আসন্ন পবিত্র রমজানে বৃহৎ পরিসরে ইফতার আয়োজন করতে যাচ্ছে মাস্তুল ফাউন্ডেশন। এ বছর রমজানে বাংলাদেশ ও ফিলিস্তিনের গাজার সংকটাপন্ন মানুষদের মিলিয়ে মোট ১০ লক্ষ রোজাদারকে ইফতার করানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে প্রতিষ্ঠানটি।
মাস্তুল ফাউন্ডেশনের টিম ঢাকার ৬টি এলাকা এবং দেশের বিভিন্ন জেলায় সুবিধাবঞ্চিত মানুষের দোরগোড়ায় ইফতার সামগ্রী পৌঁছে দিচ্ছে।
পাশাপাশি, যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজার মানুষের কাছেও এই মানবিক সহায়তার একটি বড় অংশ পৌঁছানো হচ্ছে।
দেশের সীমানা ছাড়িয়ে সুদান ও ফিলিস্তিনের গাজাতেও পরিচালিত হচ্ছে মাস্তুল ফাউন্ডেশনের এই মানবিক কার্যক্রম। ইতোমধ্যে মাস্তুল ফাউন্ডেশনের টিম গাজায় পৌঁছে রমজানের ইফতার সামগ্রী বিতরণ কার্যক্রম শুরু করেছে।
ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির আয়োজিত এক প্রেস কনফারেন্সে এসব তথ্য তুলে ধরেন মাস্তুল ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ সাখাওয়াত হোসেন, চিফ এক্সিকিউটিভ অফিসার আবু মোহাম্মদ কামরুজ্জামান এবং হেড অব ফিন্যান্স মাহবুবুর রহমান খান।
প্রেস কনফারেন্সে মাস্তুল ফাউন্ডেশন এর নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ সাখাওয়াত হোসেন জানান- “আমাদের সকল কার্যক্রম মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের উদ্দেশ্যে পরিচালিত। মাস্তুল ফাউন্ডেশন একটি অরাজনৈতিক ও জনকল্যাণমুখী প্রতিষ্ঠান। আমরা সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়, জয়েন্ট স্টক এবং এনজিও বিষয়ক ব্যুরোতে নিবন্ধিত। এছাড়া স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পুলিশ শাখা–২ থেকে বেওয়ারিশ লাশ দাফনের অনুমোদনপ্রাপ্ত। আমরা দেশ ও আন্তরজারিক ভাবে কাজ করে যাচ্ছি শুধু মাত্র আপনাদের সহযোগিতার মাধ্যমে। আমরা মাস্তুল ফাউন্ডেশন সরকারি বিধিবিধান মেনেই কাজ করছি।
মাস্তুল ফাউন্ডেশন এর চিফ এক্সিকিউটিভ অফিসার আবু মোহাম্মদ কামরুজ্জামান বলেন, এবারের রমজানে বাংলাদেশ ও গাজায় ১০ লক্ষ রোজাদারের ইফতার আয়োজন করছে মাস্তুল ফাউন্ডেশন। এই লক্ষ্য পূরণে আমরা আমাদের শুভাকাঙ্খী ও গণমাধ্যমকর্মীদের সহযোগিতা কামনা করছি। আপনারা আমাদের পাশে থাকুন এবং এই মানবিক উদ্যোগ সফল করতে সহায়তা করুন। আমরা আপনাদের আশ্বস্ত করতে চাই, মাস্তুল ফাউন্ডেশন সম্পূর্ণ স্বচ্ছতার সঙ্গে আন্তর্জাতিক প্রোটোকল মেনে কাজ করছে। বর্তমানে আমাদের মিশরে অফিস রয়েছে। আমরা একাধিকবার ঢাকাস্থ ফিলিস্তিন দূতাবাসের মাধ্যমে অর্থ প্রেরণ করেছি এবং গাজায় কার্যক্রম পরিচালনাকারী আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ও নির্ভরযোগ্য হিউম্যানিটারিয়ান এইড অর্গানাইজেশনগুলোর সঙ্গে অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে আমাদের সংগৃহীত ত্রাণ ও আর্থিক সহায়তা পৌঁছে দিচ্ছি।”
মাস্তুল ফাউন্ডেশন এর হেড অফ ফিন্যান্স মাহবুবুর রহমান খান বলেন, “মাস্তুল ফাউন্ডেশনের সকল কার্যক্রম স্থানীয় দেশীয় অনুদানের মাধ্যমে পরিচালিত হয় এবং প্রতিটি কার্যক্রম প্রতিবছর যথাযথভাবে অডিট করা হয়। আমরা আর্থিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে থাকি।”
আমরা বিশ্বাস করি, মানবতা কোনো সীমানা মানে না। বাংলাদেশের মানুষের পাশাপাশি গাজার মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। আপনাদের অনুদান এবং সহযোগিতা এই লক্ষ্য অর্জনে আমাদের বড় শক্তি। স্বচ্ছতা বজায় রাখতে আমরা অঙ্গীকারবদ্ধ।
মাস্তুল ফাউন্ডেশন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক নিবন্ধিত একটি স্বনামধন্য ও সেবামূলক জাতীয় প্রতিষ্ঠান। বিগত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে মাস্তুল ফাউন্ডেশন দেশের সুবিধাবঞ্চিত মানুষ ও শিশুদের জীবনমান উন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করে আসছে। আমাদের মানবিক কার্যক্রমের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো: করোনা মহামারির সময় দাফন সেবা প্রদান; ২০২২ ও ২০২৪ সালের ভয়াবহ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে জরুরি ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ; এবং ২০২৩ সালের তুরস্কের ভূমিকম্পে বাংলাদেশের জনগণের পক্ষ থেকে মানবিক সহায়তা প্রদান। মাস্তুল ফাউন্ডেশনের অন্যতম সফল প্রকল্প "যাকাত স্বাবলম্বী" এর মাধ্যমে অসংখ্য অসহায় ব্যক্তি ও যুব সমাজের জন্য স্থায়ী কর্মসংস্থান সৃষ্টি হচ্ছে, যা তাদের আত্মনির্ভরশীল করে তুলছে।
রাজধানীর বিভিন্ন প্রান্তে প্রতিদিন বিনামূল্যে অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিতদের একবেলার খাবার পৌঁছে দিচ্ছে. এছাড়াও, ঢাকার হাজারীবাগ বারইখালি এলাকায় নিজস্ব মাদ্রাসা, সেল্টারহোম, এতিমখানা ও মেহমানখানা রয়েছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের(এনবিআর) আইন অনুসারে মাস্তুল ফাউন্ডেশনকে প্রদত্ত যেকোনো পরিমাণ যাকাত, দান বা সাদাকা আয়করমুক্ত। অর্থাৎ মাস্তুল ফাউন্ডেশনে দান করা অর্থ; দাতাদের জন্য আয়কর রেয়াত হিসেবে গণ্য হবে। গেজেট : mastul.net/gov-tax-rebate