ডিপ্লোমা কৃষিবিদদের জন্য স্বতন্ত্র কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনসহ আট দফা দাবিতে খামারবাড়ি অবরুদ্ধ করে রেখেছে এগ্রিকালচার ট্রেনিং ইনস্টিটিউটের (এটিআই) শিক্ষার্থীরা।

সোমবার সকাল ৮টা থেকে এগ্রি ব্লকেড কর্মসূচির অংশ হিসেবে রাজধানীর খামারবাড়ির কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের (ডিএই) মূল গেট বন্ধ করে দিয়েছে। এ কারণে খামারবাড়ির ভেতরে প্রবেশ করতে পারেননি কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী। বেলা সোয়া ১২টায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ডিএই’র মহাপরিচালক ছাইফুল আলমসহ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বাইরে অপেক্ষা করতে দেখা গেছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, খামারবাড়ির মূল গেট আটকে দিয়ে ভেতরে বিক্ষোভ করছেন কয়েক শ’ শিক্ষার্থী। ডিএই, কৃষি বিপণন অধিদফতর, কৃষি তথ্য সার্ভিসের কার্যালয় এই খামারবাড়িতে। এসব অফিসের কাউকেই অফিসে ঢুকতে দেয়া হয়নি।

জানা গেছে, কৃষিতে দক্ষ জনশক্তি তৈরি করার জন্য বাংলাদেশে সরকারি ১৮টি কৃষি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটসহ ২৬০টি বেসরকারি কৃষি কলেজ রয়েছে, যেখানে কৃষিতে চার বছরের ডিপ্লোমা কোর্সে অধ্যয়ন করা হয়। সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে মিলিয়ে প্রায় ২৫ হাজার শিক্ষার্থী রয়েছে।

আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো হলো, ডিপ্লোমা কৃষিবিদদের পাবলিক কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের সুযোগ দিতে হবে। উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাকে দ্বিতীয় শ্রেণির কর্মচারী হিসেবে গেজেট করে প্রজ্ঞাপন জারি করতে হবে। প্রতিবছর নিয়োগের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে হবে এবং কৃষি ডিপ্লোমা শিক্ষার মান উন্নয়নের জন্য শিক্ষক সঙ্কট দূর করতে হবে।

বাকি দাবিগুলো হলো, কৃষি ডিপ্লোমা শিক্ষাকে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের (ডিএই) অধীন থেকে বের করে সম্পূর্ণভাবে কৃষি মন্ত্রণালয়ের আলাদা প্রতিষ্ঠান করতে হবে। সব কৃষি গবেষণাপ্রতিষ্ঠানে সহকারী বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা পদটি শুধু ডিপ্লোমা কৃষিবিদদের জন্য সংরক্ষিত করতে হবে। ডিপ্লোমা কৃষিবিদদের বেসরকারি চাকরির ক্ষেত্রে ন্যূনতম দশম গ্রেডের পে-স্কেলে বেতন দিতে হবে। কৃষি ডিপ্লোমা শিক্ষার্থীদের মাঠ সংযুক্তি ভাতা প্রদান করতে হবে এবং উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের চাকরিতে প্রবেশের পর ছয় মাসের ফাউন্ডেশন ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থা করতে হবে।

এদিকে আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখতে খামারবাড়ির সামনে বিপুল সংখ্যক সেনাবাহিনী ও পুলিশ সদস্য দেখা গেছে। আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, উচ্চশিক্ষার সুযোগসহ আট দফা দাবিতে তারা দীর্ঘ দিন ধরে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন। আন্দোলনের অংশ হিসেবে আজ সারাদেশের কৃষি সংশ্লিষ্ট অফিস গুলোতে এগ্রি ব্লকেড কর্মসূচি বাস্তবায়ন হচ্ছে।

ডিএই’র ডিজি ছাইফুল আলম জানান, ছাত্রদের আট দফা দাবির অধিকাংশই কৃষি মন্ত্রণালয় নীতিগতভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কিছু দাবি রয়েছে যা আমাদের মন্ত্রণালয়ের সাথে সম্পৃক্ত নয়। তার সাথে ছাত্রদের সাথে আমরা বসার ব্যপারে প্রস্তাব দিলেও তারা বসতে রাজি হচ্ছে না।