চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুহাম্মদ ইনামুল হাছান ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাজমুন লায়েলকে একই দিনে বদলির আদেশ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (৮ জুলাই) বদলির আদেশ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ।

চট্টগ্রাম অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার মোহাম্মদ নুরুল্লাহ নূরী সাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইনামুল হাছানকে এবং সিনিয়র সহকারি কমিশনার (রাজম্ব) এস এম অনিক চৌধুরী সাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে লোহাগাড়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাজমুন লায়েলকে নতুন জায়গায় পদায়ন করা হয়।

প্রজ্ঞাপন দু’টি থেকে জানা যায়, ইনামুল হাছানকে চট্টগ্রামের লোহাগাড়া থেকে খাগড়াছড়ি জেলার দিঘিনালা উপজেলায় এবং নাজমুন লায়েলকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বাঞ্চারামপুর উপজেলায় স্বপদে পদায়ন করা হয়েছে।

লোহাগাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার পদে নতুন পদায়ন করা হয়েছে মো: সাইফুল ইসলামকে। তিনি বান্দরবানের রোয়াংছড়ি উপজেলার নির্বাহী অফিসার হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

এছাড়া লোহাগাড়া উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে মং এছেনকে। তিনি নোয়াখালী জেলার হাতিয়া উপজেলায় সহকারী কমিশনার (ভূমি) পদে কর্মরত ছিলেন।

এদিকে একইদিনে দুই কর্মকর্তাকে বদলির খবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে মিশ্র প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা গেছে। কেউ খুশি, আবার কেউ নাখোশ। একেকজন একেকভাবে তাদের মনের অভিব্যক্তি প্রকাশ করছেন।

জানা গেছে, কিছুদিন আগে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ইদ্রিস মিয়া এক সমাবেশে বলেছিলেন, ‘দক্ষিণ চট্টগ্রামে ইএনওগিরি করতে হলে বিএনপির কথা শুনতে হবে।’ এ নিয়ে ওই সময় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা তৈরি হয়েছিল। এরপর গত সপ্তাহে লোহাগাড়ায় একটি মুরগির ফার্মের আড়ালে গ্যাসের বোতলে হাওয়া-পানি ঢোকানোর আস্তানায় অভিযান চালান এসি ল্যান্ড নাজমুন লায়েল। ওই সময় অভিযুক্ত ইলিয়াসকে ভ্রাম্যমাণ আদালত ছয় মাসের কারাদণ্ড দেয়।

ইলিয়াস লোহাগাড়া উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম-আহ্বায়ক এবং কলাউজান ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক।

ইউএনও-এসি ল্যান্ড একযোগে বদলির ক্ষেত্রে এসব ঘটনার কোনো সম্পৃক্ততা আছে কি না তা নিয়েও আলোচনা চলছে স্থানীয়ভাবে।