এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় বরিশাল শিক্ষা বোর্ডে এবার পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৬০ দশমিক ৩৫ শতাংশ। এ বছর জিপিএ-৫ পেয়েছে ২ হাজার ৭৭৮ জন শিক্ষার্থী। গত বছরের তুলনায় পাসের হার বাড়লেও কমেছে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা। বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের ছয় জেলার মধ্যে পাসের হারে বরাবরের মতো এবারো শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে পিরোজপুর। অন্যদিকে সবচেয়ে কম পাসের হার ভোলা জেলায়।
সোমবার (১০ আগস্ট) সকাল ১০টার দিকে বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের ফলাফলের পরিসংখ্যান ঘোষণা করেন বোর্ডের সচিব অধ্যাপক মো: আবদুস সালাম। এ সময় উপস্থিত ছিলেন পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক শরীফ মোর্শেদ রেজা।
বোর্ডের প্রকাশিত ফলাফলের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এ বছর বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয় মোট ৮০ হাজার ৪৫৮ জন শিক্ষার্থী। এর মধ্যে ছাত্র ৩৭ হাজার ৫৪৫ জন এবং ছাত্রী ৪২ হাজার ৯১৩ জন। পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে ৪৮ হাজার ৫৫৫ জন। উত্তীর্ণদের মধ্যে ছাত্র ১৯ হাজার ৯৫৫ জন এবং ছাত্রী ২৮ হাজার ৬০০ জন।
ফলাফলে দেখা গেছে, পাসের হার ও জিপিএ-৫—দুই ক্ষেত্রেই ছেলেদের তুলনায় মেয়েরা এগিয়ে রয়েছে।
পাসের হারে শীর্ষে পিরোজপুর
বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের ছয় জেলার মধ্যে এবারো পাসের হারে প্রথম হয়েছে পিরোজপুর জেলা। এ জেলার পাসের হার ৭০ দশমিক ৭২ শতাংশ। গত বছর পিরোজপুরে পাসের হার ছিল ৬৫ দশমিক ৩৮ শতাংশ।
৬২ দশমিক ৯১ শতাংশ পাসের হার নিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে বরগুনা। গত বছর এ জেলায় পাসের হার ছিল ৫০ দশমিক ৮৪ শতাংশ।
তৃতীয় অবস্থানে থাকা বরিশাল জেলার পাসের হার ৬১ দশমিক ৭২ শতাংশ। গত বছর এ হার ছিল ৫৭ দশমিক ২০ শতাংশ।
চতুর্থ অবস্থানে থাকা ঝালকাঠি জেলার পাসের হার ৫৮ দশমিক ০৩ শতাংশ। গত বছর ছিল ৫১ দশমিক ৭৭ শতাংশ।
পঞ্চম অবস্থানে থাকা পটুয়াখালী জেলার পাসের হার ৫৭ দশমিক ১০ শতাংশ। গত বছর এ হার ছিল ৫৫ দশমিক ৭২ শতাংশ।
আর ছয় জেলার মধ্যে সর্বনিম্ন ৫৩ দশমিক ৭১ শতাংশ পাসের হার নিয়ে ষষ্ঠ অবস্থানে রয়েছে ভোলা জেলা। গত বছর এ জেলায় পাসের হার ছিল ৫৪ দশমিক ৭০ শতাংশ।
অর্থাৎ পিরোজপুর ছাড়া বাকি পাঁচ জেলার পাসের হারও গত বছরের তুলনায় বেড়েছে। তবে ভোলায় সামান্য কমেছে পাসের হার।
বাড়ল পাসের হার, কমল জিপিএ-৫
গত বছর বরিশাল শিক্ষা বোর্ডে এসএসসি পরীক্ষায় পাসের হার ছিল ৫৬ দশমিক ৩৮ শতাংশ। এবার তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬০ দশমিক ৩৫ শতাংশে। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে পাসের হার বেড়েছে ৩ দশমিক ৯৭ শতাংশ।
তবে পাসের হার বাড়লেও জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে। এবার মোট ২ হাজার ৭৭৮ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে।
বিভাগভিত্তিক ফলাফলে সবচেয়ে বেশি জিপিএ-৫ পেয়েছে বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীরা। এ বিভাগে জিপিএ-৫ পেয়েছে ২ হাজার ৪৮৬ জন। মানবিক বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছে ২৬৮ জন এবং ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগ থেকে পেয়েছে ২৪ জন। ফলে মোট জিপিএ-৫ প্রাপ্তির বড় অংশই এসেছে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে।
