জন্য এ সেবা উন্মুক্ত করা হয়েছে।

বুধবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল (বিসিসি) অডিটোরিয়ামে প্রধান উপদেষ্টার ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব আনুষ্ঠানিকভাবে এই ক্লাউড সেবার উদ্বোধন করেন।

উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি বলেন, অন্তর্র্বর্তীকালীন সরকারের শুরুতে বিসিসির সক্ষমতা মারাত্মকভাবে সীমিত ছিল। সে সময় সিপিইউ প্রায় ৮২ শতাংশ এবং স্টোরেজ প্রায় ৭৮ শতাংশ দখল অবস্থায় ছিল, যা ডিজিটাল গভর্নেন্স বাস্তবায়নের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। বিষয়টির গুরুত্ব বিবেচনায় বিশ্বব্যাংকের সাথে আলোচনার মাধ্যমে বিসিসির অধীনে জাতীয় ডাটা সেন্টারের ক্যাপাসিটি ও প্রয়োজনীয় ফিচার সংযোজন করা হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, আগে মনিটরিং ব্যবস্থার দুর্বলতার কারণে ভার্চুয়াল মেশিন নন-ফাংশনিং হলেও তাৎক্ষণিক নোটিফিকেশন পাওয়া যেত না। পাশাপাশি আপলিংক মনিটরিং না থাকায় ডিডস আক্রমণ বা বিজিপি প্রোটোকলজনিত ক্যাপাসিটি সংকট আগেভাগে শনাক্ত করা সম্ভব হতো না। এসব সীমাবদ্ধতা এখন দূর করা হয়েছে এবং বিসিসি আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় অধিকতর মানসম্মত সেবা দিতে প্রস্তুত।

ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব বলেন, দেশের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও দপ্তরের ডাটা সেন্টারগুলো সাইলো ভিত্তিতে গড়ে ওঠায় ডিজাস্টার রিকভারি, সাইবার সিকিউরিটি বান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়েছিল। ফলে দেশে মাইক্রো সার্ভিস আর্কিটেকচারভিত্তিক ডিজিটাল সেবার বিকাশ বাধাগ্রস্ত হয়েছে। এ বাস্তবতায় আজ থেকে জাতীয় ডাটা সেন্টারে পিএএএস সেবা চালু করা হলো।

তিনি জানান, নতুন পিএএএস প্ল্যাটফর্মটি একটি সিএনসিএফ সার্টিফায়েড কুবারনেটিস প্ল্যাটফর্ম, যেখানে সোর্স-টু-ইমেজ, বিল্ট-ইন সিআই/সিডি পাইপলাইন, গিটঅপস ইন্টিগ্রেশন, কন্টেইনার রেজিস্ট্রি, ভলনারেবিলিটি স্ক্যানিং, ডেভসেকঅপস সক্ষমতা, হাই অ্যাভেইলেবিলিটি ও ডিজাস্টার রিকভারি সুবিধা রয়েছে। পাশাপাশি লিনাক্স ও উইন্ডোজ কন্টেইনার সাপোর্ট, লগিং, মনিটরিং, সার্ভিস মেশ ও সার্ভারলেস সুবিধাও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

এই অবকাঠামোর মাধ্যমে ব্যক্তিগত উপাত্ত সুরক্ষা অধ্যাদেশ ২০২৫, জাতীয় উপাত্ত ব্যবস্থাপনা অধ্যাদেশ ২০২৫ এবং সাইবার সেফটি অধ্যাদেশ ২০২৫ প্রতিপালন সহজ হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। ‘গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পরিকাঠামো’ হিসেবে চিহ্নিত ৩৫টি সংস্থা নির্ধারিত গাইডলাইন অনুসরণে সক্ষম হবে, যা দেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।

এদিকে বিদ্যমান রিসোর্স অপটিমাইজেশনের অংশ হিসেবে বিসিসি এক হাজারের বেশি ভার্চুয়াল সিপিইউ বৃদ্ধি করতে সক্ষম হয়েছে। উচ্চশিক্ষা ও গবেষণা, জেনারেটিভ এআই এবং মেশিন লার্নিংভিত্তিক দক্ষতা উন্নয়নের লক্ষ্যে বাংলাদেশ হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষ (বিএইচটিপিএ) ২০টির বেশি এনভিডিয়া ভোল্টা আর্কিটেকচার টেনসর কোর জিপিইউ একটি ক্লাউড রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে উন্মুক্ত করেছে। সরকারি খাতে এটি প্রথম শেয়ারএবল জিপিইউ ক্লাউড সুবিধা।

এই অবকাঠামোর মাধ্যমে মেশিন লার্নিং ডেটাসেট ট্রেনিং, থ্রেট ইন্টেলিজেন্স, জিও-সায়েন্স মডেলিংসহ বিভিন্ন হাই পারফরম্যান্স কম্পিউটিং কার্যক্রম পরিচালনা করা যাবে। এতে প্রায় ৯০০টির বেশি সিপিইউ সমতুল্য কম্পিউটেশন সক্ষমতা এবং সর্বোচ্চ দু’ হাজার ২৪০ টেরাফ্লপস ডিপ লার্নিং ক্যাপাসিটি পাওয়া যাবে।

জিপিইউ বরাদ্দে আগ্রহী গবেষক, শিক্ষার্থী ও গেমিং কোম্পানিগুলো datacenter@bcc.gov.bd ঠিকানায় আবেদন করতে পারবেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন প্রকল্প পরিচালক ড. মো: তৈয়বুর রহমান। এতে আইসিটি বিভাগের সচিব শীষ হায়দার চৌধুরী, বিশ্বব্যাংকের কো-টাস্ক টিম লিডার ও ডিজিটাল ডেভেলপমেন্ট স্পেশালিস্ট সুপর্ণা রায়সহ বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বাসস