গণহত্যার বিচার, গণহত্যায় জড়িত আওয়ামী লীগ, যুবলীগসহ অঙ্গ সংগঠনগুলো নিষিদ্ধ ঘোষণা, গণহত্যায় অংশগ্রহণকারী রাজনৈতিক দলের সদস্য, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য ও প্রশাসনের কর্মকর্তাদের চিহ্নিত করে অবিলম্বে গ্রেফতার ও বিচারের মুখোমুখি করার দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছে জুলাই মঞ্চ।

গত ১৮ ফেব্রুয়ারি থেকে এই অবস্থান কর্মসূচি পালন করে আসছে জুলাই মঞ্চ। আশুলিয়ায় জুলাই আন্দোলনে ৭ জনের লাশ পুড়ানোর ঘটনায় ১০ মার্চ আশুলিয়া থানার সামনে প্রথম শহীদি মার্চ পালন করে জুলাই মঞ্চ। বিগত ১৬ বছরে র‍্যাবের যেসকল সদস্য গুম খুন ও ক্রসফায়ারের সাথে জড়িত তাদের বিচারের দাবিতে আজকে শুক্রবার র‍্যাব হেডকোয়ার্টারের সামনে দ্বিতীয় শহীদি মার্চ পালন করা হয়। বিকেল ৪টায় উত্তরায় ‌র‍্যাব হেডকোয়ার্টারের সামনে এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

শহীদি মার্চে জুলাই মঞ্চের প্রতিনিধি সাকিন হোসাইন বলেন, র‍্যাব বাংলাদেশের জনগণের জন্য আতঙ্কের একটি নাম। তারা এমন সব কাজ করেছে যার ফলাফল হিসেবে জাতিসঙ্ঘ ও হিউম্যান রাইটস ওয়াচ -এর মতো প্রতিষ্ঠানগুলো র‍্যাবকে নিষিদ্ধের পরামর্শ দিয়েছে। গুম কমিশনের তথ্য মতে, ১৬ শ’ত গুমের অভিযোগের মধ্যে প্রাথমিক পর্যায়ে ১৭৩টি গুমের অভিযোগ এসেছে র‍্যাবের বিরুদ্ধে। র‍্যাবের বর্তমান ডিজি নিজে স্বীকার করেছেন যে বিগত সময়ে র‍্যাব গুম, খুন, ক্রস্ফায়ারের সাথে জড়িত ছিল। অথচ ৭ মাস পার হলেও এখনো র‍্যাবের যে সদস্যরা গুম খুন ক্রসফায়ারের সাথে জড়িত তাদের তালিকা প্রকাশ করেনি র‍্যাব। পাশাপাশি ২৪ -এর গণঅভ্যুত্থানের র‍্যাবের যারা গণহত্যায় জড়িত হয়েছে তাদের শাস্তির আওতায় আনা হয়নি।

আরেক প্রতিনিধি আরিফুল ইসলাম বলেন, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে বর্তমানে প্রশাসন কোনো সহযোগিতা করছে না। স্বৈরাচারের আমলে নিয়োগ পাওয়া সদস্যদের চিহ্নিত করে বিচারের মুখোমুখি করতে হবে। আওয়ামী লীগ গণহত্যায় জড়িত, তাদের বিচারের মুখোমুখি করতে হবে এবং আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করতে হবে। গণহত্যার বিচার ও আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ না করা পর্যন্ত জুলাই মঞ্চের কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।

শহীদি মার্চে সংহতি জানিয়ে গণঅধিকার পরিষদের উচ্চতর পরিষদ সদস্য ও গণমাধ্যম সমন্বয়ক আবু হানিফ বলেন, র‍্যাব গঠন করা হয়েছিল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করার জন্য কিন্ত বিগত সময়ে সরকার তাদের দলীয় বাহিনী হিসেবে ব্যবহার করেছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সব সদস্য খারাপ না, যারা আওয়ামী লীগের দলীয় বিবেচনায় নিয়োগ কিংবা পদোন্নতি পেয়েছিল, তারাই হাসিনাকে রক্ষা করতে ছাত্র জনতার উপর গুলি চালিয়েছে। তাদের চিহ্নিত করে বিচারের মুখোমুখি করতে হবে। পুরো বাহিনীকে প্রশ্নবিদ্ধ করা যাবে না। মানবাধিকার লঙ্ঘনের দায়ে র‍্যাবকে নিষিদ্ধ করে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন। সবশেষ জুলাই গণঅভ্যুত্থানেও পতিত স্বৈরাচার সরকার র‍্যাবকে দলীয় কাজে ব্যবহার করেছে। র‍্যাবের এই কলঙ্ক মুছতে হলে র‍্যাবকে বিলুপ্ত করে নতুন কোনো বাহিনী গঠন করতে হবে।

জুলাই মঞ্চের প্রতিনিধি অর্নব হুসেইন -এর সঞ্চালনায় আরো বক্তব্য রাখেন- মুতাছিরুল ইসলাম, মুন্তাজুল ইসলাম, সুরাইয়া আন্তা, আব্দুল নুর তালুকদার, মিনহাজ, ইসমাইল শান্ত, ফুহাদ হাসান প্রমুখ।