রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে আজকের বৈঠকেই জাতীয় সাংবিধানিক কাউন্সিলের (এনসিসি) বিষয়ে একটি চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে আসতে চায় জাতীয় ঐকমত্য কমিশন।
আজ বুধবার রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে কমিশনের দ্বিতীয় পর্যায়ের আলোচনার দ্বিতীয় দিনের শুরুতে এমন মন্তব্য করেন জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহ-সভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ।
তিনি বলেন, ‘আজ জেলা সমন্বয় কাউন্সিল নিয়ে আলোচনা করা হবে। সংবিধান সংস্কার কমিশনের প্রাথমিক পর্যায়ের যে আলোচনা আমরা করেছি, সেক্ষেত্রে কিছু বিকল্প প্রস্তাব এসেছে। আজকের আলোচনায় এ বিষয়ে বড় অগ্রগতি অর্জন করতে পারব। সবচেয়ে খুশি হবো, যদি আজ এনসিসি নিয়ে একটি সিদ্ধান্তে আসতে পারি আমরা। আর এটি আমাদের কাজের ক্ষেত্রে অনেক বেশি সাহায্য করবে।’
তিনি বলেন, ‘সবচেয়ে জরুরি বিষয় হলো, সব বিষয়ে যেন সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে সবার সাথে আলোচনা করে একটি জায়গায় আসতে পারি। আমাদের সময়স্বল্পতা আছে, জুলাইয়ের মধ্যেই একটি জাতীয় সনদ করতে হবে। এরপর তাতে সবার স্বাক্ষর নিতে হবে।’
এ সময় আলোচনার পুনরাবৃত্তি এড়াতে বৈঠকে অংশ নেয়া রাজনীতিবিদদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
আজকের বৈঠকের আলোচ্যসূচিতে রয়েছে, আগের অসমাপ্ত আলোচনা সমাপ্তিকরণ, জাতীয় সাংবিধানিক কাউন্সিল (এনসিসি) ও রাষ্ট্রপতি নির্বাচন। আগামীকাল ১৯ জুনও আলোচনা চলবে বলে জানিয়েছে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন।
আজকের বৈঠকে বিএনপিসহ এনসিপি, ইসলামী আন্দোলন, নাগরিক ঐক্য, গণ অধিকার পরিষদ, গণসংহতি আন্দোলনসহ অন্য রাজনৈতিক দলগুলো অংশ নিয়েছে।
এদিকে, কমিশনের প্রথম দিনের বৈঠকে গতকাল মঙ্গলবার জামায়াতে ইসলামী অংশ না নিলেও আজ বুধবার অংশ নিয়েছেন দলটির প্রতিনিধিরা।
এর আগে, মঙ্গলবার কমিশনের বৈঠকে জামায়াতের কোনো প্রতিনিধি না থাকায় বিষয়টি আলোচনার জন্ম দেয়। অনেকে বলেন, কমিশনের বেশ কয়েকটি বিষয়ে জামায়াতের বনিবনা না হওয়ায় মঙ্গলবারের আলোচনায় তারা যোগ দেননি।
এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে গতকাল ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের যুগ্ম মহাসচিব গাজী আতাউর রহমান বলেন, ‘গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক দল হিসেবে আজকের আলোচনায় জামায়াতের থাকা উচিত ছিল।’
তিনি আরো বলেন, ‘আদর্শিক জায়গা থেকে আমরা বেশিভাগ বিষয়েই একমত হয়েছি। কিন্তু নারীদের জন্য আলাদা করে সংরক্ষিত ১০০ আসন রাখার প্রয়োজন দেখি না। নারীর ক্ষমতায়ন আমরাও চাই, কিন্তু কোনো বৈষম্যমূলক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে নয়।’ সূত্র : ইউএনবি