দীর্ঘ দু’বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে একটি গায়েবি মামলায় অব্যাহতি পেল জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ১১ জন শিক্ষার্থী। রাজধানীর কোতয়ালী থানায় ২০২২ সালে করা মামলায় পুলিশের তদন্তে অভিযোগের সত্যতা না পাওয়ায় চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেয়া হয়। আদালত গ্রহণ করে আসামিদেরকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেন।
মঙ্গলবার (২২ এপ্রিল) ঢাকার বিশেষ ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিচারক মো: জাকির হোসেন গালিব এ আদেশ দেন।
অব্যাহতি পাওয়া শিক্ষার্থীদের একজন, হিসাববিজ্ঞান বিভাগের রউসন-উল ফেরদৌস বলেন, ‘ঢাকায় ভর্তি হয়েই এমন ঘটনায় জড়িয়ে পড়ব ভাবিনি। এক বছর ধরে শুধু কষ্ট আর লড়াইয়ের মধ্যে দিয়ে যেতে হয়েছে। আমার বাবার হার্ট অ্যাটাকও হয়েছিল এই খবরে।’
ইতিহাস বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ইস্রাফিল হোসেন বলেন, ‘আমাদেরকে সম্পূর্ণ অন্যায়ভাবে গভীর রাতে মেস থেকে উঠিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। প্রথমত, পুলিশ আমাদেরকে বিনা অপরাধে, আজগুবি অভিযোগে গ্রেফতার দেখিয়েছিল, দ্বিতীয়ত, তৎকালীন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কোনো তদন্ত প্রতিবেদন ছাড়াই একপাক্ষিকভাবে আমাদেরকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার আদেশ প্রদান করে। কোনো অপরাধ ছাড়াই আমরা যে জেল খেটেছি, জীবন থেকে একটি বছর হারিয়ে গেছে, ক্যারিয়ার নিয়ে হতাশার মধ্যে ছিলাম এর কোনো কিছু কি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আমাদেরকে ফিরিয়ে দিতে পারবে?’
আরেক শিক্ষার্থী শাহিন ইসলাম বলেন, ‘ঢাকায় আসার মাত্র ২৪ দিনের মাথায় আমাকে এক বছর আগের মামলার আসামি করা হয়। কোনো প্রমাণ ছাড়াই আমাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছিল।’
২০২২ সালের ২৪ মার্চ পুরান ঢাকার মিটফোর্ড এলাকায় দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে আয়োজিত এক মিছিলে অংশ নেয়ার অভিযোগে এই শিক্ষার্থীদের ছাত্রশিবির সংশ্লিষ্টতার সন্দেহে গেন্ডারিয়া থেকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনের ১৫(৩) ধারায় মামলা রুজু করা হয়।
তবে তদন্তে এসব অভিযোগের কোনো ভিত্তি পাওয়া যায়নি বলে পুলিশ ২০২৪ সালের অক্টোবরে আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করে।
আসামিদের পক্ষ থেকে মামলা পরিচালনা করেন অ্যাডভোকেট আবদুর রাজ্জাক অ্যান্ড অ্যাসোসিয়েটস। তিনি বলেন, ‘এই মামলা ছিল উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও ভিত্তিহীন। আমরা শুরু থেকেই বলেছিলাম এটি গায়েবি মামলা, আর আজ আদালতের রায়ে সেটিই প্রমাণিত হল।’
অব্যাহতি পাওয়া শিক্ষার্থীরা হলেন হিসাববিজ্ঞান বিভাগের রউসন-উল ফেরদৌস ও শাহিন ইসলাম, বাংলা বিভাগের শ্রাবণ ইসলাম রাহাত, ব্যবস্থাপনা বিভাগের ফাহাদ হোসেন, মনোবিজ্ঞান বিভাগের আব্দুর রহমান অলি, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের ইব্রাহিম আলী, মেহেদী হাসান ও ওবায়দুল, ইতিহাস বিভাগের ইসরাফিল, লোকপ্রশাসন বিভাগের মেহেদী হাসান এবং সংগীত বিভাগের আল মামুন রিপন।