নীলফামারীর কিশোরগঞ্জে স্কুল ফিডিং কর্মসূচির আওতায় পচা ও নিম্নমানের কলা গ্রহণ করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিতরণের অভিযোগে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকাকে কৈফিয়ত তলব করা হয়েছে।
উপজেলার গাড়াগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা মেরিনা খাতুনকে তিন কার্যদিবসের মধ্যে এ বিষয়ে জবাব দিতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
জানা গেছে, গত মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) গাড়াগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্কুল ফিডিং কর্মসূচির আওতায় সরবরাহ করা নিম্নমানের ও পচা কলা গ্রহণ করা হয়। পরে ওই কলা শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিতরণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে।
বিষয়টি জানার পর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা দফতরের সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা হাবিবুর রহমান বুধবার প্রধান শিক্ষিকা মেরিনা খাতুনকে কৈফিয়ত তলব করে তিন কার্যদিবসের মধ্যে জবাব দিতে নির্দেশ দেন।
অভিযোগ রয়েছে, স্কুল ফিডিং কর্মসূচি বাস্তবায়নকারী সংস্থা ইকো সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (ইএসডিও) উপজেলার ১৭৫টি বিদ্যালয়ে কলা, রুটি, গুঁড়া দুধ ও বিস্কুট সরবরাহ করে। তবে বিভিন্ন বিদ্যালয়ে নিম্নমানের ও পচা কলা, পচা ডিম এবং বাসি রুটি সরবরাহের অভিযোগ রয়েছে।
এ ছাড়া সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের সাথে কয়েকজন প্রধান শিক্ষকের নিকটাত্মীয় জড়িত থাকায় কিছু বিদ্যালয়ে নিম্নমানের খাদ্যসামগ্রী সরবরাহ করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
এর আগে গত ৯ জুলাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরিফুর রহমান বাহাগিলী ইউনিয়নের নয়ানখাল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্কুল ফিডিং কর্মসূচি পরিদর্শনে গিয়ে শিক্ষার্থীদের জন্য সরবরাহ করা পচা ডিম দেখতে পান বলে জানা গেছে।
এদিকে, পুষনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পচা ডিম সরবরাহের ঘটনায় দুই সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হলেও ওই তদন্তের কোনো অগ্রগতি হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।
গাড়াগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা মেরিনা খাতুন বলেন, সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান পচা কলা দিলেও তিনি তা শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিতরণ করেননি। পরে ওই কলাগুলো পরিবর্তন করে নেয়া হয়েছে।
স্কুল ফিডিং কর্মসূচি বাস্তবায়নকারী সংস্থা ইএসডিওর ম্যানেজার সামছুল আলম বলেন, পচা কলা বিতরণের বিষয়টি তার জানা নেই। তিনি এ প্রতিবেদকের কাছ থেকেই বিষয়টি জানতে পেরেছেন।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মাহমুদা খাতুন স্কুল ফিডিং কর্মসূচিতে পচা কলা সরবরাহের বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট প্রধান শিক্ষিকাকে কৈফিয়ত তলব করে জবাব চাওয়া হয়েছে।