বিগত বছরগুলোতে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) বৈষম্যমূলক নীতির প্রতিবাদে এবং আবাসন ভাতা, হল নির্মাণ, জকসুর রোডম্যাপ ঘোষণাসহ চার দফা দাবিতে বিক্ষোভ করেছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

মঙ্গলবার (৬ মে) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শান্ত চত্বর থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করে বিজ্ঞান ভবন, সামাজিক বিজ্ঞান ভবন ঘুরে রফিক ভবনের সামনে এসে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে মিলিত হয়।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, ‘দেশের প্রতিটি সঙ্কটে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অগ্রণী ভূমিকা রাখলেও বাজেট বণ্টনের সময় ইউজিসি আমাদের পিছিয়ে রাখে। দীর্ঘদিন ধরে বৈষম্যের শিকার হচ্ছি আমরা। এবার আর ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হতে রাজি নই। দাবি আদায় না হলে বৃহত্তর আন্দোলনের দিকে যেতে বাধ্য হবো।’

উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী এ কে এম রাকিব বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় যদি বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো না চলে, তবে তা বন্ধ করে দেয়াই ভালো।’

ইসলামিক ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের শিক্ষার্থী সোহাগ বলেন, ‘আমরা বেশি কিছু চাইনি—শুধু থাকার জায়গা আর খাবারের নিশ্চয়তা চেয়েছি। ইউজিসির প্রশাসনিক আচরণ সব সময়ই আমাদের প্রতি বৈষম্যমূলক। এবার আর চুপ থাকব না।’

মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘গত ২০ বছর ধরে আমরা অবহেলার শিকার। ৫ আগস্টের পরেও আমাদের প্রাপ্য বুঝিয়ে দেয়া হয়নি। এবার সুষ্ঠুভাবে না দিলে আন্দোলনের মাধ্যমেই আদায় করব।’

পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের মাসুদ রানা বলেন, ‘এ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সকল আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছে। ইউজিসি চেয়ারম্যান পদে বসতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ত্যাগ রয়েছে। সুতরাং বৈষম্য বন্ধ করুন। আমাদের আবাসনসহ চার দাবি মেনে নিন।‘

শিক্ষার্থীদের দাবিসমূহ হলো- ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেটে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বরাদ্দ বৃদ্ধি এবং অন্তত ৭০ শতাংশ শিক্ষার্থীর জন্য আবাসন ভাতা নিশ্চিত করা, দ্বিতীয় ক্যাম্পাস নির্মাণ এবং পুরান ঢাকায় ড. হাবিবুর রহমান হল ও বাণী ভবনের নির্মাণকাজ আগামী ১০ মের মধ্যে শুরু করা।

এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন প্রতি ১৫ দিন অন্তর দ্বিতীয় ক্যাম্পাস ও হল নির্মাণ কার্যক্রমের অগ্রগতি মুক্তমঞ্চে ব্রিফ করবে—এমন বাধ্যবাধকতা আরোপ এবং আগামী ১৫ মের মধ্যে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জকসু) নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণা।

এদিকে দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত এ আন্দোলন চলবে বলে জানান শিক্ষার্থীরা।