ফিলিস্তিনের গাজায় ইসরাইলি গণহত্যার প্রতিবাদে ‘মার্চ ফর প্যালেস্টাইন’ কর্মসূচি পালন করেছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি)।

আজ বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাস্কর্য চত্বর থেকে শুরু হওয়া এক বিক্ষোভ মিছিল রায়সাহেব বাজার মোড় হয়ে তাঁতিবাজার মোড়ে গিয়ে শেষ হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অনুরোধে মিছিলটি সেখান থেকে শান্তিপূর্ণভাবে ক্যাম্পাসে ফিরে আসে।

পরে ভাষা শহীদ রফিক ভবনের নিচে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তারা ইসরাইলের গণহত্যার তীব্র নিন্দা জানান এবং ফিলিস্তিনের জনগণের প্রতি সংহতি জানান। তারা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকার সমালোচনা করেন এবং সৌদি আরবের নীরবতার নিন্দা জানান।

সমাবেশ শেষে অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বিল্লাল হোসাইনের নেতৃত্বে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একটি প্রতিনিধি দল ঢাকায় অবস্থিত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের দূতাবাস এবং বাংলাদেশ সরকারের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বরাবর একটি স্মারকলিপি প্রদান করেন।

সমাবেশে বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদ, জবি শাখার যুগ্ম আহ্বায়ক নূর নবী বলেন, ‘মুসলিম বিশ্ব আজ নীরব। অনেক মুসলিম নেতা যেন মোসাদের অ্যাজেন্টের মতো কাজ করছেন। আমরা বাংলাদেশ থেকে তাদের উদ্দেশ্যে বলতে চাই- তোমাদের আমরা বয়কট করলাম। পাশ্চাত্য নেতারা মুখে মানবতার কথা বলেন, অথচ তারাই ফ্যাসাদ সৃষ্টি করে হাজার হাজার মানুষ হত্যা করছে। এই গণহত্যার দায় তাদেরই নিতে হবে।’

ছাত্র-অধিকার পরিষদের সভাপতি রাকিব বলেন, ‘ইন্টারিম সরকারকে আহ্বান জানাই- সরকারিভাবে ইসরাইলি পণ্য বয়কট করুন। না হলে জনগণ নিজেরাই তা বয়কট করবে। একইসাথে দক্ষ জনশক্তি তৈরি করে ইসরাইলি পণ্যের বিকল্প উৎপাদন করতে হবে।’

বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির, জবি শাখার সেক্রেটারি রিয়াজুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা মুসলিম জাতি, খালিদ বিন ওয়ালিদের উত্তরসূরি। কিন্তু আমরা তা ভুলে গেছি। আজ আমরা শুধু ফতোয়াবাজিতে ব্যস্ত, যার সুযোগে ইহুদি-খ্রিস্টানরা মুসলিম ভাই-বোনদের হত্যা করছে। আমি মুসলিম যুবকদেরকে বানিজ্যিক জিহাদ হিসেবে ইসরাইলি পণ্যের বিকল্প বিভিন্ন কোম্পানি চালুর উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানাচ্ছি।’

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের নেতা হিমেল বলেন, ‘ইসরাইলের আগ্রাসন যুগের পর যুগ ধরে চলছে। স্বাধীনতার নামে তারা ফিলিস্তিনে নৃশংসতা চালিয়ে যাচ্ছে। তথাকথিত শান্তিকামী জাতিসঙ্ঘ, ওআইসি এবং পাশ্চাত্য বিশ্ব নিশ্চুপতার ফলেই আজ গাজায় ইসরাইলির হিংস্রতা ভয়াবহ রুপ ধারণ করেছে। আমরা মুসলিম জাতীয়তাবাদে বিশ্বাসীরা এটা কখনোই মেনে নিব না, সবার আগে মুসলিম জাতীয়তাবাদ।’

সমাবেশে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. রইছ উদ্দীন বলেন, ‘ইসরাইলি গণহত্যার মদদদাতা যুক্তরাষ্ট্র। এই গণহত্যা বন্ধে আমরা মার্কিন দূতাবাসে স্মারকলিপি দেব। একইসাথে সৌদি আরবের নিস্ক্রিয় ভূমিকার কারণে তাদের দূতাবাস এবং বাংলাদেশের ৯০ ভাগ মুসলমানের দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়েও স্মারকলিপি প্রদান করা হবে।’

অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন, রাজনৈতিক ছাত্রসংগঠন ও সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।