কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে সার সঙ্কটের আশঙ্কায় ডিলার পয়েন্টের বেড়া ভেঙে সার নিয়ে যাওয়ায় ঘটনা ঘটেছে।

রোববার দপুরের দিকে উপজেলার শিলখুড়ি ইউনিয়নের ধলডাঙ্গা বাজার এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। এতে থমথমে পরিবেশ সৃষ্টি হয়। পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

জানা গেছে, রোববার দুপুরের দিকে শিলখুড়ি ইউনিয়নের বিসিআইসির অনুমোদিত সার ডিলার মেসার্স শাহ আমানত এন্টারপ্রাইজে সার বিতরণের উদ্যোগ নেয়। এ সময় ক্ষুব্ধ কৃষকরা মেসার্স শাহ আমানত এন্টারপ্রাইজের টিনের বেড়া ভেঙে প্রায় ১৭০ বস্তা সার নিয়ে যান। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হলে ক্ষুব্ধ কৃষকরা ৩০ বস্তা সার ফেরত দিয়ে যায়।

অপরদিকে সার নিতে এসে খালি হাতে ফেরত যাওয়া কয়েকজন কৃষক বলেন, কয়েকদিন যাবত সারের জন্য ঘুরছি। সার পাওয়া যাচ্ছে না। সারের ডিলার ইউনিয়নের জন্য বরাদ্দ সারের অর্ধেক খুচরা ব্যাবসায়ীদের কাছে বিক্রি করে দেয়। এতে কৃষকরা তাদের চাহিদা মতো সার পান না। যে সারের বস্তার দাম ১ হাজার ৩৫০ টাকা ব্যবসায়ীরা সেই সারের বস্তা ১ হাজার ৮০০ থেকে ৯০০ টাকায় বিক্রি করে। জমিতে সার দিতে না পাওয়ায় ফসলের ক্ষতি হচ্ছে।

মেসার্স শাহ আমানত এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী তাইফুর রহমান মুকুল বলেন, দুপুরে সার বিতরণের প্রস্তুতি চলছিল। এ সময় কয়েকজন ব্যক্তি এসে আমাকে অবরুদ্ধ করে। পরে সার নিতে আসা ব্যক্তিরা ডিলার পয়েন্টের বেড়া ভেঙে প্রায় ১৪৩ বস্তা ডিএপি ও ২৪ বস্তা এমওপি সার নিয়ে গেছে। সার লুটপাটের ঘটনায় মামলা করা হবে।

ভূরুঙ্গামারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজিম উদ্দিন বলেন, শিলখুড়ি ইউনিয়নে সার বিতরণ নিয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়েছে- এমন খবর পেয়ে পুলিশ পাঠানো হয়। সার নিতে আসা ব্যক্তিদের মনে আশঙ্কা ছিল পর্যাপ্ত সার নেই। পর্যাপ্ত পরিমাণের সার পাবেন না- এমন সন্দেহে এক ব্যক্তির নেতৃত্বে সার নিতে আসা ব্যক্তিরা লুটপাট চালিয়ে সারের বস্তা নিয়ে যান। সার নিয়ে যাওয়া ব্যক্তিরা যদি সারগুলো ফেরত দেয় তাহলে যাদের সারের অভাব রয়েছে তাদের মাঝে বিতরণ করা হবে। আর যদি ফেরত না দেয় তবে ভিডিও ফুটেজে দেখে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।