দেশের নারীরা পান্তা ভাতের আবিষ্কারক উল্লেখ করে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার বলেছেন, ‘রাতে ভাত বেশি হয়ে গেলে পানি দিয়ে ভিজিয়ে রেখে ওটা সকালে খাওয়া যায়, এই বুদ্ধিটা মেয়েদের। এমন কী মাছ যখন পচে যায়, তখন খানমান বা এক ধরনের পাতা দিয়ে রান্না করে পঁচা মাছও খাওয়া যায়। এটাও নারীদের আবিষ্কার। এগুলো গরীব নারীদের উদ্ভাবন। আগামীতে যে উদ্ভাবনী প্রোগ্রাম হবে, আমাদের মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের কাছ থেকে কিছু আইডিয়া নিয়ে আসতে হবে।’

আজ বুধবার রাজধানীর আলাউদ্দিন রোডে বাংলাদেশ ভেটেরিনারি কাউন্সিলের সম্মেলন কক্ষে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় কর্তৃক আয়োজিত ইনোভেশন শোকেসিং ২০২৫-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপদেষ্টা এসব কথা বলেন।

দেশের উন্নয়নের জন্য ইনোভেটিভ আইডিয়া মাঠ পর্যায় থেকে সংগ্রহ করার কথা জানিয়ে ফরিদা আখতার বলেন, ‘ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদের প্রতি সচেতন করা গেলে দেশ সামনের দিকে আরো এগিয়ে যাবে।’ তিনি সকল দফতর সংস্থাকে আগামীতে আরও বেশি সংখ্যক ইনোভেটিভ আইডিয়া প্রদান করার জন্য আহ্বান জানান।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা বলেন, ‘ইনোভেশন যত বেশি পরস্পর আদান-প্রদান করা যাবে ইনোভেশন তত বেশি সফল হবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘ইনোভেশনের সুফল পেতে হলে ইনোভেশন গ্রামগঞ্জের মানুষের নিকট পৌঁছে দিতে হবে।’

উপদেষ্টা বলেন, ‘খাদ্য বলতে সবাই কৃষিকে বোঝে। এটা একটা বড় ধরনের ভুল ধারণা। আমরা যখন খাদ্য মন্ত্রণালয়ের মিটিংয়ে যাই, সেখানে কৃষিকেই প্রাধান্য দেয়া হয়। আমাদের হাত তুলে কথা বলতে হয় যে, আমাদের মাছ, গোশত ডিমের এই অবস্থা। আসলে কী খাদ্য স্বয়ংসম্পূর্ণ হবে যদি না মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় তাদের অবদানটা না রাখে? জনসংখ্যা বাড়লেও আমরা যে খাদ্যে প্রেসার অনুভব করছি না-এটাতে শুধু কৃষির অবদান নয়। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অবদান সর্বত্র। এটা যেন আমরা স্টাবলিশ করতে পারি।’

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় কর্তৃক আয়োজিত ষষ্ঠ ইনোভেশন শোকেসিং অনুষ্ঠানে সভাপতি হিসেবে বক্তব্য প্রদান করেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব (রুটিন দায়িত্ব) মো: তোফাজ্জেল হোসেন।

স্বাগত বক্তব্য রাখেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ও চিফ ইনোভেশন অফিসার মো: ইমাম উদ্দীন কবীর। বক্তব্য রাখেন এটুআই প্রকল্প পরিচালক মো: রশিদুল মান্নাফ কবীর। এ সময় দফতর ও সংস্থার প্রধানরা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, এবার ইনোভেশন শোকেসিং অনুষ্ঠানে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের আটটি দফতর/সংস্থা মোট ৩০টি ইনভেশন নিয়ে প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণ করেন।