শতভাগ পাস ১৫ বিদ্যালয়ে, শূন্য পাস ৫টিতে
এবার বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের অধীন ১ হাজার ৫১৫টি বিদ্যালয়ের মধ্যে মাত্র ১৫টি বিদ্যালয়ের সব পরীক্ষার্থী পাস করেছে। গত বছর শতভাগ পাস করা বিদ্যালয়ের সংখ্যা ছিল ১৭টি। অর্থাৎ এবার শতভাগ পাস করা বিদ্যালয়ের সংখ্যা কমেছে দুটি।
শতভাগ পাস করা ১৫ বিদ্যালয়ের মধ্যে বরিশাল জেলায় সাতটি, পিরোজপুরে তিনটি, বরগুনায় দুটি, ভোলায় দুটি এবং ঝালকাঠিতে একটি বিদ্যালয় রয়েছে। পটুয়াখালী জেলায় কোনো বিদ্যালয় শতভাগ পাসের তালিকায় নেই।
বোর্ডের তথ্যমতে, ৯৩৯টি বিদ্যালয়ে ৫০ শতাংশের বেশি থেকে শতভাগের নিচে শিক্ষার্থী পাস করেছে। আর ৫৫৬টি বিদ্যালয়ে পাসের হার ৫০ শতাংশের নিচে।
সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয়, বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের তিন জেলার পাঁচটি বিদ্যালয় থেকে এবার কোনো শিক্ষার্থীই পাস করতে পারেনি। এর মধ্যে বরিশাল জেলার দুটি, ঝালকাঠির দুটি এবং পিরোজপুর জেলার একটি বিদ্যালয় রয়েছে।
শূন্য পাস করা বিদ্যালয়গুলোর মধ্যে ঝালকাঠি সদর উপজেলার সাওরাকাঠি নব আদর্শ বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে সাতজন এবং কাঠালিয়া উপজেলার বানাই রাবেয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে ছয়জন পরীক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। পিরোজপুর সদর উপজেলার পোরগোলা মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে পরীক্ষায় অংশ নেয় আটজন। বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার কেরামত গায়জাউদ্দীন নূরমোহাম্মদ উচ্চ বিদ্যালয় থেকে পাঁচজন এবং মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার পশ্চিম রতনপুর পঙ্কজ দেবনাথ উচ্চ বিদ্যালয় থেকে সাতজন পরীক্ষার্থী এবারের এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে। কিন্তু এসব বিদ্যালয়ের কোনো পরীক্ষার্থীই উত্তীর্ণ হতে পারেনি।
মেয়েদের সাফল্য বেশি
বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের এবারের ফলাফলে আরেকটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো—ছাত্রীদের সাফল্য। পরীক্ষায় অংশ নেয়া ৪২ হাজার ৯১৩ জন ছাত্রীর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ২৮ হাজার ৬০০ জন। অন্যদিকে ৩৭ হাজার ৫৪৫ জন ছাত্রের মধ্যে পাস করেছে ১৯ হাজার ৯৫৫ জন।
ফলে পাসের সংখ্যায় এবং সামগ্রিক ফলাফলে ছাত্রীরা এবারো ছাত্রদের তুলনায় এগিয়ে রয়েছে।
সব মিলিয়ে এবারের এসএসসি ফলাফলে বরিশাল শিক্ষা বোর্ডে একদিকে পাসের হার বেড়েছে, অন্যদিকে কমেছে জিপিএ-৫। জেলার হিসাবে পিরোজপুর আবারো সেরা অবস্থান ধরে রেখেছে। বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীরা জিপিএ-৫ পাওয়ার ক্ষেত্রে ব্যাপকভাবে এগিয়ে থাকলেও শতভাগ পাস করা বিদ্যালয়ের সংখ্যা কমেছে।
একইসাথে পাঁচটি বিদ্যালয়ে কোনো শিক্ষার্থী পাস না করায় এসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার মান, পাঠদান পদ্ধতি, শিক্ষক-শিক্ষার্থী অনুপাত ও শিক্ষা ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সামগ্রিক ফলাফলের পাশাপাশি পিছিয়ে থাকা বিদ্যালয়গুলোর ফলাফল বিশ্লেষণ করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া জরুরি।