জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সভাপতি জয়নুল আবেদীন বলেছেন, বারকে (সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি) বলতে চাই, আপনারা এখনো ঘুমাচ্ছেন। আর আমরা শুনছি বিচারক নিয়োগ প্রক্রিয়া চালু হয়ে গেছে। গোপনে গোপনে আপনারা (সরকার) কাদের নিয়োগ দিচ্ছেন? আইনকর্মকর্তা যেভাবে নিয়োগ হয়েছে সেভাবে? আইনজীবীরা সেটা হতে দিবে না। বারের দায়িত্ব রয়েছে এগুলো দেখার। কারা গত ১৭ বছর তাদের পেশাকে রেখে রাস্তায় দাঁড়িয়ে, কারা ফ্যাসিস্টের বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছে। এখন আপনারা সব সুশীল হয়ে গেছেন? সুশীল হলে চলবে না।

তিনি বলেন, ‘যারা ১৭ বছর আন্দোলন করেছে তাদের অবশ্যই রাখতে হবে।’

বুধবার (৭ মে) ‘ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার দোসর আইন কর্মকর্তাদের পদত্যাগ ও অস্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় বিচারপতি নিয়োগের প্রতিবাদে বিক্ষোভ ও আইনজীবী সমাবেশে’ তিনি এসব কথা বলেন।

‘বৈষম্যবিরোধী আইনজীবী সমাজের’ ব্যানারে বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা এই সমাবেশের আয়োজন করে। এতে সভাপতিত্ব করেন জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সুপ্রিম কোর্ট ইউনিটির আহ্বায়ক ব্যারিস্টার বদরুদ্দোজা বাদল।

জয়নুল আবেদীন বলেন, ‘জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম এই দেশে সর্ববৃহৎ আইনজীবীদের সংগঠন। প্রায় ৯০ হাজারের মতো আইনজীবী আছেন। তার মধ্যে প্রায় ৭০–৮০ হাজার জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সদস্য। কাজেই আমরা কিন্তু বসে থাকব না। আমরা দেখব আপনারা (সরকার) আগামী দিনে কীভাবে দায়িত্ব পালন করছেন। আমরা যখন স্বৈরশাসকের বিরুদ্ধে আন্দোলন করতাম তখন স্বৈরশাসকের দোসরেরা এসে বাধা দিতো। তারা আমাদের সভা পণ্ড করার জন্য চেষ্টা করতেন। আজকে যারা সরকারি আইন-কর্মকর্তা হয়েছেন তাদের অনেককে সে সময় মাঠে দেখিনি। এটা খুবই দুঃখজনক। আপনারা ভালোয় ভালোয় চলে আসুন।’

জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের মহাসচিব ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, ‘চিন্তা করতে পারিনি আমাদের আজকেও দাঁড়াতে হবে। অবস্থা দৃষ্টে মনে হচ্ছে বর্তমান সরকার সত্যিকার অর্থে শেখ হাসিনা এবং তার দোসরদের বিচার চাই কি না? কারণ, যে শেখ হাসিনাকে বিদায় করতে হাজার হাজার ছাত্র-জনতা রক্ত দিয়েছিল সেই শেখ হাসিনার সমর্থনপুষ্ট ও অন্ধভক্ত রাষ্ট্রের আইন কর্মকর্তা অনেকে নিয়োগ পেয়েছেন। আগে থেকে এখনো পর্যন্ত বহাল তবিয়তে আছেন।’

তিনি বলেন, ‘আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই, যার বিরুদ্ধে অভিযোগ, সেই অভিযুক্তের বিচার যিনি করবেন তিনিই যদি আইন কর্মকর্তা হন তাহলে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে কোনো বিচার হবে? এখন তাই দেখতে পাচ্ছি। অনেক আইন কর্মকর্তা ছাত্র লীগ–যুবলীগ করতেন। অবিলম্বে তাদেরকে পদত্যাগ করতে হবে বা মন্ত্রণালয় তাদের বরখাস্ত করুন। অন্যথায় আইনজীবীরা সচিবালয় পর্যন্ত যবে। বিচারক নিয়োগের প্রক্রিয়া নাকি শুরু হয়েছে। আমাদের স্পষ্ট দাবি স্বচ্ছতার সাথে বিচারক নিয়োগ করতে হবে। একটি অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছে। ওই অধ্যাদেশ নিয়ে শুনানি শেষে হাইকোর্ট পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন। আগে পর্যবেক্ষণ দেখব আমরা। তার আগেই যদি অধ্যাদেশের আলোকে বিচারক নিয়োগ দেয়া হয় তাহলে আইনজীবী সমাজ মেনে নেবে না।’

এছাড়া আইনজীবী ফোরামের সাংগঠননিক সম্পাদক গাজী কামরুল ইসলাম সজল বলেন, ‘গত ১৭ বছর সবাইকে নিয়ে আন্দোলন করেছি। আমরা ভেবেছিলাম বাংলাদেশে বিচারের নামে আর অবিচার হবে না। এখন দেখছি সর্ষের মধ্যে ভুত ঢুকেছে। যারা এখনো ফ্যাসিস্ট সরকারের পক্ষে কাজ করছেন অবিলম্বে পদত্যাগ করুন। ভালো ভালো বাড়িতে চলে যান। আমরা আপনাদের কোর্টে প্রাকটিস করতে দেবো না। আমার সুশীল বিচারপতি দরকার নেই। আমার দরকার যে সঠিক বিচার করতে পারবেন এবং যিনি গণতান্ত্রিক মনের একজন বিচারপতি।’

তিনি বলেন, ‘১০ আগস্টের ইতিহাস আপনি ভুলে যাবেন না। ওই দিন তৎকালীন প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বে জুডিসিয়াল ক্যু হওয়ার কথা ছিল। আমরা সেদিন জুডিসিয়াল ক্যু ব্যাহত করেছি। যদি সেই জুডিসিয়াল ক্যু সফল হতো তাহলে আমরা যে ক’জন ছিলাম সবার গলায় ফাঁসির দড়ি পরতো। আমাদের সেই ঝুঁকির বিনিময়ে আজকে আপনি প্রধান বিচারপতির চেয়ার অলংকৃত করছেন। এসব ত্যাগ মনে রেখে আপনাকে বিচারপতি নিয়োগ করতে হবে।’