কেরানীগঞ্জে সড়ক ও জনপদের (সওজ) জমি আওয়ামী লীগ নেতার দখল থেকে উদ্ধার করেছে প্রসাশন।

শনিবার (২২ মার্চ) দুপুরে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নেতৃত্বে প্রায় অভিযান চালিয়ে প্রায় ৩২ শতাংশ জমি উদ্ধার করা হয়।

এর আগে, গত ২১ জানুয়ারি ‘নেপথ্যে উপবিভাগীয় প্রকৌশলী, ‘কেরানীগঞ্জে সওজের জমি গিয়ে খাচ্ছে আওয়ামী লীগ নেতা’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।

শনিবার দুপুরে কেরানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) রিনাত ফৌজিয়ার নেতৃত্বে সড়ক বিভাগ, সহাকারী কমিশনারসহ (ভূমি) সংশ্লিষ্টদের উপস্থিতিতে বুলডোজার, ভেকুসহ অন্যান্য সরঞ্জাম নিয়ে অভিযান পরিচালনা করে।

এ সময় ভূমিদস্যু ওয়াহিদ মেম্বারের দখলে থাকা একটি কালভার্টের ভেতর থেকে বালি-মাটি ভরাটের পাইপ, সড়কের সামনে অংশে বিপুল পরিমাণ পাইপ ধ্বংস করা হয়।

জানা গেছে, কেরানীগঞ্জে সড়ক ও জনপদ বিভাগের ঢাকা-মাওয়া-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ের হাসনাবাদ জোনের বিপুল পরিমাণ জমি স্থানীয় মেম্বার ও আওয়ামী লীগ নেতা ওয়াহিদ ও তার লোকজনের দখলে চলে গেছে। তার বিরুদ্ধে ছাত্র-জনতা হত্যা ও হত্যাচেষ্টাসহ পাঁচটি মামলা থাকলেও সওজের জায়গায় পাইপ স্থাপন করে সরকারি জমি ও অবৈধভাবে জমি ভরাটের অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে।

অভিযোগ উঠেছে, ওয়াহিদ মেম্বারের দখল বাণিজ্যের নেপথ্যে ইন্ধনদাতা কেরাণীগঞ্জ হাসনাবাদের সড়ক উপ-বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মোহাম্মদ হারুন অর রশিদ। এলাকাবাসী একাধিক অভিযোগ দিলেও কোনো পদক্ষেপ না নিয়ে উল্টো মৌখিকভাবে দক্ষিণ কেরাণীগঞ্জ আওয়ামী লীগের সদস্য ওয়াহিদকে অবৈধ বালু ভরাটের জন্য কাজ করার অনুমোদন দিয়েছে। এতে করে স্থানীয়দের মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ওয়াহিদ মেম্বার সাবেক কেরাণীগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান শাহীনের হাত ধরে সরকারি জমি ব্যবহার করে জোরপূর্বক বালু ভরাট, খাল, নালা ও বিল ভরাট করে আসছিলেন। এছাড়াও তার বিরুদ্ধে সরকারি বিলসহ সাধারণ মানুষের জমি দখলের অভিযোগ রয়েছে।

৫ আগস্ট শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার দিন ছাত্র-জনতার ওপর হামলা ও গুলি চালিয়ে হত্যা করেন ওয়াহিদ মেম্বার ও তার লোকজন। পরে নিহত ও আহতদের স্বজনরা তার নামে হত্যা ও হত্যাচেষ্টা মামলা করেন। মামলার পর ওয়াহিদ মেম্বার আত্মগোপনে থাকলেও প্রকাশ্যে তার ভাতিজা রুবেল ও আওয়ামী লীগ অন্যান্য নেতা বালু-ভরাটের জন্য সওজের জমিতে লোহার পাইপ স্থাপন করে বালু ভরাটের জন্য পুরোদমে কাজ চালিয়ে যাচ্ছিল।

দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো: আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, তেঘরিয়া ইউনিয়ন পরিষদের আওতাধীন বাঘৈর মৌজার জে এল নম্বর : ৪৩৭ (সিএস), ৮৭ (আর এস)। দাগ নম্বর ১৬১৮ (সিএস), ৮০১ (আর এস)। এল এ কেস নম্বর : ৪৮/১৯৭৬-১৯৭৭ দখলে থাকা ৩২ শতাংশ জমি উদ্ধার করা হয়েছে।

ভবিষ্যতে এ ধরনের অভিযান চলমান থাকবে বলে তিনি জানান।