পাবনার চাটমোহর উপজেলার বড়াল নদীর পাড়ে বোঁথর গ্রামে তিন দিনব্যাপী ৭০০ বছরের পুরনো চড়ক পূজা ও মেলা শুরু হয়েছে।
রোববার (১৩ এপ্রিল) সকাল থেকে বিলচলন ইউনিয়নে এ উৎসব শুরু করা হয়। চড়ক পূজা ও মেলাকে কেন্দ্র করে বড়াল নদী পাড়ের হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষের মাঝে বিরাজ করছে উৎসবের আমেজ। প্রতি বছর চৈত্র সংক্রান্তি উপলক্ষে এই পূজা ও মেলা অনুষ্ঠিত হয়।
এ আয়োজনকে কেন্দ্র করে চড়ক বাড়ির মহাদেব মন্দির প্রাঙ্গণে আনা হয়েছে চড়ক গাছ। মঙ্গলবার পর্যন্ত চলবে মূল মেলা। বাংলাদেশ ছাড়াও ভারতের বিভিন্ন এলাকা থেকে পূজা ও মেলা দেখতে ভক্তরা এই মেলায় আসেন।
পূজার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয় পাঠ ঠাকুরের পাটে ধুপ দেয়ার মাধ্যমে। বোঁথর শিব মন্দির থেকে পাঠ ঠাকুর নিয়ে যাওয়া হয় বাড়িতে বাড়িতে। হয় ফুল ভাঙা ও কালী নাচ। আসনে বসানো হয় প্রতিমা। প্রায় ১৩ হাত লম্বা চড়ক গাছ পুকুর থেকে তুলে রাখা হয় মেলা প্রাঙ্গণে। পূজারিরা ফুল, দুধ, চিনি দিয়ে চড়ক গাছে পূজা দেন। মঙ্গলার্থে বাতাসা ছিটান মহাদেব মন্দিরের চালে। পরে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোরানো হয় চড়ক গাছ।
জানা গেছে, বান রাজার আমল থেকে, বোঁথরে চড়ক পূজা হয়ে আসছে। মাখন সান্যাল নামক একজন কাঠ ব্যবসায়ী প্রথম চড়ক গাছ প্রতিস্থাপন করেছিলেন। ভারতের আসাম থেকে তিনি কাঠ কিনে আনতেন। একবার তার কাঠের মধ্যে চড়কগাছের আগমন ঘটেছিল বোঁথরে। মাখন সান্যালের স্ত্রীকে স্বপ্নের মাধ্যমে দেবতা মহাদেব জানান চড়ক হয়ে তিনি এখানে এসেছেন। তাকে যেন স্থাপন করে পূজা দেয়া হয়। কালো বর্ণের গাছটিতে গরুর পায়ের ক্ষুর ও কোচের চিহ্ন রয়েছে। সেই তখন থেকে স্যান্যাল, আচার্য, হলদার, সুত্রধর পরিবার এ পূজা শুরু করেন। ভরন চালান, কালী নাচ, পাঁঠাবলি, ফুল ভাঙা, হাজরা ছাড়াসহ আরো অনেক আনুষ্ঠানিকতা হয় এ পূজাকে ঘিরে।
কালক্রমে অন্য ধর্মের উৎসুক মানুষও এ মেলায় আসতে শুরু করে। এখন মেলাটি উৎসবে পরিণত হয়েছে। পূজা উপলক্ষ্যে মেলায় নাগরদোলাসহ বিনোদনের অনেক উপকরণ পরিলক্ষিত হয়। বিভিন্ন পণ্যের পসরা সাজিয়ে বসেন দোকানিরা। দেশ-বিদেশের অনেক ভক্ত এ মেলায় আসেন। মনের বাসনা পূরণে অনেক ভক্ত মানত করে থাকেন। কেউ পাঁঠাবলি দেন, কেউ কবুতর উৎসর্গ করেন, কেউবা পূজার অর্ঘ সাজানো ভরন চালুন দেন। চালুন মাথায় দিয়ে মন্দিরের চার পাশ দিয়ে সাতপাক ঘুরে সাজানো চালুন মন্দিরে দিয়ে দেন। মেলা উপলক্ষে মেয়ে জামাই নাইওর আসে। দূর দূরান্তের স্বজনরা আসে। মেলার কয়েকদিন বিরাজ করে উৎসবের আমেজ।
মহাদেব মন্দির কমিটির সাধারণ সম্পাদক কিংকর সাহা জানান, সুন্দরভাবে চড়ক পূজা ও মেলা উদযাপন করা হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ সার্বক্ষণিক তৎপর রয়েছে। সুষ্ঠুভাবে মেলা সম্পন্ন করতে তিনি সকলের সহায়তা কামনা করেন।
চাটমোহর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মূসা নাসের চৌধুরী জানান, সুষ্ঠভাবে চড়ক পূজা ও মেলা উদযাপনে সকলের সহযোগিতা কামনা করেছেন।