বাংলাদেশে চিকিৎসাসেবা ও শিক্ষাকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার দাবি জানিয়েছেন বিশিষ্ট মেডিসিন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, এই লক্ষ্যে মেডিক্যাল শিক্ষার কারিকুলাম ঢেলে সাজাতে হবে এবং পরিবর্তন আনতে হবে সেবা দেয়ার পদ্ধতিতে।
শনিবার (২৬ এপ্রিল) বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে বাংলাদেশ সোসাইটি অব মেডিসিনের ২৪তম আন্তর্জাতিক সম্মেলনে সিনিয়র মেডিসিন বিশেষজ্ঞরা বিষয়টি দ্রুত বাস্তবায়নে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
সম্মেলনটি গত শুক্রবার শুরু হয়েছে, শেষ হবে আগামীকাল রোববার। সম্মেলনে বাংলাদেশে প্রচলিত চিকিৎসা ব্যবস্থার নানা দিক নিয়েও আলোচনা করা হয়।
এতে বলা হয়, কিছু কিছু চিকিৎসা আছে যেগুলো এখনো প্রাথমিক পর্যায়ের চিকিৎসা পদ্ধতি ও ওষুধ দিয়ে সুস্থ রাখা যায়।
এ ব্যাপারে মেডিসিন বিশেষজ্ঞরা বলেন, ‘কিছু শারীরিক পরিশ্রম করার পাশাপাশি কম দামি ম্যাটফরমিন নামক ট্যাবলেট দিয়ে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়। এছাড়া প্রাথমিক পর্যায়ের আরো অনেক ওষুধ আছে যেগুলো এখনো কার্যকর, দামও কম। মেডিসিন বিশেষজ্ঞরা যত দূর সম্ভব মানুষের আর্থিক খরচ কমিয়ে উন্নতমানের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।’
‘সবার জন্য উন্নত চিকিৎসা’ স্লোগানে আয়োজিত তিন দিনব্যাপী এ আয়োজনে অন্তত ১০টি সেশনে শতাধিক গবেষণা প্রবন্ধ উপস্থাপন করা হবে। সম্মেলনে দেশের দু’ হাজারেরও বেশি মেডিসিন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক অংশ নিচ্ছেন।
এবারের সম্মেলনে পাকিস্তান, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, ফ্রান্সসহ কয়েকটি দেশের ১০ জন আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক অংশ নিয়েছেন। তারা তাদের অভিজ্ঞতা বিনিময়ের মাধ্যমে বাংলাদেশের চিকিৎসা ব্যবস্থার সাথে বিশ্বমানের চিকিৎসা পদ্ধতির সংযোগ স্থাপনের প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
বাংলাদেশ সোসাইটি অব মেডিসিনের আহ্বায়ক অধ্যাপক ডা: মোহাম্মদ মনির-উজ-জামানের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব মো: সাইদুর রহমান, স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের সচিব ডা: মো: সরোয়ার বারী, স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা: মো: নাজমুল হোসেনসহ অনেকে।
সম্মেলনে অধ্যাপক মনির-উজ-জামান বলেন, ‘২০২৪ সালে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে সংগ্রামে শহীদ ও আহতদের প্রতি আমাদের অকৃত্রিম শ্রদ্ধা। মেডিসিন বিশেষজ্ঞরা সেই সময়ও চিকিৎসা ফ্রন্টে অগ্রণী ভূমিকা রেখেছিলেন। আজকের বাংলাদেশ গড়ার পেছনে তাদের নিরব কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘মেডিসিন হলো চিকিৎসা ব্যবস্থার মূলধারা, যা সাধারণ মানুষের জন্য স্বল্প খরচে মানসম্মত সেবা নিশ্চিত করে। বর্তমানে দেশে ১১৪টি মেডিক্যাল কলেজের মধ্যে ৩৭টি সরকারি থাকলেও, মেডিসিন বিভাগের জনবল এখনো প্রয়োজনের তুলনায় কম। তিনি সরকারি ও বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজগুলোতে নতুন পদ সৃষ্টি ও পর্যাপ্ত শিক্ষক নিয়োগের জোর দাবি জানান। বাংলাদেশ সোসাইটি অব মেডিসিন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে স্বাস্থ্যখাতে প্রযুক্তির যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে নানা উদ্যোগ নিয়েছে বলেও জানান অধ্যাপক মনির-উজ-জামান।
অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট মেডিসিন বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা: এফ এম সিদ্দিকী, অধ্যাপক ডা: এম এ ফয়েজ প্রমুখ।
অনুষ্ঠান সঞ্চালন করেন সোসাইটির সদস্য সচিব মুহাম্মদ জাকারিয়া আল আজিজ।