তিন দফা দাবিতে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন অভিমুখে লং মার্চে অংশ নেয়া জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশ লাঠিচার্জ, টিয়ারগ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করেছে। এতে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকসহ কমপক্ষে ৫০ জন আহত হয়েছেন। এদের মধ্যে ১০ জনকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

আজ বুধবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সহস্রাধিক শিক্ষার্থী প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনার উদ্দেশে পদযাত্রা শুরু করেন। প্রথম গুলিস্তান মাজার গেট এবং পরে মৎস্য ভবন এলাকায় পুলিশের বাধা অতিক্রম করে শিক্ষার্থীরা কাকরাইল মসজিদ ক্রসিং মোড়ে পৌঁছালে পুলিশ অতর্কিতভাবে টিয়ারগ্যাস, সাউন্ড গ্রেনেড ও গরম পানি ছুড়ে দেয়। এ সময় শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকসহ কমপক্ষে ৫০ জন আহত হন। তাদের ঢাকা মেডিক্যালে পাঠানো হলে ১০ জনকে ভর্তি করা হয়।

আহত শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ড. মো: রইছ উদ্দিন বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের এই হামলার বিচার এবং আমাদের দাবির বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত আমরা এখানেই অবস্থান করব।’

এ ঘটনার প্রতিবাদে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা কাকরাইল মোড়ে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ চালিয়ে যান।

জবির শিক্ষার্থীরা যে তিন দফা দাবিতে লং মার্চ করেন সেগুলো হলো- বিশ্ববিদ্যালয়ের ৭০ শতাংশ শিক্ষার্থীর জন্য ২০২৫-২৬ অর্থবছর থেকে আবাসন বৃত্তি চালু করতে হবে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত পূর্ণাঙ্গ বাজেট কোনো ধরনের কাটছাঁট না করে অনুমোদন করতে হবে। এছাড়া, জবির দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের কাজ পরবর্তী একনেক সভায় অনুমোদন করে অগ্রাধিকার প্রকল্প হিসেবে বাস্তবায়ন করতে হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. তাজাম্মুল হক বলেন, ‘আমার শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশ যেভাবে হামলা করেছে, তা অমানবিক। সহকারী প্রক্টরের ওপরও আঘাত করেছে পুলিশ। আমরা এর তীব্র প্রতিবাদ জানাই।’

এদিকে রমনা জোনের ডিসি মাসুদ বলেন, ‘যমুনার সামনে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই।’